প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৪:১৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ২:০৯ পি.এম
রাজশাহীতে অবৈধ পুকুর ভরাট: ডিসি–পরিবেশ অধিদপ্তর–পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে বড় অভিযান।
রাজশাহীতে পুকুর ভরাটকারীদের পাল্টা জবাব দিতে প্রশাসনের যৌথ অভিযান
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর মোল্লাপাড়া পুরাতন বাঁশের আড্ডার পাশে প্রায় ৫ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর রাতের অন্ধকারে বালু ফেলে ভরাট করে ফেলেছে প্রভাবশালী একটি মহল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিভাগীয় কমিশনার ডা. আ. ন. ম. বজলুল রশিদ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পরই ডিসি অফিস, ভূমি অফিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে ২৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় বড় পরিসরের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সরকারি খরচে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও জনবল নিয়ে অভিযানের কাজ শুরু হয়। ভরাট হয়ে যাওয়া পুকুরটি পূর্ণ খননের মাধ্যমে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ এখন চলছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে ১৫–২০টি ড্রাম ট্রাকে সারারাত বালু এনে পুকুর ভরাট করা হচ্ছিল। এলাকায় প্রভাবশালী কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির শেল্টারে ভরাট কাজ চলছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় আপোষ হয়। এর আগেই এসি ল্যান্ড কার্যালয় থেকে ভরাট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়; জমির মালিকদের সতর্কও করা হয়েছিল। তবু নির্দেশ অমান্য করে আবারও রাতের আঁধারে দ্রুতগতিতে ভরাট কাজ চালানো হয়।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান। সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম রাকিবুল হাসান, বোয়ালিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফ হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন, সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাশিদুল ইসলাম।
বোয়ালিয়া এসি ল্যান্ড মো. আরিফ হোসেন বলেন, “এর আগে ভরাট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলাম। তবুও গোপনে রাতের অন্ধকারে পুকুরটি ভরাট করা হয়। বিভাগীয় কমিশনার স্যারের আদেশে ডিসি মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান চলছে। পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার খননকাজ শুরু হয়েছে এবং সম্পূর্ণ পুনঃখননে আরও এক-দুই দিন সময় লাগতে পারে।” তিনি জানান, উদ্ধৃত বালি আলামত হিসেবে জব্দ থাকবে এবং পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে—এটি উন্নয়ন কাজে ব্যবহার হবে কি নিলামে বিক্রি করা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন বলেন, “সরেজমিনে এসে ভরাটকারীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। আশপাশের লোকজনও ভয়ে কারা ভরাট করেছে তাদের নাম বলতে চাইছে না। তবে তদন্ত চলছে, কারা এ কাজে জড়িত তা বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান যে, পুকুর ভরাটে যেসব জমির মালিক জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও মামলা প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আইন সমাজ লিমিটেড কতৃর্ক সম্পাদিত ও প্রকাশিত এবং আল-ফালাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত অফিস: আলাউদ্দিন ভিলা, ২০৬ ফকিরের পুল ১ম লেন মতিঝিল, ঢাকা ১০০০। যোগাযোগ: ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২,