ধামইরহাটে ৫ মাস ধরে নেই এসিল্যান্ড: চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ।
কারিমুল ইসলাম মন্ডল
ধামইরহাট উপজেলা প্রতিনিধি।
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস যাবৎ সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড পদটি শূন্য রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কোনো স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে নামজারি (মিউটেশন) থেকে শুরু করে বিবিধ কেস ও জমি সংক্রান্ত জরুরি কাজ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
সেবার বদলে বাড়ছে অপেক্ষার প্রহর
সরেজমিনে ধামইরহাট উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য এসে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকের নামজারি আবেদন মাসখানেক ধরে ঝুলে আছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এসিল্যান্ড না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষর হচ্ছে না। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের দিনের পর দিন অফিসের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ:
আবেদন জট: কয়েকশ নামজারি আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে আছে।
সময় ও অর্থের অপচয়: গ্রাম থেকে বারবার এসেও কাজ না হওয়ায় যাতায়াত খরচ ও সময় দুটোই অপচয় হচ্ছে।
অতিরিক্ত দায়িত্বের সীমাবদ্ধতা: বর্তমানে অন্য কোনো কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকলেও তিনি নিয়মিত না বসায় জরুরি ফাইলগুলো নিষ্পত্তি হচ্ছে না।
প্রশাসনিক স্থবিরতা
ভূমি অফিসের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এসিল্যান্ড না থাকায় শুধু নামজারিই নয়, সরকারের খাস জমি রক্ষা, ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং বিবিধ মামলার শুনানির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও থমকে গেছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত এই পদে একজন স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি
ভুক্তভোগী এক সেবাগ্রহীতা জানান, "একটি সাধারণ নামজারির জন্য তিন মাস ধরে ঘুরছি। অফিসের লোকজন বলছে বড় সাহেব (এসিল্যান্ড) নেই, তাই কাজ হচ্ছে না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।"
ধামইরহাটবাসী অবিলম্বে এই শূন্য পদে একজন দক্ষ ও স্থায়ী এসিল্যান্ড নিয়োগ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।