ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

আদমদীঘিতে মরিচ চাষীদের মুখে স্বপ্নের হাসি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:৩০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
  • ২৯৩ বার পড়া হয়েছে

আদমদিঘী বগুড়া প্রতিনিধি-

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় কাঁচা মরিচের বাজার হটাৎ চাঙ্গা হওয়ায় মহা খুশি চাষিরা। অল্প পরিমাণ জমিতে মরিচ চাষ করে সেই মরিচ বেচে লাখ টাকা ঘরে তুলছেন চাষিরা। বর্তমানে এ বাজারে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় কয়েক বছর পরে এমন দাম পাওয়ায় খুশি তারা।

চাষিরা বলছেন, মরিচগাছ রোপণের সময় অতিগরম, এরপর অতিবৃষ্টি- যার কারণে অধিকাংশ মরিচগাছই মরে গেছে। তুলনামূলক মরিচ উৎপাদন না হওয়ায় মূলত এমন বাজার। তবে তারা বলছেন, নতুন করে যারা মরিচ রোপণ করেছেন, এ মরিচ বাজারে উঠতে শুরু করলে দাম কমে আসবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আদমদীঘি উপজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ রোপণ করা হয়েছে। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে এ উপজেলার চাষিরা মরিচ রোপণ করেন। মরিচ রোপণের শুরুতে রোদ ও ভাপসা গরম দেখা দেয়। এরপর অতিবৃষ্টি, যার কারণে অধিকাংশ মরিচগাছ মরে গেছে। চাষিরা বলছেন, এ উপজেলায় তিন ভাগের এক ভাগ জমির মরিচগাছও বেঁচে নেই। অতিবৃষ্টির কারণে গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকায় ও মড়ক রোগে গাছগুলো মরে গেছে।

এ কারণে বাজারে মরিচের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। এ ছাড়া এ উপজেলায় অন্যান্য জেলা থেকে মরিচ নিয়ে এসে বাজারে বিক্রি করা হয়। সেই জেলাগুলোতেও মরিচের একই অবস্থা বিরাজ করায় বাজারে মরিচের দাম বেশি।

ছাতিয়ান গ্রাম এলাকার বাগবাড়ী গ্রামের মরিচ চাষী হাতেম জানান, তিনি ১৬ কাঠা জমিতে মরিচ রোপণ করেছিলেন। অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ১০ কাঠা জমির মরিচগাছ একেবারেই মরে গেছে। যে জমি থেকে সপ্তাহে ১০০ কেজি মরিচ ওঠার কথা, সেই জমি থেকে মাত্র ৪-৫ কেজি মরিচ উঠছে। মরিচের দাম যতই বেশি হোক, এতে তার খরচ উঠবে না বলে মনে করেন তিনি।

অন্তাহার গ্রামের চাষি মিজান বলেন, ‘আমরা চাষিরা সারা বছরই কোনো না কোন ফসল ফলাই। যখন কোনো একটা ফসলের দাম বাড়ে, তখন মানুষের মাথা খারাপ হয়ে যায়। যখন ৮ টাকা-১০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করি, তখন কেউ দেখে না। আর একটু দাম বেশি হয়ে গেলেই অস্থির হয়ে যায় সবাই। আমাদের মতো চাষিদের সারা জীবনই দুঃখ-কষ্টের মধ্যেই থাকতে হয়। তবে প্রতিটি কৃষিপণ্যের জন্য সরকার বাজারদর নির্ধারণ করে দিলে চাষি ও ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই স্বস্তিতে থাকবে।’

মরিচ চাষি সাদ্দাম জানান, ‘তিনি ১০ কাঠা জমিতে মরিচের গাছ রোপণ করেছে। তুলনামূলক গাছ ভালো না হলেও বাজারে মরিচের দাম বেশি। শনিবার দুর্গাপুর বাজারে তিনি ১৯০ টাকা কেজি দরে ৭ কেজি মরিচ বিক্রি করেন। যার কারণে কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন তিনি।’

আদমদীঘি বাজারের সবজির দোকানদার মাসুম জানান, ‘গত কয়েক দিন হলো হঠাৎ করে মরিচের দাম বেড়ে গেছে। আগে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ কেজি মরিচ বিক্রি করতাম। এখন পুরো দিনে ৫ কেজিও মরিচ বিক্রি হচ্ছে না। দাম বেশি হওয়ার কারণে মূলত মরিচ বিক্রিও কমে গেছে তার। তিনি আরো বলেন, যেসব ক্রেতা তার দোকানে আগে এক কেজি মরিচ কিনতেন, তারা এখন ১ পোয়া মরিচ কিনছেন।’

এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো রবিউল ইসলাম বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে অনেক মরিচগাছের গোড়ায় পানি জমে মরিচগাছগুলো মরে গেছে। যার কারণে বাজারে পর্যাপ্ত মরিচ নেই। এ কারণে মরিচের দাম বেশি। এ ছাড়া আমরা চাষিদের মরিচ চাষে সঠিক পরামর্শ প্রদানসহ মরিচ চাষে উদ্বুদ্ধ করছি।’

