ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস নওগাঁর বদলগাছীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই তৈরি হচ্ছে খাবার, নেই পরিবেশের ছাড়পত্র,।

 

ঈশ্বরদী(পাবনা) প্রতিনিধি: মোঃ রাকিব বিশ্বাস

পাবনার ঈশ্বরদীতে সাথী বেকারি নামে একটি কারখানায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন রকমের বেকারি খাদ্যপন্য।

এসব বেকারি খাদ্যপন্য(কেক, পাউরুটি, বিস্কুট) উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে মানবশরীরের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশ্রিত রং ক্রিম। শুধু তাই নয় উৎপাদিত এসব খাবারগুলো সংরক্ষনেও রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা।

এতে রয়ে যাচ্ছে ব্যাপক মানব স্বাস্থঝুঁকি। এদিকে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কারখানা স্থাপন ও সেই কারখানার বিকট শব্দ ও কালো ধোঁয়াই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে কারখানাটি।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঈশ্বরদী পৌর শহরের পূর্বটেংরি জিগাতলায় সরেজমিনে গিয়ে ওই কারখানায় ঢুকেই চোখে পড়ে নোংরা পরিবেশ, মেঝেতে ছড়ানো ময়লা জ্বালানি কাঠ-খড়ি, পুরনো পোড়া তেল ও পামওয়েল তেলের ড্রাম। শুধু তাই নয় পচেঁ যাওয়া কাঁচামালও মাছের খাদ্য হিসেবে কারখানার ভিতরেই রাখা হয়েছে সংরক্ষণে।

এমন অবস্থার কথা জানতে চাইলে কর্মীদের আসে নানা অযুহাত। শুধু তেল নয়, স্বাস্থ্যবিধি মানারও কোনো বালাই নেই। খোলা হাতে, শরীরে কোন সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই বানানো হচ্ছে এসব খাদ্যপণ্য। তৈরি করা খাবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে রয়েছে খোলা জায়গায়। ।আইন অনুযায়ী, একটি বেকারি কারখানা চালাতে বিএসটিআই অনুমোদন, সেনেটারি লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন।

জানা গেছে, সাথী বেকারী নামে এ কারখানাটির নেই কোন পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, নেই সেনেটারি লাইসেন্সও। বিএসটিআই অনুমোদন ও ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও তা দীর্ঘদিন মেয়াদোত্তীর্ন।নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন কারখানা চালানো আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়াও কারখানার বিকট শব্দ ও কালো ধোঁয়াই অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি।

নোংরা পরিবেশে তৈরিকৃত এসব খাবার শিশুরা খেয়ে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির বিষয়ে জানতে কারখানাটির দায়িত্বে থাকা মোঃ রোহান বলেন, যেখানে খাবার তৈরি হচ্ছে সেখানে কোন নোংরা পরিবেশ নেই।

আর বস্তায় ভরে রাখা পঁচা জিনিসপত্র মাছের খাদ্য হিসেবে রাখা হয়েছে। বস্তাগুলোতো গেটের সামনে রাখা হয়েছে তাতে খাবার তৈরিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না বলে তিনি ক্যামেরার সামনে থেকে সরে যান।

খালি শরীরে কারখানায় কাজ করছিলেন শ্রমিক মোঃ বিশাল। সে জানায়, প্রচুর গরমের কারনে আজকে কাজ বন্ধ তাই টুকটাক কাজগুলো খালি শরীরেই করছি। আর সবকিছু পরিষ্কারই আছে শুধু খাবার তৈরির চুলার কাছে কিছু ছাই পড়ে আছে তা কিছুক্ষণ পরই তুলে ফেলে দিব।
এসব ব্যাপারে সাথী বেকারি নামে ওই কারখানার স্বত্বাধিকারী মোঃ শরিফুল ইসলাম বাবু বলেন, খুব একটা নোংরা পরিবেশ নেই কারখানার ভিতরে। আর নষ্ট খাবারগুলো বস্তায় ভরে এক কোনায় রাখা আছে। সেগুলো কারখানার ভিতরে রাখার নিয়ম আছে কি না তা আমার জানা নেই। আমাদের কিছু নিয়মকানুন শিখিয়ে দিতে হবে।

বিএসটিআই এর অনুমোদন মেয়াদোত্তীর্ন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া এ কারখানা কিভাবে চালাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয় তা আমার জানা ছিলনা। বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স নবায়ন ও পরিবেশের ছাড়পত্র খুব শিগগিরই ঠিক করে নিব।পাবনা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল গফুর বলেন,
এ ধরনের বেকারি কারখানা স্থাপনে অন্যান্য লাইসেন্স করার আগে সর্বপ্রথম আমাদের থেকে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হবে। পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া এ ধরনের বেকারি প্রতিষ্ঠান হরহামেশাই চালানোর কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি কোনভাবেই উচিত না। এমন অনেক রকমের বেকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ম না মেনে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত এসব ব্যাপারে অভিযান চালিয়ে থাকি।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানা নেই তবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত

নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই তৈরি হচ্ছে খাবার, নেই পরিবেশের ছাড়পত্র,।

আপডেট সময় ০৪:০৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

ঈশ্বরদী(পাবনা) প্রতিনিধি: মোঃ রাকিব বিশ্বাস

পাবনার ঈশ্বরদীতে সাথী বেকারি নামে একটি কারখানায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন রকমের বেকারি খাদ্যপন্য।

এসব বেকারি খাদ্যপন্য(কেক, পাউরুটি, বিস্কুট) উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে মানবশরীরের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশ্রিত রং ক্রিম। শুধু তাই নয় উৎপাদিত এসব খাবারগুলো সংরক্ষনেও রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা।

এতে রয়ে যাচ্ছে ব্যাপক মানব স্বাস্থঝুঁকি। এদিকে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কারখানা স্থাপন ও সেই কারখানার বিকট শব্দ ও কালো ধোঁয়াই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে কারখানাটি।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঈশ্বরদী পৌর শহরের পূর্বটেংরি জিগাতলায় সরেজমিনে গিয়ে ওই কারখানায় ঢুকেই চোখে পড়ে নোংরা পরিবেশ, মেঝেতে ছড়ানো ময়লা জ্বালানি কাঠ-খড়ি, পুরনো পোড়া তেল ও পামওয়েল তেলের ড্রাম। শুধু তাই নয় পচেঁ যাওয়া কাঁচামালও মাছের খাদ্য হিসেবে কারখানার ভিতরেই রাখা হয়েছে সংরক্ষণে।

এমন অবস্থার কথা জানতে চাইলে কর্মীদের আসে নানা অযুহাত। শুধু তেল নয়, স্বাস্থ্যবিধি মানারও কোনো বালাই নেই। খোলা হাতে, শরীরে কোন সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই বানানো হচ্ছে এসব খাদ্যপণ্য। তৈরি করা খাবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে রয়েছে খোলা জায়গায়। ।আইন অনুযায়ী, একটি বেকারি কারখানা চালাতে বিএসটিআই অনুমোদন, সেনেটারি লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন।

জানা গেছে, সাথী বেকারী নামে এ কারখানাটির নেই কোন পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, নেই সেনেটারি লাইসেন্সও। বিএসটিআই অনুমোদন ও ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও তা দীর্ঘদিন মেয়াদোত্তীর্ন।নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন কারখানা চালানো আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়াও কারখানার বিকট শব্দ ও কালো ধোঁয়াই অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি।

নোংরা পরিবেশে তৈরিকৃত এসব খাবার শিশুরা খেয়ে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির বিষয়ে জানতে কারখানাটির দায়িত্বে থাকা মোঃ রোহান বলেন, যেখানে খাবার তৈরি হচ্ছে সেখানে কোন নোংরা পরিবেশ নেই।

আর বস্তায় ভরে রাখা পঁচা জিনিসপত্র মাছের খাদ্য হিসেবে রাখা হয়েছে। বস্তাগুলোতো গেটের সামনে রাখা হয়েছে তাতে খাবার তৈরিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না বলে তিনি ক্যামেরার সামনে থেকে সরে যান।

খালি শরীরে কারখানায় কাজ করছিলেন শ্রমিক মোঃ বিশাল। সে জানায়, প্রচুর গরমের কারনে আজকে কাজ বন্ধ তাই টুকটাক কাজগুলো খালি শরীরেই করছি। আর সবকিছু পরিষ্কারই আছে শুধু খাবার তৈরির চুলার কাছে কিছু ছাই পড়ে আছে তা কিছুক্ষণ পরই তুলে ফেলে দিব।
এসব ব্যাপারে সাথী বেকারি নামে ওই কারখানার স্বত্বাধিকারী মোঃ শরিফুল ইসলাম বাবু বলেন, খুব একটা নোংরা পরিবেশ নেই কারখানার ভিতরে। আর নষ্ট খাবারগুলো বস্তায় ভরে এক কোনায় রাখা আছে। সেগুলো কারখানার ভিতরে রাখার নিয়ম আছে কি না তা আমার জানা নেই। আমাদের কিছু নিয়মকানুন শিখিয়ে দিতে হবে।

বিএসটিআই এর অনুমোদন মেয়াদোত্তীর্ন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া এ কারখানা কিভাবে চালাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয় তা আমার জানা ছিলনা। বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স নবায়ন ও পরিবেশের ছাড়পত্র খুব শিগগিরই ঠিক করে নিব।পাবনা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল গফুর বলেন,
এ ধরনের বেকারি কারখানা স্থাপনে অন্যান্য লাইসেন্স করার আগে সর্বপ্রথম আমাদের থেকে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হবে। পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া এ ধরনের বেকারি প্রতিষ্ঠান হরহামেশাই চালানোর কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি কোনভাবেই উচিত না। এমন অনেক রকমের বেকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ম না মেনে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত এসব ব্যাপারে অভিযান চালিয়ে থাকি।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানা নেই তবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।