ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

গোদাগাড়ীর মাঠে দুলছে জিরা: স্বপ্ন বুনছেন বরেন্দ্রর কৃষকরা,

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৬:২৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে

গোদাগাড়ীর মাঠে দুলছে জিরা: স্বপ্ন বুনছেন বরেন্দ্রর কৃষকরা,
ব্যুরো চিফ রাজশাহী,
​ বরেন্দ্র অঞ্চলের তপ্ত মাটিতে এবার সুগন্ধ ছড়াচ্ছে জিরা। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে জিরার আবাদ শুরু হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের চাহিদা মেটাতে ও অর্থকরী ফসল হিসেবে জিরার চাষ এখন এই অঞ্চলের কৃষিতে এক বড় মাইলফলক।
​চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ৩ বিঘা বা ১ একর জমিতে জিরার আবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বিঘা প্রতি জিরার গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে ১১০ কেজি। সেই হিসেবে ১ একর জমি থেকে প্রায় ৩৩০ কেজি জিরা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্বল্প খরচ ও পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় এই মসলা চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা।

​বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) উদ্ভাবিত দেশের প্রথম উচ্চফলনশীল জাত ‘বারি জিরা-১’ চাষ করেই এই সফলতা এসেছে। এই জাতটির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

​উপযুক্ত মাটি: বেলে-দোঁআশ ও সুনিষ্কাশিত উর্বর মাটিতে এটি ভালো জন্মে।

​মাত্র ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যায়। সঠিক পরিচর্যায় হেক্টরপ্রতি ৬০০-৮০০ কেজি পর্যন্ত ফলন সম্ভব।
​জিরা মূলত একটি রবি শস্য যা নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বপন করা হয়। হেক্টরপ্রতি মাত্র ৮-১০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় এতে সেচ ও সারের খরচ তুলনামূলক কম। এছাড়া বাজারে জিরার আকাশচুম্বী দাম থাকায় কৃষকরা হেক্টরপ্রতি মোটা অংকের মুনাফা অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন।

​উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে আমরা গোদাগাড়ীতে জিরার চাষ নিয়ে কাজ করছি। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। খরচ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে জিরা চাষে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জিরার এই দেশীয় উৎপাদন আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের চাহিদা মেটাতে এবং স্থানীয় অর্থনীতি মজবুত করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।”

​জিরা শুধু রান্নার মসলা নয়, এর রয়েছে ওষুধি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ। বরেন্দ্র অঞ্চলের শুষ্ক আবহাওয়া জিরা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে গোদাগাড়ী হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম ‘মসলা ভাণ্ডার’। সরকারি সহযোগিতা ও সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে এই অঞ্চল থেকে জিরা বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব হবে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

গোদাগাড়ীর মাঠে দুলছে জিরা: স্বপ্ন বুনছেন বরেন্দ্রর কৃষকরা,

আপডেট সময় ০৬:২৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

গোদাগাড়ীর মাঠে দুলছে জিরা: স্বপ্ন বুনছেন বরেন্দ্রর কৃষকরা,
ব্যুরো চিফ রাজশাহী,
​ বরেন্দ্র অঞ্চলের তপ্ত মাটিতে এবার সুগন্ধ ছড়াচ্ছে জিরা। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে জিরার আবাদ শুরু হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের চাহিদা মেটাতে ও অর্থকরী ফসল হিসেবে জিরার চাষ এখন এই অঞ্চলের কৃষিতে এক বড় মাইলফলক।
​চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ৩ বিঘা বা ১ একর জমিতে জিরার আবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বিঘা প্রতি জিরার গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে ১১০ কেজি। সেই হিসেবে ১ একর জমি থেকে প্রায় ৩৩০ কেজি জিরা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্বল্প খরচ ও পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় এই মসলা চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা।

​বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) উদ্ভাবিত দেশের প্রথম উচ্চফলনশীল জাত ‘বারি জিরা-১’ চাষ করেই এই সফলতা এসেছে। এই জাতটির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

​উপযুক্ত মাটি: বেলে-দোঁআশ ও সুনিষ্কাশিত উর্বর মাটিতে এটি ভালো জন্মে।

​মাত্র ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যায়। সঠিক পরিচর্যায় হেক্টরপ্রতি ৬০০-৮০০ কেজি পর্যন্ত ফলন সম্ভব।
​জিরা মূলত একটি রবি শস্য যা নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বপন করা হয়। হেক্টরপ্রতি মাত্র ৮-১০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় এতে সেচ ও সারের খরচ তুলনামূলক কম। এছাড়া বাজারে জিরার আকাশচুম্বী দাম থাকায় কৃষকরা হেক্টরপ্রতি মোটা অংকের মুনাফা অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন।

​উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে আমরা গোদাগাড়ীতে জিরার চাষ নিয়ে কাজ করছি। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। খরচ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে জিরা চাষে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জিরার এই দেশীয় উৎপাদন আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের চাহিদা মেটাতে এবং স্থানীয় অর্থনীতি মজবুত করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।”

​জিরা শুধু রান্নার মসলা নয়, এর রয়েছে ওষুধি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ। বরেন্দ্র অঞ্চলের শুষ্ক আবহাওয়া জিরা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে গোদাগাড়ী হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম ‘মসলা ভাণ্ডার’। সরকারি সহযোগিতা ও সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে এই অঞ্চল থেকে জিরা বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব হবে।