
দুই জেলার মোহনায় ইতিহাসের হাতছানি ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: মোঃ রাফি হোসেন
বাংলার প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, যা বিশ্বজুড়ে ‘সোমপুর মহাবিহার’ নামে সমধিক পরিচিত। নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় এর অবস্থান হলেও জয়পুরহাট জেলা শহরের খুব কাছে হওয়ায় এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি দুই জেলার মিলনস্থলে এক অনন্য সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
ইউনেস্কো ঘোষিত এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানটি পরিদর্শনে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি কয়েক হাজার পর্যটক ভিড় করেন। জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় পর্যটকদের একটি বড় অংশ জয়পুরহাট হয়েই এই বিহারে যাতায়াত করেন। ফলে ভৌগোলিকভাবে নওগাঁর অংশ হলেও পাহাড়পুরের অর্থনীতি ও যাতায়াত ব্যবস্থায় জয়পুরহাট জেলার গুরুত্ব অপরিসীম।
অষ্টম শতকের পাল বংশীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেবের নির্মিত এই বিশাল বিহারটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার। বর্গাকার এই বিহারের মাঝখানে রয়েছে বিশাল একটি মন্দির, যা আজও স্থাপত্যশৈলীর এক বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিহারের চারপাশের ১৭৭টি কক্ষ ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে বিহার সংলগ্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে খননকার্যের সময় পাওয়া বিভিন্ন পোড়ামাটির ফলক, পাথরের মূর্তি ও প্রাচীন মুদ্রাসহ অমূল্য সব প্রত্নসম্পদ।
পরিদর্শনে আসা পর্যটকরা জানান, পাহাড়পুর কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়, এটি এ অঞ্চলের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। বিশেষ করে শীত মৌসুমে দুই জেলার পর্যটকদের পাশাপাশি শিক্ষাসফরে আসা শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে পুরো এলাকা।
স্থানীয়রা মনে করেন, পাহাড়পুরকে কেন্দ্র করে যদি পর্যটন সুবিধা আরও বাড়ানো যায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হয়, তবে নওগাঁ ও জয়পুরহাট—উভয় জেলার অর্থনীতিতে এটি আরও বড় ভূমিকা রাখবে। ইতিহাসের এই বিশাল স্থাপত্য কেবল দুই জেলার গৌরব নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের গর্ব হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

Reporter Name 










