
ধামইরহাটে পুরোদমে শুরু হয়েছে ধান রোপণ: আশা ও আশঙ্কার দোলাচলে কৃষক
কারিমুল ইসলাম মন্ডল
ধামইরহাট উপজেলা প্রতিনিধি নওগাঁ ।
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার মাঠজুড়ে এখন ইরি / বোরো ধান রোপণের মহোৎসব শুরু হয়েছে। মাঘের কনকনে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্দমাক্ত মাঠে ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের কৃষাণ-কৃষাণীরা। তবে মাঠে কাজের উদ্দীপনা থাকলেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে কিছু বিদ্যমান সংকট।
মাঠের চিত্র ও ব্যস্ততা: সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, পানির সমতলে সবুজের আভা ছড়িয়ে পড়ছে মাইলের পর মাইল। নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা দলবদ্ধভাবে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তারা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন।
আশা ও শঙ্কার দোলাচল: মাঠে কাজ চললেও কৃষকদের মধ্যে রয়েছে নানা উদ্বেগ। বিশেষ করে এলাকাভেদে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকা এবং সেচ কাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিয়ে কৃষকরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, সময়মতো সার না পেলে এবং বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধি পেলে ধানগাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে, যা সরাসরি ফলনে প্রভাব ফেলবে।
নির্বাচন ও কৃষকের ভাবনা: এরই মধ্যে দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে নির্বাচন। রাজনৈতিক এই পরিস্থিতির কারণে সার ও তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ কৃষকদের মনে এক ধরনের সংশয় কাজ করছে। চাষিদের দাবি, ভোটের ডামাডোলের মধ্যেও যেন কৃষি উপকরণের বাজার স্থিতিশীল রাখা হয় এবং সেচের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
ধামইরহাটের কৃষকরা চান, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা কোনো সংকটের কালো ছায়া যেন তাদের মেহনতের ফসলে না পড়ে। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত সারের ঘাটতি মেটাতে ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা এ অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের।

Reporter Name 










