ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস নওগাঁর বদলগাছীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

অপছন্দের প্রতিষ্ঠানে পরিক্ষা করানোয় গর্ভবতী এক নারীর চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দিলেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক।

 

অভিশেখ চন্দ্র রায়, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

অপছন্দের প্রতিষ্ঠানে পরিক্ষা করানোয় গর্ভবতী এক নারীর চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ আইরিস রহমানের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৯ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ওই রোগীর সাথে এমন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
ভুক্তভোগী প্রসূতি নারীর নাম সোহাগী আক্তার। তিনি ঠাকুরগাঁ সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নে বাসিন্দা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের স্ত্রী। বর্তমান তিনি ‍ওই হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অপছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি ল্যাব থেকে পরীক্ষা করানোর কারণেই চিকিৎসকের এমন অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীর স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জানান, শুক্রবার তার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। দুর্ভাগ্যবশত রাতেই তার স্ত্রীর গর্ভের সন্তানটি মারা যায়।
পরে ককর্তব্যরত চিকিৎসক পর্যবেক্ষণ শেষে কিছু টেস্ট দেন। তিনি বাহিরের একটি ল্যাব থেকে টেস্টগুলো সম্পন্ন করেন। এতেই বাধে বিপত্তি। গর্ভে সন্তান মারা যাওয়ার পর আমার স্ত্রীর শরীর খুব দুর্বল হয়ে পরে। তার রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে রক্ত দেওয়া হচ্ছিল। স্যালাইনও চলছিল। এরই মধ্যে শনিবার সকালে গাইনি বিভাগের চিকিৎসক মোছা: আইরিস রহমান রাউন্ডে আসেন। তিনি রোগীর ফাইল হাতে নিয়ে দেখেন, হাসপাতালের পাশেই ‘নিউক্লিয়ার ল্যাব’ থেকে কিছু টেস্ট করিয়েছেন । তা দেখেই তিনি রেগে আগুন হয়ে যান।
জাহাঙ্গীর ডাক্তারের বরাদ দিয়ে বলেন, ‘কিয়ামত হলেও এই রোগীর এখানে কোন চিকিৎসা হবে না। আমাদের অপরাধ আমরা টেস্টগুলো বাহিরের ল্যাবে করিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, ‘‘টেস্টগুলো হাতে নিয়ে ডাক্তার তখন চিৎকার করে বলতে থাকেন এই রিপোর্ট কে করিয়েছে? এই রোগীর চিকিৎসা এখানে হবে না।’ এই কথা বলেই তিনি আমার স্ত্রীর হাতে লাগানো রক্তের লাইন, স্যালাইনের ক্যানুলা টেনে খুলে ফেলেন। আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি, রাতে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ থাকায় এবং অন্য কোনো উপায় না পেয়ে আমরা বাইরে থেকে পরীক্ষাগুলো করাতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু তিনি কোনো কথাই শোনেননি।
এই যদি হয় চিকিৎসকের ব্যবহার তাহলে সরকারি হাসপাতালে তার কাছ থেকে সেবা পাবে কিভাবে। বিষয়টি খুতিয়ে তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধতনদের কাছে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন রোগীর স্বজনরা।
পাশে থাকা রোগী ও স্বজনরা জানান, ‘আমরা সবাই দেখলাম ডাক্তার এসে তাদের সঙ্গে খুব রাগারাগি করলেন। রোগীর চিকিৎসা বন্ধ করে দিলেন তিনি। কারণটা নাকি বাইরের রিপোর্ট। একজন ডাক্তার এমনটা করতে পারেন, তা আমাদের ধারণারও বাইরে। তারা আরো বলেন এর আগেও এই ডাক্তারের বিরুদ্ধে পেপারে অনেক রিপোর্ট ছাপা হয়েছে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি বলেই রোগীর সাথে খারাপ আচরনের মাত্রা বেড়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। একই সাথে এ হাসপাতালে তিনি ছাড়া স্থানীয় চিকিৎসকরা বছরের পর বছর চাকুরি করায় সিন্ডিকেট করছে। বদলি হওয়াটাও জরুরি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক মোছা. আইরিস রহমান বলেন, এ বিষয়ে কোন কিছুই বলতে রাজি হয়নি তিনি।
আর এ বিষয়ে সিভিল সার্জন আনিছুর রহমান জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে খতিয়ে দেখে । ব্যবস্থা গ্রহণ নেয়া হবে।

