ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:২৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

আমরা পেরিছি, করে দেখিয়েছে, এবার অন্যদের পালা
দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁ। বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর বসবাসে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে সম্প্রতি বেশ পরিচিত হয়েছে জেলাটি। জেলার নিয়ামতপুর, মহাদেবপুর, বদলগাছি, সাপাহার ধামইরহাট এবং পত্নীতলার ২০ শতাংশের বেশি আদিবাসি জনগোষ্ঠী। সাঁওতাল, ওরাও, পাহান, মুন্ডা, মাল পাহাড়ি, মাহালী,, মাহাতোদের আধিক্য রয়েছে এখানে। ২০০৯, ২০১১ এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। ফলে বিভিন্ন সংগঠন বিশেষত আদিবাসী সংগঠনগুলো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা সবসময় তৎপর থাকেন যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ২০২৩ এ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পত্নীতলা উপজেলার শম্ভুপুর গ্রামে আবারো অস্থিরতা দেখা দেয় এবং দাঙ্গার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। নরেন পাহান, সুকুমার পাহান, পরিতোষ পাহান, অঞ্জলি পাহান, আদুরি পান, ফিরোজা বেগমসহ এলাকার নেতৃস্থানীয় সংগঠকগণ তৎপর ছিলেন বলে সে দাঙ্গা তখন রোধ করা সম্ভব হয়েছিল। সাময়িক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও মানুষের মনের মধ্যে বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে নরেন পাহান বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যে কোন অঘটন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। ফলে ফোর্ব ফোরাম এবং ফোর ইয়ুথ নেটওয়ার্কের সদস্যরা যৌথভাবে পরিকল্পনা করেন যাতে পরিস্থিতি কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়।
পরিতোষ, সুকুমার, অঞ্জলিদের নেতৃত্বে গ্রামের সকল মানুষদের নিয়ে একাধিকবার সম্প্রীতি বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামে সকলকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বেশ কিছু উৎসব আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য মেডিকেল ক্যাম্প, বীজ বিনিময় উৎসব, গ্রামে প্রীতিভোজের আয়োজন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা উৎসবে স্টল প্রদর্শন, হরিবাসর এবং মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠানে মুসলিমদের নিমন্ত্রণ, গ্রামে বাউল শিল্পীদের মিলনমেলা, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস একসাথে উদযাপন সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
কার্যক্রমগুলো আয়োজন এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে একই ধরনের আসনে একই জায়গায় বসানো হয়। মত বিনিময়ের ক্ষেত্রে সকলের মতামত শোনা হয়। এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাঙালি এবং আদিবাসি মেয়েরা একসাথে নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। ক্রমাগত অনুষ্ঠানগুলো পরিচালনার মধ্য দিয়ে নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতা বাড়ে এবং বিগত দিনের সম্পর্কের দৈন্যতা কাটতে শুরু করে। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা হলেও নিজেদের কন্ঠস্বর স্তব্ধ ছিল। এখন আর সে অবস্থা নেই। বর্তমানে প্রতিটি কণ্ঠস্বর একতালে কথা বলে। আদিবাসী বাঙালি কিংবা ভাষাভাষীর ক্ষেত্রেও কোন বিভেদ করার সুযোগ নেই। গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই সাথে আদিবাসী এবং বাঙালি শিশুরা পড়াশোনা করছে। এক সম্প্রদায়ের সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অন্যরা ও অংশগ্রহণ করছে। ফোর্ব ফোরাম এবং ফোর্ব ইয়ুথ নেটওয়ার্কের সদস্যদের ক্রমাগত উদ্যোগ এলাকাকে সম্প্রীতির এলাকা হিসেবে উপহার দিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। নওগাঁ জেলা ফোর্ব ফোরামের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নরেন পাহান। তিনি মনে করেন “সমস্যার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে যদি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় তাহলে সমস্যার মূল উৎপাটন করা সম্ভব। আমাদের মনে হয়েছিল কাজটি আমাদেরকেই করতে হবে। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ সহায়ক শক্তি হিসেবে সব সময় আমাদের পাশে ছিল। বুদ্ধি-সাহস, অর্থ এবং উপস্থিতি আমাদের আশার আলো দেখিয়েছে। আমরা পেরেছি আমরা করে দেখিয়েছি এবার অন্যদের পালা। ”
শম্ভুপুর গ্রামের নেত্রী অঞ্জলি পাহান মনে করেন “আমরা যদি নিজেদের দুর্বল ভাবি তাহলে অন্যরা আমাদের উপর খবরদারি করবে। আমরা উভয়ের সমস্যা গুলো জেনেছি এবং নিজেরা মিলেই সমাধান করে ফেলেছি। আদিবাসী বা বাঙালি নয় আমরা সবাই মানুষ হিসেবে নিজেদের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছি। এর চাইতে ভাল সুখবর আর কি হতে পারে। ”
বাংলাদেশ যে সত্যি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ একটি দেশ তা প্রমাণ করে শম্ভুপুরের আদিবাসী এবং বাঙ্গালীদের মিলেমিশে চলার এই দৃষ্টান্ত। একসাথে চলার ফলে পত্নীতলা ইউনিয়ন পরিষদ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সর্বাধিক সহযোগিতা এ গ্রামে প্রদান করেছেন। গ্রামের কাঁচা রাস্তা হয়েছে পাকা। গ্রামের অন্যান্য বিদ্যমান সামাজিক সমস্যাগুলো ক্রমাগত সমাধান হচ্ছে। বাংলাদেশে পারস্পরিক সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ প্রতিটি গ্রাম গড়ে ওঠুক এটাই সবার প্রত্যাশা।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

