
মো.রোকন মিয়া(কুড়িগ্রাম জেলা) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে ভিজিডি কার্ড বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও স্বচ্ছল পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়ে ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আনোয়ার হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন— স্থানীয়ভাবে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় নারীদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি নিজের আত্মীয়দের নামও যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আবেদনে যেসব স্বচ্ছল পরিবারের নামে ভিজিডি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন— আমিনা বেগম (স্বামী: আশরাফুল), সুফিয়া বেগম (স্বামী: ফজলু), লাকী বেগম (স্বামী: ইলিয়াস), ফুলকি বেগম (স্বামী: ইসলাম উদ্দিন), মমিনা খাতুন (স্বামী: সোলেমান), মাজেদা বেগম (স্বামী: নূর মোহাম্মদ), মর্জিনা বেগম (স্বামী: আতাউর রহমান), মামনি বেগম (স্বামী: হোসেন আলী), জাহানারা বেগম (স্বামী: বাবলু), আনোয়ারা বেগম (স্বামী: আবুল কালাম আজাদ), সাহিদা বেগম (স্বামী: আলম মিয়া) ও মোছাঃ সালমা বেগম (স্বামী: জামাল উদ্দিন)।
ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন,আমার ওয়ার্ডে ভিজিডি কার্ড বিতরণে চরম অনিয়ম হয়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই স্বচ্ছল পরিবারগুলোকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। আমি চাই প্রকৃত দরিদ্ররা যেন এই সুবিধা পান।
অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রকৃত দরিদ্ররা সরকারি এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে গুনাইগাছ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক কেএম মাসুদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জয়ন্তী রানী আচার্য ভিজিডি তালিকা যাচাই-বাছাই ছাড়াই চূড়ান্ত করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে তার ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক দেলোয়ার হোসেন বলেন,ম্যাডাম জয়ন্তী রানী বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম সদর ও ভুরুঙ্গামারী, এই চারটি উপজেলার দায়িত্বে আছেন। আজ তিনি ভুরুঙ্গামারীতে অফিসের কাজে গেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন,অভিযোগপত্র পেলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করব। প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করে কেউ যাতে সরকারি সুযোগ না পান, প্রশাসন সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে।

মো.রোকন মিয়া (কুড়িগ্রাম জেলা) প্রতিনিধি: 