#হাসপাতাল #চিকিৎসা #ঠাকুরগাঁও

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত

অপছন্দের প্রতিষ্ঠানে পরিক্ষা করানোয় গর্ভবতী এক নারীর চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দিলেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক।

আপডেট সময় ০৫:১৬:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

 

অভিশেখ চন্দ্র রায়, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

অপছন্দের প্রতিষ্ঠানে পরিক্ষা করানোয় গর্ভবতী এক নারীর চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ আইরিস রহমানের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৯ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ওই রোগীর সাথে এমন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
ভুক্তভোগী প্রসূতি নারীর নাম সোহাগী আক্তার। তিনি ঠাকুরগাঁ সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নে বাসিন্দা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের স্ত্রী। বর্তমান তিনি ‍ওই হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অপছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি ল্যাব থেকে পরীক্ষা করানোর কারণেই চিকিৎসকের এমন অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীর স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জানান, শুক্রবার তার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। দুর্ভাগ্যবশত রাতেই তার স্ত্রীর গর্ভের সন্তানটি মারা যায়।
পরে ককর্তব্যরত চিকিৎসক পর্যবেক্ষণ শেষে কিছু টেস্ট দেন। তিনি বাহিরের একটি ল্যাব থেকে টেস্টগুলো সম্পন্ন করেন। এতেই বাধে বিপত্তি। গর্ভে সন্তান মারা যাওয়ার পর আমার স্ত্রীর শরীর খুব দুর্বল হয়ে পরে। তার রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে রক্ত দেওয়া হচ্ছিল। স্যালাইনও চলছিল। এরই মধ্যে শনিবার সকালে গাইনি বিভাগের চিকিৎসক মোছা: আইরিস রহমান রাউন্ডে আসেন। তিনি রোগীর ফাইল হাতে নিয়ে দেখেন, হাসপাতালের পাশেই ‘নিউক্লিয়ার ল্যাব’ থেকে কিছু টেস্ট করিয়েছেন । তা দেখেই তিনি রেগে আগুন হয়ে যান।
জাহাঙ্গীর ডাক্তারের বরাদ দিয়ে বলেন, ‘কিয়ামত হলেও এই রোগীর এখানে কোন চিকিৎসা হবে না। আমাদের অপরাধ আমরা টেস্টগুলো বাহিরের ল্যাবে করিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, ‘‘টেস্টগুলো হাতে নিয়ে ডাক্তার তখন চিৎকার করে বলতে থাকেন এই রিপোর্ট কে করিয়েছে? এই রোগীর চিকিৎসা এখানে হবে না।’ এই কথা বলেই তিনি আমার স্ত্রীর হাতে লাগানো রক্তের লাইন, স্যালাইনের ক্যানুলা টেনে খুলে ফেলেন। আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি, রাতে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ থাকায় এবং অন্য কোনো উপায় না পেয়ে আমরা বাইরে থেকে পরীক্ষাগুলো করাতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু তিনি কোনো কথাই শোনেননি।
এই যদি হয় চিকিৎসকের ব্যবহার তাহলে সরকারি হাসপাতালে তার কাছ থেকে সেবা পাবে কিভাবে। বিষয়টি খুতিয়ে তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধতনদের কাছে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন রোগীর স্বজনরা।
পাশে থাকা রোগী ও স্বজনরা জানান, ‘আমরা সবাই দেখলাম ডাক্তার এসে তাদের সঙ্গে খুব রাগারাগি করলেন। রোগীর চিকিৎসা বন্ধ করে দিলেন তিনি। কারণটা নাকি বাইরের রিপোর্ট। একজন ডাক্তার এমনটা করতে পারেন, তা আমাদের ধারণারও বাইরে। তারা আরো বলেন এর আগেও এই ডাক্তারের বিরুদ্ধে পেপারে অনেক রিপোর্ট ছাপা হয়েছে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি বলেই রোগীর সাথে খারাপ আচরনের মাত্রা বেড়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। একই সাথে এ হাসপাতালে তিনি ছাড়া স্থানীয় চিকিৎসকরা বছরের পর বছর চাকুরি করায় সিন্ডিকেট করছে। বদলি হওয়াটাও জরুরি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক মোছা. আইরিস রহমান বলেন, এ বিষয়ে কোন কিছুই বলতে রাজি হয়নি তিনি।
আর এ বিষয়ে সিভিল সার্জন আনিছুর রহমান জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে খতিয়ে দেখে । ব্যবস্থা গ্রহণ নেয়া হবে।

#হাসপাতাল #চিকিৎসা #ঠাকুরগাঁও