
নওগাঁ-২ আসনে অদ্ভুত রাজনৈতিক সমীকরণ: আনন্দ নাকি আক্ষেপ, দ্বিধায় কর্মীরা
কারিমুল ইসলাম মন্ডল
ধামইরহাট উপজেলা প্রতিনিধি নওগাঁ ।
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনের রাজনৈতিক আকাশে এখন এক অদ্ভুত হাওয়া বইছে। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), অথচ এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। এই বিপরীতমুখী ফলাফলে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত—উভয় পক্ষে সমর্থকদের মাঝেই বিরাজ করছে এক বিচিত্র ‘মহাসংকট’। আনন্দ প্রকাশ করবেন নাকি দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন, তা নিয়ে ধন্দে পড়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
এক কূল রক্ষা তো অন্য কূল হারানো
সাধারণত কেন্দ্রে যে দল ক্ষমতায় আসে, সেই দলের স্থানীয় প্রার্থীর বিজয় কর্মীদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করে। কিন্তু নওগাঁ-২ আসনের চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন:
জামায়াত শিবিরের দশা: দলের প্রার্থী জয়ী হওয়ায় তারা উচ্ছ্বসিত হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি সরকার গঠন করায় তারা পূর্ণাঙ্গভাবে ‘ক্ষমতার স্বাদ’ নিতে পারছেন না। সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা—এমপি নিজেদের হলেও প্রশাসন তো শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের (বিএনপি) নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
বিএনপি ও ছাত্রদলের দশা: কেন্দ্রে নিজেদের দল সরকার গঠন করায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। কিন্তু ঘরের মাঠে (নওগাঁ-২) নিজেদের প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ তারা নিতে পারছেন না। প্রতিবেশী জেলা বা আসনে আনন্দ মিছিল হলেও নিজ আসনে ‘পরাজিত’ হওয়ার গ্লানি কর্মীদের মনে খচখচ করছে।
‘হাসব না কাঁদব’ অবস্থা
স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক আড্ডাগুলোতে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়—কার পাল্লা বেশি ভারী? জামায়াত সমর্থকরা বলছেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমরা জিতেছি, কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে বিএনপি।” অন্যদিকে বিএনপি সমর্থকরা পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন, “রাষ্ট্র আমাদের, কিন্তু আসনটা হাতছাড়া হয়ে গেল।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই নিয়ে বেশ হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে একে দেখছেন “এক মুসিবত” হিসেবে, যেখানে খুশির দিনেও মন খুলে হাসার উপায় নেই দুই দলের কারোরই।
স্থানীয়দের ভাবনা
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, এই অদ্ভুত সমীকরণের ফলে এলাকার উন্নয়ন কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। কেন্দ্রের সাথে সমন্বয় করে জামায়াতী এমপি এলাকার কতটুকু উন্নয়ন করতে পারবেন, নাকি রাজনৈতিক রেষারেষিতে ধামইরহাট-পত্নীতলা পিছিয়ে পড়বে—সেই আশঙ্কাই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Reporter Name 










