
রাজশাহী গোদাগাড়ী রাত নামলেই শুরু হয় ইটের ভাটার জন্য টপসয়েল কাটার উৎসব।
মোঃ জাহিদুল ইসলাম সানি বিশেষ প্রতিনিধি রাজশাহী।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী রাত নামলেই বেড়ে যায় মাটি খেকোদের সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ম্য।রাজশাহী জেলা জুড়ে অবৈধ পুকুর ও টপসয়েল কাটা ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।কিন্ত্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি গোদাগাড়ী প্রশাসনের দুর্বল নজরদারি ও কার্যকর অভিযানের অভাবে প্রতিরাতেই বিলীন হচ্ছে শত শত ট্রাক কৃষি জমির উপরিভাগের উর্বরা মাটি(টপসয়েল)। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে হুমকিতে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। তার পরেও প্রশাসন নিরব হেতু কি ?
জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন (ইউপি) জুড়ে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক শক্তিশালী মাটিখেকো সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এলাকাভেদে জামায়াত,
আওয়ামী লীগ, এনসিপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কোথাও কোথাও রয়েছে তথাকথিত সমন্বনয়ক ও কথিত সাংবাদিক।এতে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। উপজেলার দেওপাড়া ইউপির পালপুর, পাকড়ি ইউপির ব্যালক্যাপাড়া ও গোগ্রাম ইউনিয়নের (ইউপি) বিভিন্ন এলাকায় চলছে কৃষি জমিতে পুকুর খনন ও টপসয়েল কাটার মহোৎসব। প্রতিরাতে এসব এলাকায় মাটি পরিবহণে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় শতাধিক ডাম্পার ট্রাক। এসব মাটি স্থানভেদে প্রতি ডাম্পার ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এত বিপুল পরিমাণ মাটি পরিবহণ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সরেজমিন দেখা গেছে, দেওপাড়া ইউপির পালপুর ও পাকড়ি ইউপির ব্যালক্যাপাড়া ফসলি জমিতে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রি করে পাকা-কাচা রাস্তা নস্ট এবং পরিবেশ দুষণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা একাধিকবার বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নিরব। রাতের আঁধারে ৩-৪টি এক্সকেভেটর (ভেকু) দিয়ে পুকুর খনন ও ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বরা মাটি (টপসয়েল) কেটে ডাম্পারের মাধ্যমে মাটি পরিবহণ করা হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে, রিশিকুল, মাটিকাটা ও বাসুদেবপুর ইউপির বিভিন্ন এলাকায়। পুকুর ও নির্বিচারে টপসয়েল কাটার ফলে বাড়ছে ভূমিধসের ঝুঁকি, ধ্বংস হচ্ছে কৃষি জমি ও জীববৈচিত্র্য।
পুকুর সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক কবির হোসেন কে ফোন দিলে ফোন ধরেন না উনি।

Reporter Name 










