রাজশাহীর ঐতিহ্য ধ্বংসের অভিযোগ: সন্দীপ কুমার রায়ের রাজবাড়ি ভাঙার প্রতিবাদে স্মারকলিপি
‘ঐতিহ্য রক্ষা করুন’—রাজশাহীর নাগরিক সমাজের তিন দফা দাবি
মোঃ তানজিলুল ইসলাম লাইক, রাজশাহীঃ
রাজশাহীর দরগাপাড়া মৌজায় অবস্থিত দিঘাপতিয়ার রাজা হেমেন্দ্র কুমার রায়ের ছেলে সন্দীপ কুমার রায়ের নির্মিত ঐতিহাসিক রাজবাড়িসহ নগরের অমূল্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে তিন দফা দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন রাজশাহীর নাগরিক সমাজ, গবেষক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মীরা।
আজ বুধবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন রাজশাহীর ইতিহাস-ঐতিহ্য গবেষক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সাক্ষাৎকালে বক্তারা রাজশাহীর ঐতিহ্য ধ্বংসের নানা উদাহরণ তুলে ধরে বলেন- রাজশাহী বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন নগরী, যার চারপাশে ছড়িয়ে আছে পুন্ড্র সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ, বিজয় সেনের বিজয়পুর, রামপুর-বোয়ালিয়ার ইতিহাসসহ বহু মহারথীর স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা। ওইসব ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা জানান, দরগাপাড়ার যে বাড়িটি সন্দীপ কুমার রায় নির্মাণ করেছিলেন—তা শুধু একটি ভবন নয়; মহারানি হেমন্তকুমারীর অবস্থানের স্মৃতি বহনকারী ঐতিহাসিক নিদর্শন। বাড়িটির সামনে থাকা নাগলিঙ্গম ফলের গাছসহ পুরো স্থাপনাটি প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যবান। অথচ কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভবনটি ভাঙার জন্য নিলামে তোলা হয়েছে, যা অযৌক্তিক ও দৃষ্টিকটু বলেও মন্তব্য করেন তারা।
স্মারকলিপির তিন দফা দাবিতে উল্লেখ্য করা হয়েছে, ঐতিহাসিক এই বাড়ি ভাঙার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা ও নাগলিঙ্গম গাছসহ ভবনটি সংরক্ষণ করা।
বাড়িটিকে রাজশাহীর হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করা এবং পুরো জেলা ও বিভাগে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা করে সংরক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণ।
কান্ত কবি রজনীকান্ত সেনের বসতভিটা, মিঞাপাড়ার রাজা হেমেন্দ্র কুমারের বসতভিটা, তালন্দ ভবনসহ (যা বর্তমানে একটি বিশেষ বাহিনীর দখলে) রাজশাহীর সব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ।
এছাড়া একই দাবি সম্বলিত স্মারকলিপির অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন—হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি লেখক ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী শহিদুল ইসলাম, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান আতিক, ইয়্যাস সভাপতি শামীউল আলীম শাওন, সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মী নাদিম সিনা, হাসিবুল হাসনাত রিজভিসহ নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।
তারা বলেন, ঐতিহ্য ধ্বংস হলে শহরের আত্মা ধ্বংস হয়। রাজশাহী তার ঐতিহ্যের শহর—এগুলো রক্ষা করাই এখন সময়ের দাবি।