
পাহাড়পুরে বিদেশি পর্যটকদের পদচারণা: ১২০০ বছরের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ পরিদর্শনে মুগ্ধ অতিথিরা
নওগাঁ জেলা বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ বিদ্যুৎ হাসান
১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
নওগাঁর বদলগাছীতে অবস্থিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন সোমপুর মহাবিহার (পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার) পরিদর্শন করেছেন একদল বিদেশি পর্যটক। আজ শনিবার সকালে তারা এই প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা ঘুরে দেখেন এবং এর স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত হন।
পরিদর্শনকালে পর্যটকরা মূল মন্দিরের চারপাশের ধ্বংসাবশেষ, ভিক্ষুদের জন্য নির্ধারিত কক্ষ এবং প্রাচীন ধ্যানমগ্ন পরিবেশ ঘুরে দেখেন। তারা ১২০০ বছরের পুরনো এই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশালত্ব এবং তৎকালীন জ্ঞানচর্চার পরিবেশ দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও
উল্লেখ্য যে, পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই মহাবিহারটি নির্মাণ করেছিলেন। এটি সেই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করেছিল।
তৎকালীন সময়ে এটি ছিল বৌদ্ধধর্ম এবং উচ্চতর শিক্ষা লাভের প্রাণকেন্দ্র।
এখানে শুধুমাত্র ধর্মতত্ত্ব নয়, বরং দর্শন, ব্যাকরণ এবং যুক্তিবিদ্যার মতো বিষয়েও পাঠদান করা হতো।
ঐতিহাসিকদের মতে, এই বিহারে ছাত্র ও ভিক্ষুরা নিয়মিত ইয়োগা ও মেডিটেশন (ধ্যান) চর্চা করতেন, যার নিদর্শন এখানকার স্থাপত্য নকশায় আজও পরিলক্ষিত হয়।
পর্যটক দলের একজন প্রতিনিধি জানান, “এই স্থাপনাটি শুধুমাত্র বাংলাদেশের সম্পদ নয়, এটি বিশ্ব সভ্যতার এক অনন্য দলিল। এখানকার শান্ত ও গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ আজও প্রাচীন জ্ঞান সাধনার কথা মনে করিয়ে দেয়।”
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার কর্তৃপক্ষ জানায়, শীতকালীন পর্যটন মৌসুমে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধরনের পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

Reporter Name 










