
ধামইরহাটে ধানের বাজারে ধস: সামনে নির্বাচন, ত্রিমুখী সংকটে দিশেহারা কৃষক
কারিমুল ইসলাম মন্ডল
ধামইরহাট উপজেলা প্রতিনিধি।
তারিখ: ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নওগাঁর ধামইরহাটে ধানের বাজারে হঠাৎ দরপতন শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতি মণ ধানে ১০০-১১০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে যাওয়ায় সাধারণ কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার শঙ্কা, যা কৃষকদের দুশ্চিন্তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাজার চিত্র: কয়েকদিনেই বড় ব্যবধান
স্থানীয় হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ (৪০ কেজি) ধান বিক্রি হচ্ছে ১১৩০ থেকে ১১৫০ টাকা দরে। অথচ কয়েক দিন আগেই একই ধান ১২৫০ থেকে ১২৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। হঠাৎ এই দরপতনে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
নির্বাচন নিয়ে নতুন আতঙ্ক
সামনে নির্বাচন হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দ্বিমুখী ভয় কাজ করছে। কৃষকদের আশঙ্কা:
পরিবহন সংকট: নির্বাচনের আগে বা পরে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হলে ধান পরিবহনে সমস্যা হতে পারে, যার ফলে পাইকাররা আসা বন্ধ করে দিতে পারেন।
নগদ টাকার অভাব: অস্থিরতার আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী বাজার থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন, ফলে বাজারে চাহিদাও কমে যাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা: নির্বাচনকালীন সময়ে সারের দাম বা কৃষি উপকরণের প্রাপ্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ায় কৃষকরা মজুদ ধান কম দামে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
মাঠ পর্যায়ের বক্তব্য
ধান বিক্রি করতে আসা একজন কৃষক বলেন, “একদিকে ধানের দাম কমছে, অন্যদিকে সামনে ভোট। যদি গন্ডগোল শুরু হয় তবে তো ধান বাজারে আনাই মুশকিল হয়ে যাবে। তাই বাধ্য হয়ে কম দামেই ধান বিক্রি করছি। লস হলেও হাতে কিছু নগদ টাকা রাখা দরকার।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের সুযোগ নিয়ে ফড়িয়া বা সিন্ডিকেট চক্র যেন বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু না হলে এবং সঠিক বাজার মনিটরিং না থাকলে সাধারণ কৃষকের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়বে।
ধানের এই নিম্নগতি রোধে এবং নির্বাচনের আগে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ধামইরহাটের সচেতন মহল।

Reporter Name 










