
নওগাঁ জেলার মান্দা থানার (ওসি) মুনসুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফপ্তার বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজন প্রীতি ও মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে নির্দোষ ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা সহ নানা অনিমের অভিযোগ উঠেছে।
৫ই আগস্টে পর মান্দা থানায় যোগদান করেন ওসি মুনসুর রহমান। যোগদানের পর থেকেই কিছু দালালদের সাথে সখ্যতা করে মিথ্যা মামলা, অনিয়ম, ঘুষ নেওয়া সালিশ বাণিজ্য তদন্ত ও চার্জশিট বাণিজ্য সহ নানা অপকর্মের তথ্য ফাঁস হচ্ছে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে।
ভারশোঁ ইউনিয়নের আইওর পাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী জালাল আহমেদ, সাদেকুল ইসলাম সেলিম, ও মামুনুর রশিদ, বলেন গত ১৬/৪/২০২৫ তারিখে কিছু স্বার্থন্বেষী মহল তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাঙচুর লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ এর ঘটনা ঘটায় যার রীতিমতো পুরো উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর এস আই শামীম ও সুজন ঘটনাস্থান পরিদর্শন করেন কিন্তু এ ঘটনায় ওসি সাহেবের কাছে বারবার মামলা করার জন্য গেলেও তিনি কালখেপন করে হয়রানি করলেও মামলা নেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মান্দা উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানান, নির্বাচিত সরকারের এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান না থাকায় ধরাকে সরা করে খেয়াল খুশিমতো ফ্যাসিবাদ আখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষদের টাকার বিনিময়ে গ্রেফতারের অভিযোগ অনেকেই করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, আমার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা নিয়েছে গ্রেফতার করবে না বলে। কিন্তু কথা রাখেননি ওসি মুনসুর রহমান পরবর্তীতে ঠিকই গ্রেপ্তার করেছেন।
ছোট মুল্লুক গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন পিটিয়ে আমার হাত ভেঙে দেয় এ সময় আমার বাবা মায়ের স্ত্রী সহ চার জন আহত হয়।
নিরুপায় হয়ে থানায় গিয়েছিলাম মামলা দিতে কিন্তু ওসি সাহেব কোনমতেই মামলা নেননি বাধ্য হয়ে কোর্টে মামলা দিয়েছে। ভারশোঁ গ্রামের ডলি আক্তার জানান, মাদক অভিযানে আসে থানা পুলিশের লোকজন কিন্তু পুলিশের সাথে বহিরাগত ১৫-২০ জন লোক বাড়িঘর তল্লাশি করে নগদ প্রায় এক লক্ষ টাকা, টাচ মোবাইল, বাটন ফোন এবং জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়।
ডলি আক্তারের দাবি পুলিশ অভিযান চালাতেই পারে অপরাধ করলে ব্যবস্থা নিবে কিন্তু বাসা বাড়িতে ভাঙচুর টাকা পয়সা লুটপাট কেন করবে এ দায়ভার কে নিবে। খুর্দোবান্দাই খাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন বলেন, জমি সংক্রান্ত একটি বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছিলাম থানায়।
এক এএসআই এর মাধ্যমে তদন্ত করে দুই পক্ষকে থানায় ডেকে নিয়ে সালিশ বসার আগে পাঁচ হাজার টাকা না হলে সালিশে বসতে নারাজ দারোগা নিরুপায় হয়ে ৫হাজার টাকা দিয়েই সালিশে বসতে হয়েছে আমাকে। এ ব্যাপারে মান্দা পুলিশের এস আই শামীম হোসেন জানান, আইওর পাড়া বাজারের যে ঘটনা সেখানে তদন্তে গিয়েছিলাম।
পরে ভুক্তভোগীদের থানা এসে এজহার দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। মামলা কেন নেয়নি এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না। এব্যাপারে ঈমানদার থানার সদ্য বিদায়ী ওসি মনসুর রহমান বলেন, ওই ঘটনার তদন্ত করেছে কে তার নামটা বলেন, ওই ঘটনা আমার জানা নেই। এত বড় একটি ঘটনা যেখানে ৫ থেকে ৬টি দোকান লুটপাট ও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কয়েক মাস হয়ে গেছে এ বিষয়ে আমার মনে নেই। ভুক্তভোগীদের নিয়ে আসেন এখনই মামলা করে দিচ্ছি।