
আরডিএ কমপ্লেক্সকে ‘জুলাই ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ ঘোষণার দাবি
মোঃ তানজিলুল ইসলাম লাইক, রাজশাহীঃ
রাজশাহীর তালাইমারি মোড়ে অবস্থিত ‘আরডিএ কমপ্লেক্স’-এর ভাড়া বাতিল এবং স্থাপনাটি ‘জুলাই ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ ঘোষণার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন জুলাই যোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান এসএম তুহিনুর আলমের কাছে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, জুলাই-৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ জামাল কাদেরী, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা. আবদুল আউয়াল, নজরুল পরিষদের সভাপতি কবি মোস্তাক রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পরে স্মারকলিপির কপি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, আরএমপি কমিশনার ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছেও জমা দেওয়া হয়।
জুলাই যোদ্ধারা বলেন, তালাইমারি মোড় এবং মতিহার চত্ত্বর ছিল ২৪ সালের ফ্যাসিস্টবিরোধী গণআন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। এই এলাকাকে কেন্দ্র করেই হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ আন্দোলনের ঝড় তুলেছিলেন। আন্দোলনের শহীদ, আহত ও নির্যাতিতদের স্মৃতি ধরে রাখতে ‘জুলাই ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ গড়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন আলোচনাও চলছিল। কিন্তু কোনো পক্ষকে না জানিয়ে আরডিএ হঠাৎই স্থাপনাটি ভাড়া দেয়—যা তারা অযৌক্তিক বলে দাবি করেন।
জুলাই যোদ্ধাদের অভিযোগ, আরডিএ কমপ্লেক্সের ভাড়া নেওয়া ব্যক্তি এবং তাঁর সহযোগী খায়রুল বাশারের বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংসহ প্রায় ২০০টি মামলা। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯টির মতো গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। তাই এমন বিতর্কিত ব্যক্তির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনাটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের আওতায় আনা জনস্বার্থবিরোধী।
আরডিএ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে ১.৪২ একর জমির ওপর ‘বঙ্গবন্ধু স্কয়ার’ নামের প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়, যার ব্যয় প্রথমে ছিল প্রায় ৬১ কোটি টাকা এবং পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৫ কোটিতে। প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ বাতিল হওয়ার পর দীর্ঘদিন ভবনটি অকার্যকর পড়ে ছিল। চলতি বছরের ৭ জুন টেন্ডারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে মাসিক ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮৩ টাকায় ভবনটি লিজ দেওয়া হয়।
লেখক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, যে স্থাপনাটি আন্দোলনের ইতিহাস ধারণ করার কথা ছিল, সেটি একজন বিতর্কিত ব্যক্তির কাছে বাণিজ্যিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ জামাল কাদেরী বলেন, আমাদের দাবি খুব স্পষ্ট—ভাড়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে এখানে ‘জুলাই ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ গঠন করতে হবে। নাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে আরডিএ চেয়ারম্যান এসএম তুহিনুর আলম বলেন, জুলাই স্মৃতি বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তাঁরা আগে পাননি। স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Reporter Name 










