হঠাৎ শীতের দাপটে কাঁপছে বাঘা: বিপাকে খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় হঠাৎ করেই জেঁকে বসেছে শীত। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোর থেকে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস ও কম তাপমাত্রার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ভোরের দিকে উপজেলার সড়ক, হাট-বাজার ও খোলা মাঠ কুয়াশায় ঢেকে থাকায় যানবাহন চলাচলও ধীরগতির হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে সকাল ৯টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। এতে করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
শীতের এই আকস্মিক তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালক ও ভ্যানচালকরা। শীতের কারণে অনেকেই ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না, আবার কেউ কেউ শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। আয় কমে যাওয়ায় তাদের পরিবারগুলো পড়েছে চরম দুর্ভোগে।
এদিকে ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষদের কষ্ট আরও বেড়েছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেককে খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে কিংবা পুরোনো কাপড় গায়ে জড়িয়ে রাত কাটাতে দেখা গেছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে শীতের আমেজে চায়ের দোকানগুলোতে বাড়ছে ভিড়। গ্রাম ও শহরের মোড়ে মোড়ে আগুন পোহানোর দৃশ্য চোখে পড়ছে। হাট-বাজারে শীতের পোশাকের চাহিদা বাড়লেও দরিদ্র মানুষের পক্ষে সেগুলো কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতি বছর শীত এলেও এবার হঠাৎ করেই তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ প্রস্তুত থাকতে পারেনি। আবহাওয়া পরিস্থিতি এমন থাকলে আগামী কয়েকদিন শীত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় শীতার্ত ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল।