ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

পত্নীতলার অনন্য শিক্ষাগুরু সাদেক উদ্দিন মাস্টার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৫:৪০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০৩ বার পড়া হয়েছে

পত্নীতলার অনন্য শিক্ষাগুরু সাদেক উদ্দিন মাস্টার
(পত্নীতলা প্রতিনিধি)
সাদেক উদ্দিন মাস্টার। একটি নাম, একটি বিশেষ গুণের অধিকারী ব্যক্তিত্ব। খরাইল দফাদারপাড়ার বাসিন্দা। নিজ বাড়িতে প্রতিদিন সকালে ৩৫/৪০ জন শিক্ষার্থীকে ইংরেজির পাঠদান করে চলেছেন। ইংরেজির মৌলিক বিষয়গুলো অত্যন্ত যত্ন সহকারে পড়িয়ে থাকেন। ছাত্র যতো দুর্বল হোক না কেন তাঁর কাছে কিছুদিন পাঠ গ্রহণ করলে তার ইংরেজি দুর্বলতা কেটে যাবে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে নিজের অর্জিত জ্ঞান দ্বারা পাঠদান করিয়েছেন এই প্রবীণ শিক্ষক।
জানা যায়, ১৯৬৮ সালে খরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মধ্যদিয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। একই স্কুলে পাঠদান করে ২০০৭ সালে অবসরে যান। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অত্যন্ত যত্ন সহকারে ইংরেজির মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকেন। সরেজমিনে তাঁর টিউশনে গিয়ে দেখা যায়, তিনি চারজন শিক্ষার্থীকে একটি টেবিলের চারদিকে বসিয়ে নিজে ইংরেজির বিষয়গুলো দেখিয়ে দিচ্ছেন। কোন নির্দিষ্ট ঘন্টা নয় বরং যতক্ষণ একজন শিক্ষার্থী না বুঝতে পারে ততক্ষণ তিনি পাঠদান চালিয়ে যান। এভাবে ৬২বছর তিনি পাঠদান প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। তৃতীয় শ্রেণী থেকে শুরু করে মাস্টার্স পাশ করা শিক্ষার্থীরাও তার টিউশন স্কুলের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়া এই শিক্ষক হাজার হাজার শিক্ষক এবং সরকারি, বেসরকারি চাকুরিজীবী এবং ক্যাডেট তৈরিতে অবদান রেখেছেন। প্রতিদিন সকালে সচেতন অভিভাবকগণ তাদের সন্তানকে নিয়ে সাদেক স্যারের টিউশন স্কুলে আসেন। এমনই একজন অভিভাবক উপজেলার রসকনায় গ্রামের শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন “সৃষ্টিকর্তা স্যারকে বিশেষ গুণ দিয়ে তৈরি করেছেন। তার সংস্পর্শে আসলে যে কোন শিক্ষার্থীর ইংরেজি ভীতি দূর হবে এবং তার জীবনে কোন অসুবিধায় পড়তে হবে না। আমার মেয়েদের আশানুরুপ ফল আমি পেয়েছি।”
ব্যক্তিগত জীবনে ছয় কন্যা সন্তান এবং একমাত্র পুত্র সন্তানের জনক তিনি। সৃষ্টিকর্তা তার দুটি কন্যা সন্তান এবং পুত্র সন্তানকে জান্নাতের মেহমান করেছেন। ৮০ বছর বয়সেও তিনি নূয়ে পড়েন নি।
সাদেক উদ্দিন মাস্টার বলেন – “প্রত্যেক মানুষের মধ্যে সম্ভাবনা আছে। আমি শিক্ষক হিসেবে সে সম্ভাবনাকে আবিষ্কারে সহায়তা করে থাকি। যতক্ষণ সুস্থ্য আছি আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ৬২ বছরে যতোজনের হৃদয় স্পর্শ করেছি তাতে আমি খুশি।”
শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভীতি দূর করার জন্য সাদেক উদ্দিন মাস্টারের অঙ্গীকার এই এলাকায় শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের আলোর পথ দেখাচ্ছে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

পত্নীতলার অনন্য শিক্ষাগুরু সাদেক উদ্দিন মাস্টার

আপডেট সময় ০৫:৪০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পত্নীতলার অনন্য শিক্ষাগুরু সাদেক উদ্দিন মাস্টার
(পত্নীতলা প্রতিনিধি)
সাদেক উদ্দিন মাস্টার। একটি নাম, একটি বিশেষ গুণের অধিকারী ব্যক্তিত্ব। খরাইল দফাদারপাড়ার বাসিন্দা। নিজ বাড়িতে প্রতিদিন সকালে ৩৫/৪০ জন শিক্ষার্থীকে ইংরেজির পাঠদান করে চলেছেন। ইংরেজির মৌলিক বিষয়গুলো অত্যন্ত যত্ন সহকারে পড়িয়ে থাকেন। ছাত্র যতো দুর্বল হোক না কেন তাঁর কাছে কিছুদিন পাঠ গ্রহণ করলে তার ইংরেজি দুর্বলতা কেটে যাবে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে নিজের অর্জিত জ্ঞান দ্বারা পাঠদান করিয়েছেন এই প্রবীণ শিক্ষক।
জানা যায়, ১৯৬৮ সালে খরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মধ্যদিয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। একই স্কুলে পাঠদান করে ২০০৭ সালে অবসরে যান। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অত্যন্ত যত্ন সহকারে ইংরেজির মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকেন। সরেজমিনে তাঁর টিউশনে গিয়ে দেখা যায়, তিনি চারজন শিক্ষার্থীকে একটি টেবিলের চারদিকে বসিয়ে নিজে ইংরেজির বিষয়গুলো দেখিয়ে দিচ্ছেন। কোন নির্দিষ্ট ঘন্টা নয় বরং যতক্ষণ একজন শিক্ষার্থী না বুঝতে পারে ততক্ষণ তিনি পাঠদান চালিয়ে যান। এভাবে ৬২বছর তিনি পাঠদান প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। তৃতীয় শ্রেণী থেকে শুরু করে মাস্টার্স পাশ করা শিক্ষার্থীরাও তার টিউশন স্কুলের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়া এই শিক্ষক হাজার হাজার শিক্ষক এবং সরকারি, বেসরকারি চাকুরিজীবী এবং ক্যাডেট তৈরিতে অবদান রেখেছেন। প্রতিদিন সকালে সচেতন অভিভাবকগণ তাদের সন্তানকে নিয়ে সাদেক স্যারের টিউশন স্কুলে আসেন। এমনই একজন অভিভাবক উপজেলার রসকনায় গ্রামের শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন “সৃষ্টিকর্তা স্যারকে বিশেষ গুণ দিয়ে তৈরি করেছেন। তার সংস্পর্শে আসলে যে কোন শিক্ষার্থীর ইংরেজি ভীতি দূর হবে এবং তার জীবনে কোন অসুবিধায় পড়তে হবে না। আমার মেয়েদের আশানুরুপ ফল আমি পেয়েছি।”
ব্যক্তিগত জীবনে ছয় কন্যা সন্তান এবং একমাত্র পুত্র সন্তানের জনক তিনি। সৃষ্টিকর্তা তার দুটি কন্যা সন্তান এবং পুত্র সন্তানকে জান্নাতের মেহমান করেছেন। ৮০ বছর বয়সেও তিনি নূয়ে পড়েন নি।
সাদেক উদ্দিন মাস্টার বলেন – “প্রত্যেক মানুষের মধ্যে সম্ভাবনা আছে। আমি শিক্ষক হিসেবে সে সম্ভাবনাকে আবিষ্কারে সহায়তা করে থাকি। যতক্ষণ সুস্থ্য আছি আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ৬২ বছরে যতোজনের হৃদয় স্পর্শ করেছি তাতে আমি খুশি।”
শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভীতি দূর করার জন্য সাদেক উদ্দিন মাস্টারের অঙ্গীকার এই এলাকায় শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের আলোর পথ দেখাচ্ছে।