
চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের নীতিহীন অপরাজনীতির শিকার কৈখালীবাসী
রাকিবুল হাসান (শ্যামনগর)সাতক্ষীরাঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালীতে রাজনীতি পরিণত হয়েছে অনেকটা নীতিহীনতায় আর স্বজনপ্রীতি যাকে অপরাজনীতি বলে।কৈখালীতে এই অপরাজনীতির কারণে দুর্বৃত্তায়ণ ঘটছে দিনের পর দিন,বেড়ে উঠছে দুর্বৃত্তরা। রাজনীতিকে চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম ব্যবহার করছে অপরাধ-দুর্নীতির হাতিয়ার হিসেবে,নানা বাহিনী গড়ে মাদক ব্যবসা, লুটতরাজ, টেন্ডারবাজি,চাঁদাবাজি,এমনকি ধর্ষণ-গণধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে,রাজনৌতিক নামে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নানা স্বার্থে এসব দুর্বৃত্তের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে,তাদের এই আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে জন্ম নিয়েছে বহুল আলোচিত সমোলোচিত জনপ্রিয়তার সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম। কিছুদিন পর পরই নানা ঘটনায় ইস্যু হয়ে আসে অপরাজনীতির বলি হওয়া এই কৈখালীর গাঁ ফাটা পা ফাটা দিনমজুর...
রাকিবুল হাসান (শ্যামনগর)সাতক্ষীরাঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালীতে রাজনীতি পরিণত হয়েছে অনেকটা নীতিহীনতায় আর স্বজনপ্রীতি যাকে অপরাজনীতি বলে।কৈখালীতে এই অপরাজনীতির কারণে দুর্বৃত্তায়ণ ঘটছে দিনের পর দিন,বেড়ে উঠছে দুর্বৃত্তরা। রাজনীতিকে চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম ব্যবহার করছে অপরাধ-দুর্নীতির হাতিয়ার হিসেবে,নানা বাহিনী গড়ে মাদক ব্যবসা, লুটতরাজ, টেন্ডারবাজি,চাঁদাবাজি,এমনকি ধর্ষণ-গণধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে,রাজনৌতিক নামে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নানা স্বার্থে এসব দুর্বৃত্তের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে,তাদের এই আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে জন্ম নিয়েছে বহুল আলোচিত সমোলোচিত জনপ্রিয়তার সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম।
কিছুদিন পর পরই নানা ঘটনায় ইস্যু হয়ে আসে অপরাজনীতির বলি হওয়া এই কৈখালীর গাঁ ফাটা পা ফাটা দিনমজুর দারিদ্র্য অসহায় মানুষগুলো।সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত কৈখালী এস আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাসারের আত্মাহত্যার এই অপরাজনীতির আখড়া থেকেই,দেশের সবাই জানে, নিয়োগ ব্যাণিজ্য,নিয়োগ পরীক্ষার নামে জালিয়াতির কারণে সামনে কৈখালী এস আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম।
কৈখালী ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী হওয়ায় মানবপাচার করার কারণে মাদক চোরাকারবারির নাম আসে অনেকেরই। কৈখালীর জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান মেম্বারের নাম ও আসে, চোরাকারবার আর দূর্নীতি বন্ধ হয় না।তাদের নিয়ন্ত্রণের যেন কোনো ব্যবস্থা নেই চলমান রাজনীতি ও প্রশাসনের।
ঘটনাচক্রে চোরাকারবারিরা ধরা পড়লেও কেউ আর তাদের দায় নিতে চায় না,প্রশ্রদাতা আর সেল্ফি তোলা নেতারা সাইড কাটেন,যেন অপরাধীকে তারা চিনেনই না।প্রশ্ন হচ্ছে, কেন তারা এসব অপকর্মে জড়িয়েছে? সেটাও আরেক রাজনীতি। নষ্টেরও নষ্ট দিক। অপরাজনীতরি কারণে এরা ধরা পড়লেও, এদের নেপথ্যের শক্তি গড়ে তোলে অন্য কাউকে।তাত্ত্বিক রাজনীতির কথা এবং সংজ্ঞা অনেক থাকলেও বাস্তবে আমাদের কৈখালীর রাজনীতির চিত্র অনেকটা এরকমই।
