
আর.জে রাফি কক্সবাজার উখিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ হামলার ১৩ বছর পার হলেও বিচার প্রক্রিয়া এখনো গড়িমসিতে আটকে আছে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় শত বছরের পুরোনো ১২টি বৌদ্ধ বিহার, অমূল্য বৌদ্ধমূর্তি ও অন্তত ৩০টি বসতঘর পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর পুলিশ ১৯টি মামলা দায়ের করে; ৩৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫–১৬ হাজার লোককে আসামি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ১৮টি মামলাই এখনো আদালতে ঝুলে আছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, রাষ্ট্র চাইলে ভিডিও–ছবি ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করেই দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব। তাদের অভিযোগ, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকৃত হামলাকারীদের অনেককে আড়াল করা হয়েছে, অথচ বিএনপি–জামায়াতের নেতাকর্মীসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষকে মামলায় আসামি করা হয়েছিল। এ কারণে সাক্ষীরাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
রামু কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ যুব পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপুল বড়ুয়া বলেন, “দুর্বৃত্তদের কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায় নেই। তারা অপরাধী। তাদের বিচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে দেখাতে হবে—দুর্বৃত্তায়ন বরদাস্ত করা হবে না।”
সেই রাতের ঘটনা স্মরণ করে রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের অধ্যক্ষ শীলপ্রিয় থের বলেন, “শত শত বছরের পুরোনো বিহার ও বুদ্ধমূর্তি ধ্বংসের ক্ষতি পূরণ সম্ভব নয়। ঘটনাটি মনে পড়লেই এখনও বুক হুহু করে কেঁদে ওঠে।”
কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু মনে করেন, বিচার প্রক্রিয়ার বিলম্ব আসলে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফল। তার ভাষায়, “শুরু থেকেই ঘটনাটি রাজনীতির ঘেরে আটকে গেছে। মনে হচ্ছে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।”
অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান, “মামলাগুলোতে আসামির সংখ্যা অনেক বেশি। আর সাক্ষীরা হাজির হচ্ছেন না। এটাই দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম কারণ।”
১৩ বছর পেরিয়েও যখন কোনো অপরাধী শাস্তির মুখোমুখি হয়নি, তখন ক্ষতিগ্রস্তরা হতাশা প্রকাশ করে বলছেন—এটি কেবল ন্যায়বিচার বিলম্বিত করছে না, বরং ভবিষ্যতে নতুন করে দুর্বৃত্তায়নের পথও প্রশস্ত করছে।

Reporter Name 















