ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

রাজশাহীতে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসা ও মাদকের আসর

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৪:৫৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৯৬ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসা ও মাদকের আসর

মোঃতানজিলুল ইসলাম লাইক, রাজশাহী,

রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন গণকপাড়ায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবনের ঘাঁটি গড়ে উঠেছে। শিক্ষা নগরীতে বিভিন্ন জেলা থেকে পড়তে আসা কলেজ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা ও অন্যান্য নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। হোস্টেলে থাকা অনেক তরুণ–তরুণী ‘রুম ডেট’ করার নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে হোটেল পদ্মাসহ আশপাশের আরও কয়েকটি আবাসিক হোটেলকে।

গত কয়েকদিন সরেজমিনে হোটেল পদ্মার সামনে দেখা যায়—বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ নিয়মিত হোটেলে প্রবেশ করছে। কেউ ২০ মিনিট, কেউবা এক ঘণ্টার মধ্যে বেরিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় দোকানদার ও এলাকাবাসীরা জানান, পাঁচ আগস্টের পর প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগে প্রায় দিন–রাতই চলছে এসব অনৈতিক কার্যক্রম। স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে হোটেল মালিক আজাদের গভীর সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ তাদের।
মোঃতানজিলুল ইসলাম লাইক, রাজশাহী,
হোটেল পদ্মার দুই ধাপ দূরেই রয়েছে মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি। তা সত্ত্বেও কখনও কোনো অভিযান হয়নি বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এক স্থানীয় জানান—ডিবি প্রায় দুই বছর আগে একবার অভিযান দিয়েছিল। কিন্তু থানা বা ফাঁড়ি পুলিশের অভিযান কখনো দেখি নাই। রাজশাহীতে হোটেলে ডিবি ছাড়া অন্য কোনো পুলিশের অভিযান চোখে পড়ে না।

এলাকাবাসীরা বলেন—হোটেল পদ্মার আশপাশে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় রয়েছে। সেখানে থাকা পাতিনেতাদের প্রশ্রয়ে আজাদ দিনের বেলায়ও দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
তাদের ভাষায়—প্রশাসন আর নেতাদের আশ্রয় না থাকলে আজাদ এত সাহস পাবে কীভাবে? অন্য জেলা থেকে এসে রাজশাহীতে সে এমন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বছর বছর।

স্থানীয়রা আরও জানান —আজাদ তো একেবারে বাজে সে খারাপ মেয়ে রাখে তাই খারাপ গুলি ওই হোটেলে যায়। এই হোটেলে ছাড়া রাজশাহীর অন্য আবাসিক হোটেলের কারণে যুবক-যুবতীর ভুল পথে এগোচ্ছে। দিন রাত হোটেল গুলিতে ছাত্র-ছাত্রী যখন ইচ্ছা ডুকছে বের হচ্ছে । পূর্বে প্রশাসন নিয়মিত হোটেল পরিদর্শন করে রেজিস্টার খাতা মিলিয়ে দেখত। এখন তা না থাকায় তরুণ প্রজন্মের ছেলে–মেয়েরা নিশ্চিন্তে ডেটিং করছে।

ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়—হোটেল পদ্মার মালিক আজাদকে একাধিকবার আটক করা হয়েছিল। প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার জন্য তিনি কয়েকবার হোটেলের নাম বা অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান, তবে জামিনে বেরিয়ে এসে আবার নতুন কৌশলে একই ব্যবসা শুরু করেন। আজাদের মধ্যে লজ্জা বা অনুশোচনার কোনো লক্ষণ নেই বলেও জানিয়ে।

বিষয়টি জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার মাঈনুল ইসলাম বলেছেন—আমাদের অভিযান নিয়মিত চলছে। প্রতি মাসেই বিশেষ অভিযান দিই। খুব শিগগিরই ওই স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা—দেহ ব্যবসা ও মাদক লেনদেনের কারণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যুব সমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষায় তারা অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক অভিযান, সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার এবং হোটেল পদ্মাসহ জড়িত বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

