
গুরু-গম্ভীর পরিস্থিতিতে নওগাঁ-২ আসনের নির্বাচন
(পত্নীতলা প্রতিনিধি)
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ আমাদের দোরগোড়ায়। আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪৭ নওগাঁ ২ আসনে বিরাজ করছে গুরুগম্ভীর পরিস্থিতি। প্রার্থীরা ছুটছেন দ্বারে দ্বারে। খুব একটা সাড়া মিলছে না ভোটারদের। জাতীয় সংসদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নওগাঁ ২ আসন। ৩ লক্ষ ৭২ হাজার ভোটার আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটারদের প্রায় ৭০ হাজার তরুণ ভোটার এবং ৪০ হাজার আদিবাসী ভোট রয়েছে। ভোটের মাঠে তারাই হতে পারেন ট্রাম কার্ড।
সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গিয়েছে নানা বাস্তবতা। বিএনপি মনোনীত সাবেক সাংসদ শামসুজ্জোহা খান এবং তার অনুসারীরা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। নিজেদের ভেতরকার দলীয় কোন্দল এখনো পুরোপুরি নির্মূল হয় নাই। অভিমানে অনেক প্রভাবশালী নেতা নির্বাচনের মাঠে অনুপস্থিত। প্রার্থীর নিকট আত্মীয়দের ৫ আগস্ট পরবর্তী কর্মকান্ডে এলাকার ভোটাররাও অনেকাংশে ভোট বিমুখ। যারা ভোট প্রার্থনা করছেন তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ভোটারদের প্রশ্ন রয়েছে। ভোটের মাঠে নেতাকর্মীরা গণভোটে না ভোট দেওয়ার আহবানকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সাথে একাধিক মতবিনিময় সভা করলেও তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারছেন না। এছাড়াও ধামইরহাটে বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দ্বিধা বিভক্তি চরম আকার ধারণ করায় সেখানে বিএনপি প্রার্থীর প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশ কম। এমতাবস্থায় বেশ চাপে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী, কর্মী এবং সমর্থকগণ।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা বলছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি হিসেবে প্রতিপক্ষ ঘায়েল করার চেষ্টা করলেও প্রচার-প্রচারণায় বেশ এগিয়ে রয়েছেন তিনি। গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান এবং ধর্মীয় ভাবাবেগ তার এগিয়ে যাবার মূল কারণ বলে ভোটাররা মনে করছেন। নারী কর্মীরা এলাকায় নারী ভোটারদের কাছে গিয়ে শপথ করে নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তবে বিগত যেকোনো সময়ের নির্বাচনের চাইতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই আসনটিতে অগ্রসর বলে দায়িত্বশীল কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিএনপির একটি সূত্র বলছে তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের কারণেই জামায়াতের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেড়েছে। বিগত ৩/৪ বছরে বেশ কয়েকটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জামায়াতের হয়ে মাঠে সব সময় সরব রয়েছে বলে জামায়াতের ভোট বৃদ্ধির কারণ অনেকে মনে করছেন।
এদিকে আমার বাংলাদেশ পার্টি মনোনীত মতিবুল ইসলাম প্রচার-প্রচারণায় সরব হয়েছেন। আর সম্পর্কে ভোটারদের ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক কোন কমেন্ট এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠিন সমীকরণে বিএনপি এবং বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ভোটের রাজনীতিতে মাঠ পরিবর্তন হতে সময় লাগে না বলে বিএনপি’র একটি দায়িত্বশীল সূত্র মনে করছেন। তাদের অভিমত যদি অধিক সংখ্যক ভোটার ভোট কেন্দ্রে যান তাহলে এই আসনটি আবারও বিএনপির দখলে যাবে। এখন দেখার বিষয় কোন প্রার্থী ভোটের প্রতি মানুষকে কতটা আকৃষ্ট করতে পারে। আলোচনা সমালোচনা যাই থাক না কেন ভোটের রাজনীতিতে কে মুকুট ছিনিয়ে নিয়ে আসছেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Reporter Name 










