অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী আরিফ কবির নিয়মিত সময়মতো অফিসে উপস্থিত হন না। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে বণ্টন করা হয় না এবং সেবার মানেও অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, আরিফ কবিরের বাবা আঙ্গুর মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে তিনি ছেলের জন্য চাকরি নিশ্চিত করেছেন বলে অনেকে মনে করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, আরিফ কবির সময়মতো ক্লিনিকে উপস্থিত হন না। নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে সাধারণ মানুষকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়। শুধু তাই নয়, সরকারি বরাদ্দকৃত ঔষধও রোগীরা ঠিকভাবে পান না। অনেক সময় চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের বলা হয়, "ঔষধ নেই," ফলে তারা বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হন। এতে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আরিফ কবির শুধু একজন ক্লিনিককর্মী নন, তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়েই তিনি এ চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিরও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ক্লিনিকের কিছু সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ঔষধ আত্মসাত করে বাজারে বিক্রির অভিযোগও বহুবার শোনা গেছে। ভুক্তভোগীরা মনে করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত করছে না, বরং সরকারের একটি ভালো উদ্যোগকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “কমিউনিটি ক্লিনিক হলো গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা। যদি এখানেই দুর্নীতি আর অবহেলা চলে, তাহলে গরিব মানুষ চিকিৎসা পাবে কোথায়?”
সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আরিফ কবিরের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলতে সাহস পান না। তবে গ্রামের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, সরকার ও প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।