নিজস্ব প্রতিবেদন:
নওগাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব রফিকুদ্দৌলা রাব্বীর (৫৯) মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোররাত সাড়ে ৩টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। তিনি কিডনী রোগে ভুগছিলেন।

এর আগে গত শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হলে রফিকুদ্দৌলা রাব্বীকে নওগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল রোববার দুপুরে তাঁকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর মৃত্যুর খবরে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

আজ সকালে রফিকুদ্দৌলার মরদেহ নওগাঁয় পৌঁছালে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে এক নজর দেখতে ছুটে আসেন। রাব্বী নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে সাংস্কৃতিক ব্যাক্তি হিসেবেই তিনি সর্বগ্রাহ্য ছিলেন।

রফিকুদ্দৌলা রাব্বী আবৃত্তি পরিষদ নওগাঁ ‘‘আপন’’-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এছাড়া সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদ, সাংস্কৃতিক সংগঠন কবি শাহ আলম চৌধুরী চারু পাঠ, হাতে খড়ি নওগাঁ, সংগীত নিকেতন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি নওগাঁ জেলা শাখা, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, নৃত্য সংগঠন নৃতাঞ্জলি একাডেমি, নৃত্য রং একাডেমী, জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ, বাংলাদেশ লোকজ সংস্কৃতি ফোরাম, শিশু বিকাশ নওগাঁ, ঐকতান নওগাঁ, সপ্তক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে নানাভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

সংস্কৃতিকর্মী রফিকুদ্দৌলা রাব্বী বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত আবৃত্তি শিল্পী ছিলেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি ছিলেন নওগাঁর বলিষ্ঠ অভিনয় ও আবৃত্তি শিল্পী।

গুণি এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের প্রথম নামাজে জানাজা সোমবার বাদ জোহর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বেলা আড়াইটায় তাঁর মরদেহ জেলার কেন্দ্রীয় মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বাদ আসর নওজোয়ান মাঠে দ্বিতীয় জানাজার শেষে রফিকুদ্দৌলা রাব্বীকে নওগাঁ কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাযায় সামাজিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।