
মো.রোকন মিয়া (কুড়িগ্রাম জেলা) প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি মাদরাসায় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের খসড়া বা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না করেই গোপনে কমিটি গঠন করেছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতাকে ক্ষুন্ন করে ফ্যাসিস্ট আমলের ধারাবাহিকতার বহিপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার মাটিয়াল আল মোজাদ্দেদীয়া দ্বিনী দাখিল মাদরাসায় কমিটি গঠনের পূর্বে নিয়ম অনুযায়ী এলাকায় মাইকিং কিংবা নোটিশ টাঙানোর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে অধিকাংশ অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এতে করে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, কারা এই কমিটির সদস্য হয়েছেন এবং কীভাবে তাদের নির্বাচন করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মাদরাসা সুপার মাওলানা আইয়ুব আলী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একতরফাভাবে কমিটি গঠন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপির একটি প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সুপার দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে নানান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এমনকি অভিভাবক তালিকায় নাম না দিতে তিনি তার পছন্দের বাইরে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি না করানোর অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলে একাধীক অভিভাবক জানান। ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে অভিযোগ দাখিলের পর প্রায় ১ মাস পেড়িয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হয়ে উল্টো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদরাসা সুপার ও তার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকরা। অভিযোগকারীদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে ইতোমধ্যে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মাদরাসা কমিটি গঠনের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে পুনরায় স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কমিটি গঠন করতে হবে। মিজানুর রহমান নামক একজন অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে এই মাদরাসায় পড়ে। অথচ আমি জানতামই না যে কমিটি গঠন হচ্ছে। কোনো তালিকা দেখিনি, কোনো নোটিশ পাইনি। এটা কি ধরণের স্বচ্ছতা? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, আমরা শিক্ষকরা অনেক সময় চাপে থাকি। সুপার সাহেবের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু বললে চাকরি নিয়ে শঙ্কা সহ অযাচিত হয়রানির শিকার হতে হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ মো. আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Reporter Name 
