আইনের শাসন ও সুরাজনীতি না থাকায় অপরাজনীতির কারণে বেড়ে ওঠা চেয়ারম্যান রহিম ও তার দোসর অপরাধীরা। অভিযুক্ত শ্যামনগর উপজেলার ৫ নং কৈখালী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম,নারী ও শিশু পাচার,চেকের মামলা,উপজেলা ফুড অফিসারের উপর হামলার অভিযোগ,ধর্ষণ মামলা,আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা,মার্ডার মামলা,পুলিশ এসল্ট পুলিশের উপর হামলা,সাংবাদিকের উপর হামলা সাংবাদিকের মোবাইল ছিনতাই,সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, দেশদ্রোহী নাশকতার অভিযোগ সহ বিদেশ পাঠানোর নাম করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের টাকা পয়সা লুটে সাধারণত নারী কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা ও ঘটিয়েছে। এর বাহিরে প্রায় অর্ধশত মামলা আছে তার নামে,অপরাজনীতির শিকার হয়ে কৈখালী এস আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাসার আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া তার দলের ও তার অনুসারীদের কল রেকর্ড শুনে ধরে নেয়া যায় প্রকৃত ঘটনার সব কথা সব প্ল্যান চেয়ারম্যান রহিমের। এড়িয়ে গেছে অনেক কিছু। তারপরও যতটুকু বলেছে, তা যেকোন মানুষেরই স্তম্ভিত হওয়ার কথা। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সব আসামি রাজনীতিতে জড়িত,আওয়ামী, বিএনপি, জামায়াত, মুক্তিযুদ্ধোর সন্তান সবাই জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মূল ও অঙ্গ দলের নেতারা চেয়ারম্যান রহিমের নিয়ন্ত্রক বলে মনে করেন কৈখালীর অনেকেই।
বিগত আওয়ামীলীগের সময় এসমস্থ ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সব মামলা থেকে খালাস পেয়ে যায় কৈখালীর চেয়ারম্যান রহিম। তৎকালীন আওয়ামী শাসনামলে কৈখালীর এস আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক শেখ মোমিন আলীর ছেলে আওয়ামী নেতা শেখ আলী মোর্তোজা ও এমপি জগলুল হায়দারের দলের কিছু নেতা নামক সন্ত্রাসীদের ছায়ায় কৈখালীবাসদের বেপরোয়া অপকর্মে আতঙ্কিত করে রাখছিলেন চেয়ারম্যান রহিম।
মাদক চোরাকারবারি খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিল শেখ আলী মোর্তোজা যাহা চেয়ারম্যান রহিম ব্যবহার করে আসছে এছাড়া চেয়ারম্যান রহিমের সহযোগী কিছু নেতা-কর্মী,তবে মাথার ওপর একাধিক গডফাদার থাকায় অপকর্মের পর দলীয় প্রভাবে পার পেয়ে যায় তারা,ফলে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীরা চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম। গোটা দেশেই চলছে এই শ্রেণির অপকর্ম।
বর্তমানে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুশাসন, নারী অধিকার, মানবাধিকার ইত্যাদি নিয়ে সোচ্চার থাকা চেতনার কান্ডারিরা এসব নিয়ে এখন মোটামুটি চুপই বলা যায়।তারা এসব নিয়ে কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে নাকি দলকানা সুবিদাবাদীর মুখোশ উম্মোচিত হয়ে যাওয়ার ভয় করছেন, তা বোধগম্য নয়। সার্বিক বিবেচনায়, রাজনীতিতে নীতি-মূল্যবোধের অবক্ষয় সুস্থ চিন্তা চেতনায় আর কতো ধস নামাবে? এ প্রশ্ন এখন সচেতন ও বিবেকবনদের।
পরিস্থিতির অনিবার্যতায় তারাও খামোশ হয়ে রয়েছে। একদিকে তাদের নীরবতা, আরেকদিকে দুর্বৃত্তদের উত্থানের ফাঁকে দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে বহুল প্রচারিত হচ্ছে চেয়ারম্যান রহিম এখন জামায়েত ইসলামী সমর্থিত বলে।এসব আড়াল করতে উপস্থাপন করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে নিজ দলীয় সাবেক চেয়ারম্যান ইউনিয়ন সভাপতি জিএম রেজাউল করিমের সাথে বিভিন্ন অবৈধ কালোবাজারির কালো টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দন্ড পাল্টা পাল্টি মামলা বৃদ্ধির যত তথ্য।
সাধারণ মানুষের জীবনমান, নিরাপত্তা, নীতি-নৈতিকতার অবনমন যেন কোনো বিষয়ই নয়। লোভ-লালসা ও ভোগ-বিলাস, বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা, সততা ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, অধঃপতন এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার অভাব দীর্ঘদিন ধরে জেঁকে বসে আছে। এসব শিকড় জন্ম দিচ্ছে নিত্যনতুন নৈতিক, মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অপরাধ। এসব অপরাধ ধ্বংস করছে সততা, নীতিনৈতিকতা ও মানবতাবোধ। শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ, আইনের শাসনের দুর্বলতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বাড়িয়ে দিচ্ছে অপরাধপ্রবণতা। দুর্বল করে দিচ্ছে সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধকে। সুরাজনীতিকে নির্বাসনে পাঠাচ্ছে। রাজনীতির অর্থ পাল্টে দিচ্ছে।
