ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

গাইবান্ধার প্রতিবন্ধী হিরু মিয়ার অদম্য জীবনযুদ্ধ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:৩৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মিঠু মিয়া,গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মধ্যে কুমুদ এলাকায় বসবাসরত মোঃ হিরু মিয়া জীবনের তীব্র বাস্তবতার সঙ্গে প্রতিদিন যুদ্ধ করে চলেছেন। জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী এই মানুষটি নিজের ভাগ্যের সঙ্গে লড়াই করে আরবি পড়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। জীবনের কষ্টকে সঙ্গী করেও তিনি সমাজে টিকে থাকার এক বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

ছোটবেলা থেকেই হাঁটাচলায় অসুবিধা থাকায় হিরু মিয়া নিয়মিত স্কুলে যেতে পারেননি। তবে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ থেকেই তিনি স্থানীয় মাদ্রাসা ও মসজিদে আরবি শিক্ষা অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি গ্রামের শিশুদের আরবি শেখান এবং ধর্মীয় শিক্ষা দেন। সেই উপার্জনই তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।

অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল পরিবারে জন্ম নেওয়া হিরু মিয়া বলেন,

ছোটবেলায় ভেবেছিলাম আমার কিছুই হবে না, কিন্তু আল্লাহর রহমতে এখন মানুষ আমাকে শ্রদ্ধা করে। আমি নিজের পরিশ্রমে যা পাই, তা দিয়েই সংসার চালাই। শুধু চাই, সমাজ ও সরকার যেন আমাদের মতো মানুষের দিকে একটু দৃষ্টি দেয়।”

গ্রামবাসীর ভাষায়, হিরু মিয়া একজন পরিশ্রমী, সৎ ও ধৈর্যশীল মানুষ। প্রতিবন্ধকতাকে কখনও দুর্বলতা হিসেবে দেখেননি তিনি। বরং নিজের সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে রূপান্তর করে জীবনকে এগিয়ে নিয়েছেন। প্রতিদিন গ্রামের শিশুদের কুরআন শিক্ষা দিয়ে সামান্য যা আয় হয়, তা দিয়েই পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করেন।

স্থানীয়দের দাবি, এমন পরিশ্রমী মানুষ সরকারের বা কোনো বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা পেলে তার জীবন আরও উন্নত হতে পারবে। সমাজের অনেক সক্ষম ব্যক্তি যদি হিরু মিয়ার পাশে দাঁড়ান, তবে তিনি নিজের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাবেন।

হিরু মিয়া বলেন,আমি কারো কাছে ভিক্ষা চাই না। শুধু চাই, কাজের সুযোগ পাই, যেন নিজের পরিশ্রমেই পরিবার চালাতে পারি।

দরিদ্রতা, প্রতিবন্ধকতা ও নানা প্রতিকূলতার মাঝেও হিরু মিয়া আশার আলো হারাননি। নিজের আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন ইচ্ছা থাকলে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো জীবনের পথে বাধা হতে পারে না।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

গাইবান্ধার প্রতিবন্ধী হিরু মিয়ার অদম্য জীবনযুদ্ধ

আপডেট সময় ১১:৩৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

মোঃ মিঠু মিয়া,গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মধ্যে কুমুদ এলাকায় বসবাসরত মোঃ হিরু মিয়া জীবনের তীব্র বাস্তবতার সঙ্গে প্রতিদিন যুদ্ধ করে চলেছেন। জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী এই মানুষটি নিজের ভাগ্যের সঙ্গে লড়াই করে আরবি পড়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। জীবনের কষ্টকে সঙ্গী করেও তিনি সমাজে টিকে থাকার এক বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

ছোটবেলা থেকেই হাঁটাচলায় অসুবিধা থাকায় হিরু মিয়া নিয়মিত স্কুলে যেতে পারেননি। তবে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ থেকেই তিনি স্থানীয় মাদ্রাসা ও মসজিদে আরবি শিক্ষা অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি গ্রামের শিশুদের আরবি শেখান এবং ধর্মীয় শিক্ষা দেন। সেই উপার্জনই তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।

অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল পরিবারে জন্ম নেওয়া হিরু মিয়া বলেন,

ছোটবেলায় ভেবেছিলাম আমার কিছুই হবে না, কিন্তু আল্লাহর রহমতে এখন মানুষ আমাকে শ্রদ্ধা করে। আমি নিজের পরিশ্রমে যা পাই, তা দিয়েই সংসার চালাই। শুধু চাই, সমাজ ও সরকার যেন আমাদের মতো মানুষের দিকে একটু দৃষ্টি দেয়।”

গ্রামবাসীর ভাষায়, হিরু মিয়া একজন পরিশ্রমী, সৎ ও ধৈর্যশীল মানুষ। প্রতিবন্ধকতাকে কখনও দুর্বলতা হিসেবে দেখেননি তিনি। বরং নিজের সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে রূপান্তর করে জীবনকে এগিয়ে নিয়েছেন। প্রতিদিন গ্রামের শিশুদের কুরআন শিক্ষা দিয়ে সামান্য যা আয় হয়, তা দিয়েই পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করেন।

স্থানীয়দের দাবি, এমন পরিশ্রমী মানুষ সরকারের বা কোনো বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা পেলে তার জীবন আরও উন্নত হতে পারবে। সমাজের অনেক সক্ষম ব্যক্তি যদি হিরু মিয়ার পাশে দাঁড়ান, তবে তিনি নিজের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাবেন।

হিরু মিয়া বলেন,আমি কারো কাছে ভিক্ষা চাই না। শুধু চাই, কাজের সুযোগ পাই, যেন নিজের পরিশ্রমেই পরিবার চালাতে পারি।

দরিদ্রতা, প্রতিবন্ধকতা ও নানা প্রতিকূলতার মাঝেও হিরু মিয়া আশার আলো হারাননি। নিজের আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন ইচ্ছা থাকলে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো জীবনের পথে বাধা হতে পারে না।