
নওগাঁ ২ আসনে যে কারণে বিএনপি’র পরাজয়
(পত্নীতলা প্রতিনিধি)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁর ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল । বিগত ১৭ বছরের ক্ষমতার খরা কাটিয়ে গঠন করেছে নতুন সরকার। জন-আকাংখার বাংলাদেশ গঠনে ইতোমধ্যে ১৮০দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে নব-গঠিত সরকার। সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধান তারেক রহমান বেশ নমনীয় কায়দায় অগ্রসর হচ্ছেন। মন্ত্রী সভায় দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চা যারা করে আসছেন তাদের স্থান হয়েছে। জুলাইয়ের আকাংখা ব্যতিত নতুন সরকারের যাত্রাকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।
এসব ছাপিয়ে নওগাঁ ২ আসনের পত্নীতলা এবং ধামইরহাটে জনসাধারণের আগ্রহ এবং আলোচনার বিষয় এখন বিএনপি’র পরাজয়ের কারণ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি’র পত্নীতলা উপজেলা কমিট ‘র দুজন সিনিয়র নেতা বর্ণনা করেছেন দলটির পরাজয়ের কারণ। এই নিবন্ধনে কারণগুলো তুলে ধরা হলো।
জনমনে আতংক এবং আশংকার নাম নওগাঁ জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামিনা পারভীন পলি। তিনি বিএনপি মনোনীত সাংসদ সামসুজ্জোহা খানের সহধর্মীনি। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং মামলা বানিজ্যে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ ররেছে। দলের পরাজয়ের ক্ষেত্রে তাঁর পদচারণা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে নেতৃবৃন্দ্ব এবং ভোটাররা মনে করেন। বিএনপির এই সাংসদ পত্নী সুযোগ পেয়ে ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং উপজেলা কমিটিতে নিজেদের লোককে পদ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে যারা যোগ্য এবং ত্যাগী তাদের মূল্যায়ন হয়নি এমন আলোচনা এখন তীব্র হয়েছে। পত্নীতলা এবং ধামইরহাটে স্বচ্ছ নেতাদের বাদ দিয়ে চাঁদাবাজ এবং মাদকসেবীদের পদ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাচনকালিন সময়ে মাঠের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাচন ওয়াকিং গ্রুপ সক্রিয় ভুমিকা রাখে নাই এমনটি শোনা যায়। যাকে সমন্বয়ক করা হয়েছিল তার সাথে নেতাকর্মীদের খুববেশি সখ্যতা ছিল না বলে দায়িত্বশীল সূত্র মনে করেন। এছাড়াও জেলা বিএনপি’র কোন দায়িত্বশীল নেতা এই আসনের নির্বাচনে সহায়তা করেছেন বলেও শোনা যায়নি। নির্বাচনে যারা মাঠে কাজ করেছেন তাদের অনেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তারা যখন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তখন মানুষ বিষয়েটিকে নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগেও প্রভাব পড়েছে।
নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে নির্বাচনের আগ মুহুর্তে দলের দায়িত্বশীল নেতাদের বহিষ্কার করাকে কেউই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেননি। এর ফলে নেতা-কর্মী এবং জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে ফলে ভোটাধিকারে প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ। নির্বাচনে ইতোপর্বে বিএনপির ত্যাগী ও পদ না পাওয়ায় অভিমান করে অনেক নেতা সামসুজ্জোহা খানের থেকে দুরে সরে গিয়েছিলেন। তাদের ফিরিয়ে আনতে না পারাকে ভোটে পরাজয়ের অন্যতম কারণ বলে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ্ব অভিমত ব্যক্ত করেন। নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে ছাত্রদল, যুবদল যতোটা রাস্তায় সক্রিয় ছিল, ততোটা ভোটারদের নিকট ভোট প্রার্থনা বা ইশতেহার নিয়ে যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অভিযোগ রযেছে। অনেক সিনিয়র নেতা এককভাবে গ্রামে গ্রামে ভোট চেয়েছেন বলে শোনা যায়। এছাড়াও অনেক নেতাকর্মী প্রচার-প্রচারণায় জোহা খানকে সহযোগিতা করলেও ভোটাধিকার প্রয়োগে বিশ্বাসঘাতকতার আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দলের নারী কর্মীগণ নারী ভোটারদের নিকট গুরুত্ব দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগে আকর্ষিত করতে পারেননি বা খুব বেশি আন্তরিক ছিলেন না বলে নারী ভোটার এবং কর্মীদের অভিযোগ রয়েছে। এই নির্বাচনী আসনটিতে আদিবাসি এবং সংখ্যালঘু মানুষের বসবাস রয়েছে। তারা প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোটের দাবিদার। মামলা, হামলা, ভাংচুর এবং হয়রানির ভয়ে অনেক আদিবাসি এবং সংখ্যালঘূ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটাধিকার প্রয়োগে জামায়াতে ইসলামীকে নিরাপদ মনে করেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে। এমপি পত্নী নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে বাক্য বিনিময়ে শক্তির প্রয়োগ করেছেন বলে কোন কোন হিন্দু ভোটার অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রতি মানুষের আকাংখা থাকে তিনি বেকার, তরুণ, নারী এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির জন্য কি ইশতেহার দিচ্ছেন। সামসুজ্জোহা খানের স্থানীয় ইশতেহারে বিষয়গুলো স্পষ্ট না হওয়ায় তরুন, ভাসমান এবং নারী ভোটারদের আকর্ষন করতে পারেননি বলে অনেকে মত প্রকাশ করেন। এছাড়াও নির্বাচনে কর্মী-সমর্থকদের সাথে সমন্বয়হীনতা ছিল বলেও শোনা যায়।
উপরোক্ত কারণগুলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে এই আসনে পরাজয়ের প্রধান প্রধান নির্ণায়ক। এছাড়ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে হিন্দু, আদিবাসি এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকগণ ভোট দেবেন না এমন ধারণাও প্রার্থী এবং নেতাদের মধ্যে বিরাজ করছিল। ভারতের সীমান্ত ঘেষা এই আসনটিতে ৩ লক্ষ ৭২ হাজারেরও বেশি ভোটার রয়েছে। এখানে ২টি পৌরসভা এবং ১৮টি ইউনিয়ন রয়েছে। বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত এই আসনটি হাতছাড়া হওয়ায় নওগাঁ জেলা মন্ত্রী থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে বিভিন্ন জায়গায় জনসাধারণ বলাবলি করছেন।

Reporter Name 










