ঢাকা , বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

বাগমারায় বাড়ি নির্মাণে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি: পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

বাগমারায় বাড়ি নির্মাণে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি: পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আশিক ইসলাম,বাগমারা

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১১ নম্বর গনিপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি নির্মাণ ও সংস্কার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার পিতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন পুলিশ কনস্টেবল নাজামুল ইসলাম জনি (৩৬) এবং তার পিতা মোজাম্মেল হক (৫৮)। অভিযুক্তদের হুমকি ও দাপটে ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের বসতবাড়ি দীর্ঘদিন আগেই নির্মিত। সম্প্রতি বাড়ির সংস্কার কাজ শুরু করলে প্রতিবেশী পুলিশ সদস্য জনি ও তার পিতা এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা বাড়ির টিনের চালা কেটে দেন, ফলে বৃষ্টির পানিতে ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ঘটনার মানসিক চাপের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন বলে পরিবারের দাবি।
এ ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের জামাই ও তাহেরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল জনি তাকে ফোনে গুলি করে হত্যা ও তুলে নিয়ে গুম করে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের মেজ মেয়ে আকলিমা বেগম বলেন,
“পুলিশের ক্ষমতা দেখিয়ে এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করেনি। আমাদের ঘরের টিন কেটে দিয়েছে, আমার বৃদ্ধ মাকে মারধর করেছে। জমির যে অংশ তারা দাবি করেছিল, তা ছেড়ে দিয়েছি। তারপরও বাড়ি নির্মাণ ও সংস্কারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত আচরণ ও চলাফেরা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ, যা এলাকায় ভয় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নাজামুল ইসলাম জনির সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে ১১ নম্বর গনিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রঞ্জু বলেন,
“বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন অনেক আগেই তার ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। প্রতিপক্ষরাও নিজেদের ঘর নির্মাণ করেছে। এখন দেয়াল ভাঙার দাবি কীভাবে আসে, তা আমার বোধগম্য নয়। আমি উভয় পক্ষকে আমিন এনে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি।”
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল আলম বলেন,
“থানায় প্রতিদিন অনেক অভিযোগ আসে, তাই বিষয়টি আমার সরাসরি নজরে আসেনি। তবে অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

বাগমারায় বাড়ি নির্মাণে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি: পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বাগমারায় বাড়ি নির্মাণে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি: পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আশিক ইসলাম,বাগমারা

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১১ নম্বর গনিপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি নির্মাণ ও সংস্কার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার পিতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন পুলিশ কনস্টেবল নাজামুল ইসলাম জনি (৩৬) এবং তার পিতা মোজাম্মেল হক (৫৮)। অভিযুক্তদের হুমকি ও দাপটে ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের বসতবাড়ি দীর্ঘদিন আগেই নির্মিত। সম্প্রতি বাড়ির সংস্কার কাজ শুরু করলে প্রতিবেশী পুলিশ সদস্য জনি ও তার পিতা এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা বাড়ির টিনের চালা কেটে দেন, ফলে বৃষ্টির পানিতে ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ঘটনার মানসিক চাপের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন বলে পরিবারের দাবি।
এ ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের জামাই ও তাহেরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল জনি তাকে ফোনে গুলি করে হত্যা ও তুলে নিয়ে গুম করে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের মেজ মেয়ে আকলিমা বেগম বলেন,
“পুলিশের ক্ষমতা দেখিয়ে এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করেনি। আমাদের ঘরের টিন কেটে দিয়েছে, আমার বৃদ্ধ মাকে মারধর করেছে। জমির যে অংশ তারা দাবি করেছিল, তা ছেড়ে দিয়েছি। তারপরও বাড়ি নির্মাণ ও সংস্কারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত আচরণ ও চলাফেরা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ, যা এলাকায় ভয় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নাজামুল ইসলাম জনির সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে ১১ নম্বর গনিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রঞ্জু বলেন,
“বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন অনেক আগেই তার ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। প্রতিপক্ষরাও নিজেদের ঘর নির্মাণ করেছে। এখন দেয়াল ভাঙার দাবি কীভাবে আসে, তা আমার বোধগম্য নয়। আমি উভয় পক্ষকে আমিন এনে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি।”
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল আলম বলেন,
“থানায় প্রতিদিন অনেক অভিযোগ আসে, তাই বিষয়টি আমার সরাসরি নজরে আসেনি। তবে অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।