পত্নীতলায় সুস্বাস্থ্যের আলো ছড়াচ্ছে ভোরের ডাক
(মো. আসির উদ্দীন, পত্নীতলা, নওগাঁ)
সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণের জন্য আমরা স্লোগানকে সামনে রেখে ভোরের ডাক ব্যায়াম সংগঠন পত্নীতলার নজিপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রতিদিন ব্যায়াম করে আসছে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস কিংবা শারীরিক যে কোন সমস্যাগ্রস্থ ৫০ এর বেশি সদস্য নিয়ে ভোরের ডাক ব্যায়াম সংগঠন প্রতিদিনই ব্যায়াম কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সকাল সাড়ে ছয়টায় নজিপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রতিদিন ব্যায়াম করছেন সংগঠনের সদস্যরা । কামাল হোসেন, উষ্টি জাকেরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়াম করার ফলে তিনি বর্তমানে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। ভোরের ডাক ব্যায়াম সংগঠনের সভাপতি শিবপুর বরেন্দ্র চৌরট ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইমরান হোসেনের ওজন ১০০ কেজির উপরে ছিল। ওজন নিয়ন্ত্রণে বারবার প্রচেষ্টার ফলে এবং ব্যায়ামের মধ্যদিয়ে তিনি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। মাটিন্দর বিএম কলেজের অধ্যক্ষ বিমল কুমার বর্মন। প্রায় ৩০ বছর যাবত ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগে ভুগছেন। ডাক্তার ওপেনহার্ট সার্জারির কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি নিয়মিত ব্যায়াম পরিচালনা এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের ফলে সুস্থ্য রয়েছেন। বিগত প্রায় ১০ বছর নজিপুর পৌর পার্কে ব্যায়াম পরিচালনা করে আসছেন বিমল কুমার বর্মন। নজিপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সংগঠনের নিয়মিত ২৫ থেকে ৩০ জনসহ সক্রিয় সদস্য রয়েছে ১০০ জন। শুধু ব্যায়াম পরিচালনা করছেন তা নয় সংগঠনটি সামাজিক কাজেও অংশগ্রহণ করে থাকে। নজিপুর পৌর এলাকায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ, জামাই ষষ্ঠী, পহেলা বৈশাখ, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস সহ ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান আয়োজন, ম্যারাথন দৌড়সহ নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতন সংগঠনটির মধ্য দিয়ে মানুষ নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে। তৃণমূলে মানুষের প্রয়োজনে এ ধরনের সংগঠন বাংলাদেশকে আগামীর পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। টেকসই উন্নয়ন অভীস্টে সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণের কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটি নিজেদের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে অবদান রেখে চলেছে। সংগঠনটি নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনে নিজেদের যুক্ত করেছে। সংগঠনের হাত ধরেই এই এলাকায় নিরাপদ খাদ্যে বিপ্লব ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।