
ধামইরহাটে তৌহিদুল ইসলামের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি: গণ-পদত্যাগের হুঁশিয়ারি ও তৃণমূলের ক্ষোভ
কারিমুল ইসলাম মন্ডল
ধামইরহাট উপজেলা প্রতিনিধি।
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা যুবদলের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও রাজপথের লড়াকু সৈনিক মো. তৌহিদুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দুঃসময়ের এই কান্ডারিকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চায়ের টেবিলে বইছে সমালোচনার ঝড়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বহু ত্যাগী নেতা ও কর্মী এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য’ এবং ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন।
দুঃসময়ের লড়াকু যোদ্ধা
তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, তৌহিদুল ইসলাম কেবল একজন নেতাই নন, তিনি ছিলেন ধামইরহাটে বিএনপির অতন্দ্র প্রহরী। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে তার নামে ১৫টি বানোয়াট ও রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মীরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “তৌহিদুল ভাইকে দমাতে না পেরে তৎকালীন শাসকরা তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। এমনকি তার সহধর্মিণী ও মাত্র ছয় মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুকেও জেলে যেতে হয়েছে।” এমন ত্যাগী একজন নেতার বহিষ্কারকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।
কেন এই বহিষ্কার? প্রশ্ন কর্মীদের
তৌহিদুল ইসলামের ডাকে যারা রাজপথের সকল কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করেছেন, সেই কর্মীরা আজ দিশেহারা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
”যিনি আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ও অত্যাচারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন, আজ তাকে কেন বহিষ্কার করা হলো? আমরা এর সুস্পষ্ট কারণ জানতে চাই। যদি উপযুক্ত কারণ দর্শানো না হয়, তবে আমরা ধরে নিব সু-সময়ে এসে দুঃসময়ের নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের আর দলের প্রয়োজন নেই।”
জেলা নেতৃবৃন্দের প্রতি হুঁশিয়ারি
নওগাঁ জেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ক্ষুব্ধ কর্মীরা জানিয়েছেন, অবিলম্বে তৌহিদুল ইসলামের এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় ধামইরহাটের সাধারণ জনগণ ও কর্মীরা ব্যালট এবং রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে। নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে যে, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে গণ-পদত্যাগের মতো কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে।
সাংগঠনিক ক্ষতির আশঙ্কা
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, তৌহিদুল ইসলামের মতো জনপ্রিয় নেতাকে মাইনাস করার ফলে ধামইরহাটে যুবদলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে সংকটের সময় রাজপথে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা।

Reporter Name 










