ঢাকা , শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে লোন আদায়ে পুলিশি হস্তক্ষেপ: হুমকি, চাপ ও রাজনৈতিক প্রভাব

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:২৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
  • ১৮৩ বার পড়া হয়েছে

মো: সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী:

রাজশাহীতে একটি বেসরকারি ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুলিশের বেআইনি হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে দামকুড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করছে, এই পুলিশি আচরণ শুধু প্রশাসনিক সীমা অতিক্রমই নয়, বরং একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনেরও স্পষ্ট উদাহরণ।

রাজপাড়া থানার ভাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব জানান, চার মাস আগে তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তারের নামে কাশিয়াডাঙ্গা থানার পাশে অবস্থিত বেসরকারি ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ‘রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন’ (RRF) থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নে পারিবারিক গরুর খামার ‘আপসোরা ডেইরি’ চালু ও সম্প্রসারণ।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা কিস্তি দেওয়ার কথা থাকলেও, পারিবারিক সংকট ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনটি কিস্তিতে যথাক্রমে ৮ হাজার, ১০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তাঁরা। এরপর প্রতিষ্ঠানটি কিস্তির নিয়ম ভঙ্গের দায়ে প্রথমে আয়েশা আক্তার এবং পরে জামিনদার শাকিলকে উকিল নোটিশ পাঠায়।

আইনি প্রক্রিয়া চলাকালেই প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো: রাকিব নামের এক ব্যক্তি কৌশলে দামকুড়া থানার এএসআই সুলতানা পারভীনের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চালান। অভিযোগ রয়েছে, সুলতানা পারভীন একাধিকবার বিপ্লবকে ফোন করে থানায় নয়, বরং জনবহুল সিতলাবাজারে গিয়ে দেখা করতে বলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে বিপ্লব থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং জানান, জমি বিক্রি করে ২-৩ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করবেন।

তবে এরপরও থেমে থাকেননি এএসআই সুলতানা। তিনি বিপ্লব ছাড়াও তাঁর স্ত্রী ও জামিনদারকেও একাধিকবার ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানী এক সাংবাদিক সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে স্বীকার করে বলেন, “লোন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আমার পরিচিত। আমি বুঝেছি এটা আমার থানার বিষয় না। আমার ফোন করা ঠিক হয়নি। আমি ভুল করেছি। ক্ষমা চাইছি।”

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তারা ১০–১২ দিন আগে দামকুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। কিন্তু বারবার অনুরোধের পরেও তারা অভিযোগের কোনো কপি সাংবাদিকদের দেখাতে পারেনি।

এদিকে দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি আজকেই বিষয়টি জেনেছি। মৌখিক বা অনুপযুক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো অফিসার যেন হস্তক্ষেপ না করে, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এএসআই পারভীন ওসির অনুমতি ছাড়াই এসব করছিলেন।”

এ ঘটনায় আরও উদ্বেগজনক দিক উঠে আসে, যে সংবাদটি যাতে প্রকাশ না হয়, সে জন্য স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা দামকুড়া থানা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক কনক নিজে সাংবাদিককে ফোন করে ‘সংবাদ না করার’ জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশি হস্তক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়া আছে কি না?

এ ধরণের ঘটনা শুধু আইনগত নয়, নৈতিকভাবে গুরুতর অপরাধের শামিল। একজন পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে নিজের থানার এখতিয়ার ছাড়িয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নাগরিককে ভয়ভীতি দেখাতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।

আর সেই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গণমাধ্যমকে চুপ করিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের জন্য এক গভীর হুমকি বলেও মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা বলছেন, এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে এটি ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে লোন আদায়ে পুলিশি হস্তক্ষেপ: হুমকি, চাপ ও রাজনৈতিক প্রভাব

আপডেট সময় ০৩:২৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

মো: সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী:

রাজশাহীতে একটি বেসরকারি ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুলিশের বেআইনি হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে দামকুড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করছে, এই পুলিশি আচরণ শুধু প্রশাসনিক সীমা অতিক্রমই নয়, বরং একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনেরও স্পষ্ট উদাহরণ।

রাজপাড়া থানার ভাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব জানান, চার মাস আগে তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তারের নামে কাশিয়াডাঙ্গা থানার পাশে অবস্থিত বেসরকারি ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ‘রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন’ (RRF) থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নে পারিবারিক গরুর খামার ‘আপসোরা ডেইরি’ চালু ও সম্প্রসারণ।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা কিস্তি দেওয়ার কথা থাকলেও, পারিবারিক সংকট ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনটি কিস্তিতে যথাক্রমে ৮ হাজার, ১০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তাঁরা। এরপর প্রতিষ্ঠানটি কিস্তির নিয়ম ভঙ্গের দায়ে প্রথমে আয়েশা আক্তার এবং পরে জামিনদার শাকিলকে উকিল নোটিশ পাঠায়।

আইনি প্রক্রিয়া চলাকালেই প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো: রাকিব নামের এক ব্যক্তি কৌশলে দামকুড়া থানার এএসআই সুলতানা পারভীনের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চালান। অভিযোগ রয়েছে, সুলতানা পারভীন একাধিকবার বিপ্লবকে ফোন করে থানায় নয়, বরং জনবহুল সিতলাবাজারে গিয়ে দেখা করতে বলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে বিপ্লব থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং জানান, জমি বিক্রি করে ২-৩ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করবেন।

তবে এরপরও থেমে থাকেননি এএসআই সুলতানা। তিনি বিপ্লব ছাড়াও তাঁর স্ত্রী ও জামিনদারকেও একাধিকবার ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানী এক সাংবাদিক সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে স্বীকার করে বলেন, “লোন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আমার পরিচিত। আমি বুঝেছি এটা আমার থানার বিষয় না। আমার ফোন করা ঠিক হয়নি। আমি ভুল করেছি। ক্ষমা চাইছি।”

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তারা ১০–১২ দিন আগে দামকুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। কিন্তু বারবার অনুরোধের পরেও তারা অভিযোগের কোনো কপি সাংবাদিকদের দেখাতে পারেনি।

এদিকে দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি আজকেই বিষয়টি জেনেছি। মৌখিক বা অনুপযুক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো অফিসার যেন হস্তক্ষেপ না করে, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এএসআই পারভীন ওসির অনুমতি ছাড়াই এসব করছিলেন।”

এ ঘটনায় আরও উদ্বেগজনক দিক উঠে আসে, যে সংবাদটি যাতে প্রকাশ না হয়, সে জন্য স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা দামকুড়া থানা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক কনক নিজে সাংবাদিককে ফোন করে ‘সংবাদ না করার’ জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশি হস্তক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়া আছে কি না?

এ ধরণের ঘটনা শুধু আইনগত নয়, নৈতিকভাবে গুরুতর অপরাধের শামিল। একজন পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে নিজের থানার এখতিয়ার ছাড়িয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নাগরিককে ভয়ভীতি দেখাতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।

আর সেই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গণমাধ্যমকে চুপ করিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের জন্য এক গভীর হুমকি বলেও মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা বলছেন, এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে এটি ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।