ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

চুরি রোধে নওগাঁর আত্রাই নদীতে সিসিটিভি নজরদারি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:৩২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৬ বার পড়া হয়েছে

চুরি রোধে নওগাঁর আত্রাই নদীতে সিসিটিভি নজরদারি

মো: শামীম হোসেন মান্দা নওগাঁ প্রতিনিধি।

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদীর বুড়িদহ ঘাট মৎস্য অভয়াশ্রম সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে এক অভিনব ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ। দেশীয় মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং অসাধু চোরচক্রের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নদীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা। এই ব্যবস্থার ফলে এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টা নদী এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী। দীর্ঘদিন ধরে আত্রাই নদীর বুড়িদহ অভয়াশ্রম এলাকায় দিনে ও গভীর রাতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, বড়শি ও হুইলের মাধ্যমে মাছ চুরির অভিযোগ উঠে আসছিল। নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা হওয়ায় নিয়মিত পাহারা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় প্রযুক্তির সহায়তায় সমাধানের পথ বেছে নেয় প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর বুকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি রাতের নিরাপত্তা জোরদার করতে খুঁটির ওপর স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ চালিত লাইট, যা পুরো এলাকা আলোকিত রাখছে।
ইউএনওর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থাপিত ক্যামেরাগুলো একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে মান্দা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর পালের মোবাইল ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে অফিসে কিংবা বাসায় অবস্থান করলেও তিনি যে কোনো সময় সরাসরি নদীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।
মৎস্য বিভাগ জানায়, ডিজিটাল নজরদারির ফলে আইড়, বোয়াল, চিতলসহ বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির বড় মাছ নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। এতে ভবিষ্যতে মাছের সংকট কমবে এবং এলাকার মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নদী তীরবর্তী বাসিন্দা সুরজিৎ কুমার জানান, অভয়াশ্রম ঘোষণার পরও কিছু মানুষ গোপনে মাছ চুরি করত। মাছ জাতীয় সম্পদ হওয়ায় এ অভয়াশ্রম রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সিসিটিভি বসানোর ফলে এখন মাছ চুরির আশঙ্কা অনেকটাই কমে গেছে।
বুড়িদহ গ্রামের লক্ষণ সেন বলেন, এই এলাকায় ক্যামেরা স্থাপন করায় অবৈধভাবে জাল বা বড়শি ব্যবহার করা এখন আর সহজ নয়। ফলে মা মাছগুলো নিরাপদ থাকবে এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
দারিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ছবের আলী জানান, বর্তমানে বুড়িদহ অভয়াশ্রমে ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের প্রচুর বড় মাছ রয়েছে। আগে সুযোগ পেলেই কিছু লোক মাছ ধরে নিয়ে যেত। প্রশাসনের উদ্যোগে সিসিটিভি বসানোর পর মাছগুলো এখন নিরাপদে বেড়ে উঠছে, যার সুফল পুরো এলাকার মানুষ পাবে।
মান্দা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, অ্যাপসের মাধ্যমে এখন অভয়াশ্রমে সার্বক্ষণিক ডিজিটাল নজরদারি চালু রয়েছে। অফিস সময়ের বাইরেও যেকোনো স্থান থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। কোথাও অবৈধ মাছ শিকারের চেষ্টা ধরা পড়লে দ্রুত স্থানীয় সুবিধাভোগীদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী জানান, দীর্ঘদিন ধরে বুড়িদহ অভয়াশ্রমে অসাধু শিকারিদের মাছ আহরণ পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছিল না। এ সমস্যা সমাধানে এডিবির অর্থায়নে একটি বিশেষ সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও সোলার লাইট স্থাপন করা হয়েছে, যা উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে থাকবে। এই উদ্যোগ সফল হলে উপজেলার অন্যান্য অভয়াশ্রমেও একই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

চুরি রোধে নওগাঁর আত্রাই নদীতে সিসিটিভি নজরদারি

আপডেট সময় ০৩:৩২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

চুরি রোধে নওগাঁর আত্রাই নদীতে সিসিটিভি নজরদারি

মো: শামীম হোসেন মান্দা নওগাঁ প্রতিনিধি।

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদীর বুড়িদহ ঘাট মৎস্য অভয়াশ্রম সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে এক অভিনব ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ। দেশীয় মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং অসাধু চোরচক্রের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নদীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা। এই ব্যবস্থার ফলে এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টা নদী এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী। দীর্ঘদিন ধরে আত্রাই নদীর বুড়িদহ অভয়াশ্রম এলাকায় দিনে ও গভীর রাতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, বড়শি ও হুইলের মাধ্যমে মাছ চুরির অভিযোগ উঠে আসছিল। নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা হওয়ায় নিয়মিত পাহারা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় প্রযুক্তির সহায়তায় সমাধানের পথ বেছে নেয় প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর বুকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি রাতের নিরাপত্তা জোরদার করতে খুঁটির ওপর স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ চালিত লাইট, যা পুরো এলাকা আলোকিত রাখছে।
ইউএনওর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থাপিত ক্যামেরাগুলো একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে মান্দা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর পালের মোবাইল ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে অফিসে কিংবা বাসায় অবস্থান করলেও তিনি যে কোনো সময় সরাসরি নদীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।
মৎস্য বিভাগ জানায়, ডিজিটাল নজরদারির ফলে আইড়, বোয়াল, চিতলসহ বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির বড় মাছ নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। এতে ভবিষ্যতে মাছের সংকট কমবে এবং এলাকার মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নদী তীরবর্তী বাসিন্দা সুরজিৎ কুমার জানান, অভয়াশ্রম ঘোষণার পরও কিছু মানুষ গোপনে মাছ চুরি করত। মাছ জাতীয় সম্পদ হওয়ায় এ অভয়াশ্রম রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সিসিটিভি বসানোর ফলে এখন মাছ চুরির আশঙ্কা অনেকটাই কমে গেছে।
বুড়িদহ গ্রামের লক্ষণ সেন বলেন, এই এলাকায় ক্যামেরা স্থাপন করায় অবৈধভাবে জাল বা বড়শি ব্যবহার করা এখন আর সহজ নয়। ফলে মা মাছগুলো নিরাপদ থাকবে এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
দারিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ছবের আলী জানান, বর্তমানে বুড়িদহ অভয়াশ্রমে ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের প্রচুর বড় মাছ রয়েছে। আগে সুযোগ পেলেই কিছু লোক মাছ ধরে নিয়ে যেত। প্রশাসনের উদ্যোগে সিসিটিভি বসানোর পর মাছগুলো এখন নিরাপদে বেড়ে উঠছে, যার সুফল পুরো এলাকার মানুষ পাবে।
মান্দা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, অ্যাপসের মাধ্যমে এখন অভয়াশ্রমে সার্বক্ষণিক ডিজিটাল নজরদারি চালু রয়েছে। অফিস সময়ের বাইরেও যেকোনো স্থান থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। কোথাও অবৈধ মাছ শিকারের চেষ্টা ধরা পড়লে দ্রুত স্থানীয় সুবিধাভোগীদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী জানান, দীর্ঘদিন ধরে বুড়িদহ অভয়াশ্রমে অসাধু শিকারিদের মাছ আহরণ পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছিল না। এ সমস্যা সমাধানে এডিবির অর্থায়নে একটি বিশেষ সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও সোলার লাইট স্থাপন করা হয়েছে, যা উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে থাকবে। এই উদ্যোগ সফল হলে উপজেলার অন্যান্য অভয়াশ্রমেও একই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।