ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

দুই জেলার মোহনায় ইতিহাসের হাতছানি ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৪:২২:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫৬ বার পড়া হয়েছে

দুই জেলার মোহনায় ইতিহাসের হাতছানি ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: মোঃ রাফি হোসেন

বাংলার প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, যা বিশ্বজুড়ে ‘সোমপুর মহাবিহার’ নামে সমধিক পরিচিত। নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় এর অবস্থান হলেও জয়পুরহাট জেলা শহরের খুব কাছে হওয়ায় এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি দুই জেলার মিলনস্থলে এক অনন্য সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।

ইউনেস্কো ঘোষিত এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানটি পরিদর্শনে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি কয়েক হাজার পর্যটক ভিড় করেন। জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় পর্যটকদের একটি বড় অংশ জয়পুরহাট হয়েই এই বিহারে যাতায়াত করেন। ফলে ভৌগোলিকভাবে নওগাঁর অংশ হলেও পাহাড়পুরের অর্থনীতি ও যাতায়াত ব্যবস্থায় জয়পুরহাট জেলার গুরুত্ব অপরিসীম।

অষ্টম শতকের পাল বংশীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেবের নির্মিত এই বিশাল বিহারটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার। বর্গাকার এই বিহারের মাঝখানে রয়েছে বিশাল একটি মন্দির, যা আজও স্থাপত্যশৈলীর এক বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিহারের চারপাশের ১৭৭টি কক্ষ ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে বিহার সংলগ্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে খননকার্যের সময় পাওয়া বিভিন্ন পোড়ামাটির ফলক, পাথরের মূর্তি ও প্রাচীন মুদ্রাসহ অমূল্য সব প্রত্নসম্পদ।

পরিদর্শনে আসা পর্যটকরা জানান, পাহাড়পুর কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়, এটি এ অঞ্চলের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। বিশেষ করে শীত মৌসুমে দুই জেলার পর্যটকদের পাশাপাশি শিক্ষাসফরে আসা শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে পুরো এলাকা।

স্থানীয়রা মনে করেন, পাহাড়পুরকে কেন্দ্র করে যদি পর্যটন সুবিধা আরও বাড়ানো যায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হয়, তবে নওগাঁ ও জয়পুরহাট—উভয় জেলার অর্থনীতিতে এটি আরও বড় ভূমিকা রাখবে। ইতিহাসের এই বিশাল স্থাপত্য কেবল দুই জেলার গৌরব নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের গর্ব হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

দুই জেলার মোহনায় ইতিহাসের হাতছানি ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

আপডেট সময় ০৪:২২:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

দুই জেলার মোহনায় ইতিহাসের হাতছানি ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: মোঃ রাফি হোসেন

বাংলার প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, যা বিশ্বজুড়ে ‘সোমপুর মহাবিহার’ নামে সমধিক পরিচিত। নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় এর অবস্থান হলেও জয়পুরহাট জেলা শহরের খুব কাছে হওয়ায় এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি দুই জেলার মিলনস্থলে এক অনন্য সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।

ইউনেস্কো ঘোষিত এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানটি পরিদর্শনে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি কয়েক হাজার পর্যটক ভিড় করেন। জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় পর্যটকদের একটি বড় অংশ জয়পুরহাট হয়েই এই বিহারে যাতায়াত করেন। ফলে ভৌগোলিকভাবে নওগাঁর অংশ হলেও পাহাড়পুরের অর্থনীতি ও যাতায়াত ব্যবস্থায় জয়পুরহাট জেলার গুরুত্ব অপরিসীম।

অষ্টম শতকের পাল বংশীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেবের নির্মিত এই বিশাল বিহারটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার। বর্গাকার এই বিহারের মাঝখানে রয়েছে বিশাল একটি মন্দির, যা আজও স্থাপত্যশৈলীর এক বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিহারের চারপাশের ১৭৭টি কক্ষ ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে বিহার সংলগ্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে খননকার্যের সময় পাওয়া বিভিন্ন পোড়ামাটির ফলক, পাথরের মূর্তি ও প্রাচীন মুদ্রাসহ অমূল্য সব প্রত্নসম্পদ।

পরিদর্শনে আসা পর্যটকরা জানান, পাহাড়পুর কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়, এটি এ অঞ্চলের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। বিশেষ করে শীত মৌসুমে দুই জেলার পর্যটকদের পাশাপাশি শিক্ষাসফরে আসা শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে পুরো এলাকা।

স্থানীয়রা মনে করেন, পাহাড়পুরকে কেন্দ্র করে যদি পর্যটন সুবিধা আরও বাড়ানো যায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হয়, তবে নওগাঁ ও জয়পুরহাট—উভয় জেলার অর্থনীতিতে এটি আরও বড় ভূমিকা রাখবে। ইতিহাসের এই বিশাল স্থাপত্য কেবল দুই জেলার গৌরব নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের গর্ব হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।