রাজশাহীতে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসা ও মাদকের আসর

আপডেট সময় ০৪:৫৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীতে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসা ও মাদকের আসর

মোঃতানজিলুল ইসলাম লাইক, রাজশাহী,

রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন গণকপাড়ায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবনের ঘাঁটি গড়ে উঠেছে। শিক্ষা নগরীতে বিভিন্ন জেলা থেকে পড়তে আসা কলেজ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা ও অন্যান্য নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। হোস্টেলে থাকা অনেক তরুণ–তরুণী ‘রুম ডেট’ করার নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে হোটেল পদ্মাসহ আশপাশের আরও কয়েকটি আবাসিক হোটেলকে।

গত কয়েকদিন সরেজমিনে হোটেল পদ্মার সামনে দেখা যায়—বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ নিয়মিত হোটেলে প্রবেশ করছে। কেউ ২০ মিনিট, কেউবা এক ঘণ্টার মধ্যে বেরিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় দোকানদার ও এলাকাবাসীরা জানান, পাঁচ আগস্টের পর প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগে প্রায় দিন–রাতই চলছে এসব অনৈতিক কার্যক্রম। স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে হোটেল মালিক আজাদের গভীর সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ তাদের।
মোঃতানজিলুল ইসলাম লাইক, রাজশাহী,
হোটেল পদ্মার দুই ধাপ দূরেই রয়েছে মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি। তা সত্ত্বেও কখনও কোনো অভিযান হয়নি বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এক স্থানীয় জানান—ডিবি প্রায় দুই বছর আগে একবার অভিযান দিয়েছিল। কিন্তু থানা বা ফাঁড়ি পুলিশের অভিযান কখনো দেখি নাই। রাজশাহীতে হোটেলে ডিবি ছাড়া অন্য কোনো পুলিশের অভিযান চোখে পড়ে না।

এলাকাবাসীরা বলেন—হোটেল পদ্মার আশপাশে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় রয়েছে। সেখানে থাকা পাতিনেতাদের প্রশ্রয়ে আজাদ দিনের বেলায়ও দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
তাদের ভাষায়—প্রশাসন আর নেতাদের আশ্রয় না থাকলে আজাদ এত সাহস পাবে কীভাবে? অন্য জেলা থেকে এসে রাজশাহীতে সে এমন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বছর বছর।

স্থানীয়রা আরও জানান —আজাদ তো একেবারে বাজে সে খারাপ মেয়ে রাখে তাই খারাপ গুলি ওই হোটেলে যায়। এই হোটেলে ছাড়া রাজশাহীর অন্য আবাসিক হোটেলের কারণে যুবক-যুবতীর ভুল পথে এগোচ্ছে। দিন রাত হোটেল গুলিতে ছাত্র-ছাত্রী যখন ইচ্ছা ডুকছে বের হচ্ছে । পূর্বে প্রশাসন নিয়মিত হোটেল পরিদর্শন করে রেজিস্টার খাতা মিলিয়ে দেখত। এখন তা না থাকায় তরুণ প্রজন্মের ছেলে–মেয়েরা নিশ্চিন্তে ডেটিং করছে।

ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়—হোটেল পদ্মার মালিক আজাদকে একাধিকবার আটক করা হয়েছিল। প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার জন্য তিনি কয়েকবার হোটেলের নাম বা অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান, তবে জামিনে বেরিয়ে এসে আবার নতুন কৌশলে একই ব্যবসা শুরু করেন। আজাদের মধ্যে লজ্জা বা অনুশোচনার কোনো লক্ষণ নেই বলেও জানিয়ে।

বিষয়টি জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার মাঈনুল ইসলাম বলেছেন—আমাদের অভিযান নিয়মিত চলছে। প্রতি মাসেই বিশেষ অভিযান দিই। খুব শিগগিরই ওই স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা—দেহ ব্যবসা ও মাদক লেনদেনের কারণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যুব সমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষায় তারা অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক অভিযান, সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার এবং হোটেল পদ্মাসহ জড়িত বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।