আপডেট সময় ০২:২৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

আমরা পেরিছি, করে দেখিয়েছে, এবার অন্যদের পালা
দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁ। বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর বসবাসে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে সম্প্রতি বেশ পরিচিত হয়েছে জেলাটি। জেলার নিয়ামতপুর, মহাদেবপুর, বদলগাছি, সাপাহার ধামইরহাট এবং পত্নীতলার ২০ শতাংশের বেশি আদিবাসি জনগোষ্ঠী। সাঁওতাল, ওরাও, পাহান, মুন্ডা, মাল পাহাড়ি, মাহালী,, মাহাতোদের আধিক্য রয়েছে এখানে। ২০০৯, ২০১১ এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। ফলে বিভিন্ন সংগঠন বিশেষত আদিবাসী সংগঠনগুলো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা সবসময় তৎপর থাকেন যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ২০২৩ এ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পত্নীতলা উপজেলার শম্ভুপুর গ্রামে আবারো অস্থিরতা দেখা দেয় এবং দাঙ্গার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। নরেন পাহান, সুকুমার পাহান, পরিতোষ পাহান, অঞ্জলি পাহান, আদুরি পান, ফিরোজা বেগমসহ এলাকার নেতৃস্থানীয় সংগঠকগণ তৎপর ছিলেন বলে সে দাঙ্গা তখন রোধ করা সম্ভব হয়েছিল। সাময়িক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও মানুষের মনের মধ্যে বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে নরেন পাহান বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যে কোন অঘটন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। ফলে ফোর্ব ফোরাম এবং ফোর ইয়ুথ নেটওয়ার্কের সদস্যরা যৌথভাবে পরিকল্পনা করেন যাতে পরিস্থিতি কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়।
পরিতোষ, সুকুমার, অঞ্জলিদের নেতৃত্বে গ্রামের সকল মানুষদের নিয়ে একাধিকবার সম্প্রীতি বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামে সকলকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বেশ কিছু উৎসব আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য মেডিকেল ক্যাম্প, বীজ বিনিময় উৎসব, গ্রামে প্রীতিভোজের আয়োজন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা উৎসবে স্টল প্রদর্শন, হরিবাসর এবং মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠানে মুসলিমদের নিমন্ত্রণ, গ্রামে বাউল শিল্পীদের মিলনমেলা, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস একসাথে উদযাপন সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
কার্যক্রমগুলো আয়োজন এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে একই ধরনের আসনে একই জায়গায় বসানো হয়। মত বিনিময়ের ক্ষেত্রে সকলের মতামত শোনা হয়। এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাঙালি এবং আদিবাসি মেয়েরা একসাথে নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। ক্রমাগত অনুষ্ঠানগুলো পরিচালনার মধ্য দিয়ে নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতা বাড়ে এবং বিগত দিনের সম্পর্কের দৈন্যতা কাটতে শুরু করে। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা হলেও নিজেদের কন্ঠস্বর স্তব্ধ ছিল। এখন আর সে অবস্থা নেই। বর্তমানে প্রতিটি কণ্ঠস্বর একতালে কথা বলে। আদিবাসী বাঙালি কিংবা ভাষাভাষীর ক্ষেত্রেও কোন বিভেদ করার সুযোগ নেই। গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই সাথে আদিবাসী এবং বাঙালি শিশুরা পড়াশোনা করছে। এক সম্প্রদায়ের সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অন্যরা ও অংশগ্রহণ করছে। ফোর্ব ফোরাম এবং ফোর্ব ইয়ুথ নেটওয়ার্কের সদস্যদের ক্রমাগত উদ্যোগ এলাকাকে সম্প্রীতির এলাকা হিসেবে উপহার দিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। নওগাঁ জেলা ফোর্ব ফোরামের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নরেন পাহান। তিনি মনে করেন “সমস্যার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে যদি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় তাহলে সমস্যার মূল উৎপাটন করা সম্ভব। আমাদের মনে হয়েছিল কাজটি আমাদেরকেই করতে হবে। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ সহায়ক শক্তি হিসেবে সব সময় আমাদের পাশে ছিল। বুদ্ধি-সাহস, অর্থ এবং উপস্থিতি আমাদের আশার আলো দেখিয়েছে। আমরা পেরেছি আমরা করে দেখিয়েছি এবার অন্যদের পালা। ”
শম্ভুপুর গ্রামের নেত্রী অঞ্জলি পাহান মনে করেন “আমরা যদি নিজেদের দুর্বল ভাবি তাহলে অন্যরা আমাদের উপর খবরদারি করবে। আমরা উভয়ের সমস্যা গুলো জেনেছি এবং নিজেরা মিলেই সমাধান করে ফেলেছি। আদিবাসী বা বাঙালি নয় আমরা সবাই মানুষ হিসেবে নিজেদের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছি। এর চাইতে ভাল সুখবর আর কি হতে পারে। ”
বাংলাদেশ যে সত্যি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ একটি দেশ তা প্রমাণ করে শম্ভুপুরের আদিবাসী এবং বাঙ্গালীদের মিলেমিশে চলার এই দৃষ্টান্ত। একসাথে চলার ফলে পত্নীতলা ইউনিয়ন পরিষদ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সর্বাধিক সহযোগিতা এ গ্রামে প্রদান করেছেন। গ্রামের কাঁচা রাস্তা হয়েছে পাকা। গ্রামের অন্যান্য বিদ্যমান সামাজিক সমস্যাগুলো ক্রমাগত সমাধান হচ্ছে। বাংলাদেশে পারস্পরিক সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ প্রতিটি গ্রাম গড়ে ওঠুক এটাই সবার প্রত্যাশা।