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

আদমদীঘিতে মরিচ চাষীদের মুখে স্বপ্নের হাসি

আপডেট সময় ০২:৩০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

আদমদিঘী বগুড়া প্রতিনিধি-

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় কাঁচা মরিচের বাজার হটাৎ চাঙ্গা হওয়ায় মহা খুশি চাষিরা। অল্প পরিমাণ জমিতে মরিচ চাষ করে সেই মরিচ বেচে লাখ টাকা ঘরে তুলছেন চাষিরা। বর্তমানে এ বাজারে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় কয়েক বছর পরে এমন দাম পাওয়ায় খুশি তারা।

চাষিরা বলছেন, মরিচগাছ রোপণের সময় অতিগরম, এরপর অতিবৃষ্টি- যার কারণে অধিকাংশ মরিচগাছই মরে গেছে। তুলনামূলক মরিচ উৎপাদন না হওয়ায় মূলত এমন বাজার। তবে তারা বলছেন, নতুন করে যারা মরিচ রোপণ করেছেন, এ মরিচ বাজারে উঠতে শুরু করলে দাম কমে আসবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আদমদীঘি উপজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ রোপণ করা হয়েছে। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে এ উপজেলার চাষিরা মরিচ রোপণ করেন। মরিচ রোপণের শুরুতে রোদ ও ভাপসা গরম দেখা দেয়। এরপর অতিবৃষ্টি, যার কারণে অধিকাংশ মরিচগাছ মরে গেছে। চাষিরা বলছেন, এ উপজেলায় তিন ভাগের এক ভাগ জমির মরিচগাছও বেঁচে নেই। অতিবৃষ্টির কারণে গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকায় ও মড়ক রোগে গাছগুলো মরে গেছে।

এ কারণে বাজারে মরিচের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। এ ছাড়া এ উপজেলায় অন্যান্য জেলা থেকে মরিচ নিয়ে এসে বাজারে বিক্রি করা হয়। সেই জেলাগুলোতেও মরিচের একই অবস্থা বিরাজ করায় বাজারে মরিচের দাম বেশি।

ছাতিয়ান গ্রাম এলাকার বাগবাড়ী গ্রামের মরিচ চাষী হাতেম জানান, তিনি ১৬ কাঠা জমিতে মরিচ রোপণ করেছিলেন। অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ১০ কাঠা জমির মরিচগাছ একেবারেই মরে গেছে। যে জমি থেকে সপ্তাহে ১০০ কেজি মরিচ ওঠার কথা, সেই জমি থেকে মাত্র ৪-৫ কেজি মরিচ উঠছে। মরিচের দাম যতই বেশি হোক, এতে তার খরচ উঠবে না বলে মনে করেন তিনি।

অন্তাহার গ্রামের চাষি মিজান বলেন, ‘আমরা চাষিরা সারা বছরই কোনো না কোন ফসল ফলাই। যখন কোনো একটা ফসলের দাম বাড়ে, তখন মানুষের মাথা খারাপ হয়ে যায়। যখন ৮ টাকা-১০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করি, তখন কেউ দেখে না। আর একটু দাম বেশি হয়ে গেলেই অস্থির হয়ে যায় সবাই। আমাদের মতো চাষিদের সারা জীবনই দুঃখ-কষ্টের মধ্যেই থাকতে হয়। তবে প্রতিটি কৃষিপণ্যের জন্য সরকার বাজারদর নির্ধারণ করে দিলে চাষি ও ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই স্বস্তিতে থাকবে।’

মরিচ চাষি সাদ্দাম জানান, ‘তিনি ১০ কাঠা জমিতে মরিচের গাছ রোপণ করেছে। তুলনামূলক গাছ ভালো না হলেও বাজারে মরিচের দাম বেশি। শনিবার দুর্গাপুর বাজারে তিনি ১৯০ টাকা কেজি দরে ৭ কেজি মরিচ বিক্রি করেন। যার কারণে কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন তিনি।’

আদমদীঘি বাজারের সবজির দোকানদার মাসুম জানান, ‘গত কয়েক দিন হলো হঠাৎ করে মরিচের দাম বেড়ে গেছে। আগে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ কেজি মরিচ বিক্রি করতাম। এখন পুরো দিনে ৫ কেজিও মরিচ বিক্রি হচ্ছে না। দাম বেশি হওয়ার কারণে মূলত মরিচ বিক্রিও কমে গেছে তার। তিনি আরো বলেন, যেসব ক্রেতা তার দোকানে আগে এক কেজি মরিচ কিনতেন, তারা এখন ১ পোয়া মরিচ কিনছেন।’

এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো রবিউল ইসলাম বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে অনেক মরিচগাছের গোড়ায় পানি জমে মরিচগাছগুলো মরে গেছে। যার কারণে বাজারে পর্যাপ্ত মরিচ নেই। এ কারণে মরিচের দাম বেশি। এ ছাড়া আমরা চাষিদের মরিচ চাষে সঠিক পরামর্শ প্রদানসহ মরিচ চাষে উদ্বুদ্ধ করছি।’