
ধামইরহাটে খাসি বলে কুকুরের মাংস বিক্রি: জনতা ধাওয়া করলে কসাইরা পলাতক
কারিমুল ইসলাম মন্ডল
ধামইরহাট উপজেলা প্রতিনিধি।
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার মঙ্গলবাড়ী বাজারে ‘বিদেশি খাসির মাংস’ বলে কুকুরের মাংস বিক্রি করার এক চাঞ্চল্যকর ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার সকালে স্থানীয় জনতার তৎপরতায় বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে অভিযুক্ত দুই কসাই মাংস ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
যেভাবে ঘটনাটি প্রকাশ পায়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে মঙ্গলবাড়ী বাজারে দুলু ও এনতাজ নামের দুই ব্যক্তি ‘বিদেশি খাসির মাংস’ পরিচয় দিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে মাংস বিক্রি শুরু করেন। মাংসের গঠন ও চর্বির ধরণ দেখে স্থানীয় এক ক্রেতার সন্দেহ হয়। তিনি বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে অভিযুক্তরা আমতা-আমতা করতে থাকেন।
এক পর্যায়ে উপস্থিত জনতা মাংসের উৎস ও জবাই করা পশুর চামড়া দেখতে চাইলে কসাই দুলু ও এনতাজ অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জনতা তাদের ঘিরে ধরার চেষ্টা করে। অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত দুই কসাই জবাই করা কুকুরের অবশিষ্টাংশ ও সরঞ্জামাদি রেখেই বাজারের ভিড়ের মধ্যে দ্রুত চম্পট দেয়।
জবাই করা কুকুর উদ্ধার
কসাইরা পালিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা পাশের একটি বালতি ও আড়াল থেকে জবাই করা কুকুরের মাথা, পা এবং চামড়া উদ্ধার করে। এ সময় দেখা যায়, একটি দেশি কুকুরকে জবাই করে তার মাংস খাসির মাংস হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। উদ্ধারকৃত কুকুরের দেহাবশেষ দেখে বাজারে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ে।
”আমরা বিশ্বাস করে মাংস কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু কসাইরা যে এত নিচ হতে পারে তা ভাবিনি। প্রশাসনের উচিত এই পলাতক কসাইদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া।”
— বাজারে আসা এক ক্ষুব্ধ ক্রেতা
প্রশাসনের ভূমিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জব্দকৃত মাংস ও কুকুরের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পলাতক কসাই দুলু ও এনতাজকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে মঙ্গলবাড়ী বাজারসহ পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের জীবন ও ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে এমন জঘন্য ছিনিমিনি খেলার সাহস পাচ্ছে।

Reporter Name 










