ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

রাজশাহীর দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ করল প্রশাসন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:৩৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৫৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ করল প্রশাসন

সিরাজুল ইসলাম রনি, রাজশাহী

সিপাইপাড়া এলাকায় অবস্থিত দিঘাপতিয়ার রাজবংশের রাজার বাড়ি ভাঙার কাজ জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয়ের কর্মীরা গিয়ে ভাঙার কাজ থামিয়ে দেন।

বাড়িটির মালিক ছিলেন রাজার ছেলে সন্দীপ কুমার রায়। যদিও পাশাপাশি পেছনের দোতলা দুটি বাড়ি প্রায় সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে, মেঝের নিচে থাকা সুড়ঙ্গের ইটগুলো এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।

হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী বাড়িটি পরিদর্শন করে বলেন, “বাড়িটির বয়স আনুমানিক ১২০ বছর। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখানে থাকা নাগলিঙ্গমের গাছটি যেন কাটা না হয়, এটি খুবই বিরল। প্রশাসনের কর্মকর্তারা হয়তো এখানে আসেননি, নিলাম দেন। এলে হয়তো এর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বুঝতে পারতেন।”

তিনি আরও জানান, বাড়ির নিচে সুড়ঙ্গের মতো স্থাপনা মূলত প্রাচীন নির্মাণশৈলীর অংশ, বাতাস চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হতো। তবে কলেজশিক্ষক আকতার বানুর মতে, পেছনের দোতলা বাড়ি থেকে সামনের একতলা বাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে এটি করা হতে পারে।

রাজপরিবার চলে যাওয়ার পর বাড়িটি দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত ছিল। স্বাধীনতার পর এটি ইজারা দেওয়া হয় ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের নামে, যিনি এখানে মহিলা কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে প্রায় ১০ হাজার নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলেন। মনোয়ারা রহমান ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করলে বাড়িটি আবারও পরিত্যক্ত হয়। সম্প্রতি বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয় ইজারা বাতিল করে বাড়িটি নিলামে বিক্রি করে।

নিলামের ক্রেতা শ্রমিকদের মাধ্যমে দুই সপ্তাহ ধরে ভাঙার কাজ চলছিল। মঙ্গলবার এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সমালোচনার মুখে জেলা প্রশাসন কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়।

বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, “জেলা প্রশাসন আপাতত বাড়িটিকে যেভাবে আছে, সেভাবেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে লালসালু টাঙিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেয়ালের ভাঙা ইটগুলো নিলামের ক্রেতা সরিয়ে নেবেন; এরপর আর কোনো ইট তোলা যাবে না। কর্তৃপক্ষ সবকিছু যাচাই-বাছাই করে তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

রাজশাহীর দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ করল প্রশাসন

আপডেট সময় ০২:৩৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ করল প্রশাসন

সিরাজুল ইসলাম রনি, রাজশাহী

সিপাইপাড়া এলাকায় অবস্থিত দিঘাপতিয়ার রাজবংশের রাজার বাড়ি ভাঙার কাজ জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয়ের কর্মীরা গিয়ে ভাঙার কাজ থামিয়ে দেন।

বাড়িটির মালিক ছিলেন রাজার ছেলে সন্দীপ কুমার রায়। যদিও পাশাপাশি পেছনের দোতলা দুটি বাড়ি প্রায় সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে, মেঝের নিচে থাকা সুড়ঙ্গের ইটগুলো এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।

হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী বাড়িটি পরিদর্শন করে বলেন, “বাড়িটির বয়স আনুমানিক ১২০ বছর। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখানে থাকা নাগলিঙ্গমের গাছটি যেন কাটা না হয়, এটি খুবই বিরল। প্রশাসনের কর্মকর্তারা হয়তো এখানে আসেননি, নিলাম দেন। এলে হয়তো এর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বুঝতে পারতেন।”

তিনি আরও জানান, বাড়ির নিচে সুড়ঙ্গের মতো স্থাপনা মূলত প্রাচীন নির্মাণশৈলীর অংশ, বাতাস চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হতো। তবে কলেজশিক্ষক আকতার বানুর মতে, পেছনের দোতলা বাড়ি থেকে সামনের একতলা বাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে এটি করা হতে পারে।

রাজপরিবার চলে যাওয়ার পর বাড়িটি দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত ছিল। স্বাধীনতার পর এটি ইজারা দেওয়া হয় ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের নামে, যিনি এখানে মহিলা কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে প্রায় ১০ হাজার নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলেন। মনোয়ারা রহমান ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করলে বাড়িটি আবারও পরিত্যক্ত হয়। সম্প্রতি বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয় ইজারা বাতিল করে বাড়িটি নিলামে বিক্রি করে।

নিলামের ক্রেতা শ্রমিকদের মাধ্যমে দুই সপ্তাহ ধরে ভাঙার কাজ চলছিল। মঙ্গলবার এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সমালোচনার মুখে জেলা প্রশাসন কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়।

বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, “জেলা প্রশাসন আপাতত বাড়িটিকে যেভাবে আছে, সেভাবেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে লালসালু টাঙিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেয়ালের ভাঙা ইটগুলো নিলামের ক্রেতা সরিয়ে নেবেন; এরপর আর কোনো ইট তোলা যাবে না। কর্তৃপক্ষ সবকিছু যাচাই-বাছাই করে তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”