নৈতিকতাবোধ কেন হারিয়ে যাচ্ছে? কৈখালীর কেন এই দুর্দশা? কেন চলছে সরকারি ত্রাণ বিতরণে স্বজনপ্রীতি?কেন গড়ে উঠছে না ন্যায়ভিত্তিক ন্যায্য সমাজ? কারণ খুঁজতে গেলে সামনে আসে সমাজব্যবস্থা ও রাজনীতির প্রশ্ন।এসব সমস্যার সমাধান করতে হলে এগুলোর শিকড় চিহ্নিত করে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন কৈখালী সহ শ্যামনগর উপজেলার সর্বপ্রান্তের সচেতন নাগরিকেরা।
সরেজমিনে কৈখালী বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গিয়ে জানা যায়, চেয়ারম্যান শেখ আবদুর রহিম বিগত আওয়ামী সময় ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিলেন। প্রধান শিক্ষক মো. আবুল বাসার হত্যাকা-ে তার মদদ, সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অনুদান ও কার্ড বিতরণে স্বজনপ্রীতি, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং তথ্যসেবায় জনগণকে হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে অনৈতিক কর্মকা-েও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
কৈখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আজাদ খোকন বলেন, শেখ আবদুর রহিম বিগত সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করেছেন। সরকারি ঘর বরাদ্দ,পানি সরবরাহের ড্রাম এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নামে তিনি লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া, তার বিরুদ্ধে নারীদের ওপর যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের কারণে এলাকাবাসীর মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
কৈখালী ইউপি সদস্য আজগর আলী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কাজে তার অব্যবস্থাপনা এবং স্বজনপ্রীতির কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে, সরকারি অনুদান ও ভিজিএফ কার্ড বিতরণে স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ অনেক পুরোনো।
চেয়ারম্যান তার ঘনিষ্ঠ লোকজনকে এসব সুবিধা পাইয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
কৈখালী প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার সহসভাপতি আক্তার হোসেন বলেন, শেখ আবদুর রহিমের অপরাধ এতটাই গভীর যে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমাদের সমাজের নৈতিক ভিত্তি ধসে যাবে। একজন হত্যাকারী, দুর্নীতিবাজ এবং নারী নিপীড়নকারীর হাতে ইউনিয়নের দায়িত্ব থাকতে পারে না। আমরা তাকে আর চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই না।
বছরের পর বছর বা যুগ যুগ ধরে পুঞ্জীভ‚ত সমস্যা বহন করে চলার পরিণতি ভয়াবহ হয়। একপেশে রাজনীতি ও রাজনীতিকদের স্বার্থবাদী নীতি চলতে থাকলে দেশ ও জাতির ভবিষ্যত অন্ধকারে নিপতিত হবে জেলার শ্যামনগর উপজেলার ৫নং কৈখালী ইউনিয়ন।নাহলে যতই উন্নয়ন করা হোক না কেন, সব অর্থহীন হয়ে পড়বে কৈখালীতে।কাজেই সময় থাকতে কৈখালীতে সুরাজনীতি, সুশাসন, আইনের শাসন এবং মানুষের অধিকার নিশ্চত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
কৈখালী সহ শ্যামনগর উপজেলার সচেতন মহলের সাধারণ মানুষেরা বলেন একজন দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানকে দায়িত্বে রাখা সম্ভব নয়। শেখ আবদুর রহিমের মতো একজন অপরাধীকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন, যাতে করে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এমন অপরাধ করতে সাহস না পায়।
এ বিষয়ে কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবদুর রহিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নবাসীর কাছে ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করছে।
সাধারণ মানুষের চাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী সকলের।


Reporter Name 














