
বিদায়ী ওসি মনসুরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
জাহিদ হাসান, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা থানার সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, গ্রেফতার বাণিজ্য, দালালদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় জাল করেও তিনি থানায় যোগদান করেছিলেন। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক ভোল পাল্টানো
অভিযোগ রয়েছে, বিপ্লব-পরবর্তী সরকার ঘোষণা দিয়েছিল—পূর্বে যারা কখনো ওসি ছিলেন না, তারাই নতুনভাবে দায়িত্ব পাবেন। কিন্তু মনসুর রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাটোর সদর, পাঁচবিবি ও পোরসা থানায় ওসি ছিলেন। সে সময় তিনি ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশ নিতেন।
এমনকি ২০২১ সালে বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মিছিলে তার নেতৃত্বে ব্যাপক লাঠিচার্জ হয়, যাতে শতাধিক কর্মী আহত হন। অথচ পরবর্তীতে তিনি নিজেকে বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা চালান। অভিযোগ রয়েছে, সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে এবং রাজনৈতিক পরিচয় জাল করে তিনি মান্দা থানায় ওসি হিসেবে নিয়োগ পান।
থানায় ঘুষ বাণিজ্য
গত ৫ আগস্ট মান্দা থানায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও সালিশ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। স্থানীয়রা জানান, মামলা নেওয়া, চার্জশিট কিংবা জামিনে ছাড় দিতে হলে টাকা দিতে হতো।
একজন ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, গ্রেফতার এড়ানোর শর্তে ওসি মনসুর তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাকেই গ্রেফতার করা হয়। ভারশোঁ গ্রামের ডলি আক্তার অভিযোগ করেন, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পুলিশ ও দালালরা তার বাড়িতে হানা দিয়ে নগদ এক লাখ টাকা ও মালামাল লুট করে।
ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, থানায় মামলা করতে গেলে ঘুষ দাবি করা হতো। অনেকেই বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “উপরে থেকে চাপ থাকে। অনেক কিছু আমাদের হাতে থাকে না।”
ওসির প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের বিষয়ে মনসুর রহমান সবকিছু অস্বীকার করে বলেন, “আমার মনে নেই এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা এলে এখনই মামলা করে দেব।” তবে আইওরপাড়া বাজারে সংঘটিত একটি ঘটনার বিষয়ে এসআই শামীম হোসেন ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও মামলা হয়নি কেন, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
তদন্তের দাবি
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ও সুশীল সমাজ দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

জাহিদ (নওগাঁ) 















