
সারাদেশ ডেস্ক
চুরির দায়ে চাকরীচ্যুত, কপাল খোলে মিডিয়ায় দালালীতে, বাগিয়ে নিয়েছে ফ্লাট-প্লট, নারীদের প্রতি কু-দৃস্টি, দেশের তথ্য বিদেশে পাচার, ইসলামবিদ্বেষী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পোকা:
সাদিকের মিডিয়া দালাল আওয়ামী দোসর মিরন অধরা, গ্রেপ্তার দাবী। তিনি ৫ আগস্টের পর থেকে পালাতক হিসেবে ছিলেন ২ মাস।

ফটোকপির দোকানে ভাড়ায় কাজ করে বরিশাল শহরে যাত্রা শুরু হয় তার। দেখতে দেখতে ফ্লাট, প্লট, গাড়ি সহ এখন অঢেল সম্পদের মালিক তিনি। আ’লীগের মেয়র-এমপিদের সঙ্গে দালালি, সংস্কৃতি জগতে নারী কেলেংকারীর হোতা আর সাংবাদিকতার তকমা লাগিয়ে এতো বিত্তবৈভব গড়েছেন তিনি। ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে দেশ বিদেশে বিদ্বেষ ছড়ানো এই নাস্তিক হচ্ছে সাংবাদিক নামধারী সাইফুর রহমান মিরন।

নগরবাসীর আতংক সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর মিডিয়া দালাল ছিলেন এই মিরন। এজন্য ভুয়া সংগঠন সাংবাদিক ইউনিয়ন বরিশাল এর নামে পেশাদার সাংবাদদিকদের লাখ লাখ টাকা আত্নসাত করেছে মিরন। গনঅভু্যত্থানের পর বরিশাল নগরে আ’লীগের হয়ে তথ্য পাচার করে যাচ্ছে এই দালাল মিরন। সরকার বিরোধী প্রচারনা চালানোয় আ’লীগের এই দোসরের গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন বরিশালের আলেম ওলামা এবং ছাত্র সমাজ।

করবি ফটোকপি থেকে প্রতারনা শুরু:
বরিশাল সিটি কলেজের পাশে ‘করবি’ নামক একটি ফটোকপির দোকান মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে এই শহরে উত্থান ঘটে মিরনের। কিন্তু একসময় ছলেবলে কৌশলে সেই দোকান দখল করে নেয় মিরন। দোকানটির মালিক একজন বিশিস্ট সংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব। তার বাসায় ফ্রি ভাত খাওয়া আর নিত্যদিন ধার চাওয়া রোধে তিনি তার দোকানটি ভাড়ায় চালাতে দিয়ে সর্বনাশ ডেকে আনেন।

বন্ধুসভায় নারী বন্ধুদের কু-দৃস্টিঃ
মিরনকে একজন পেশাদার সাংবাদিক দয়া করে প্রথম আলোর পাঠক সংগঠন বন্ধু সভায় যুক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায়সী মিরন বন্ধু সভার বন্ধুদের তার গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশর পাঠকাঠী নিয়ে যেতেন। মিরন তার গ্রামের বাড়িতে অন্তত হাফ ডজন মেয়ের শ্লিলতাহানী ঘটিয়েছে। যেকারনে বহু মেধাবী নারী বন্ধু ছেড়েছেন বন্ধুসভা। বন্ধুসভার দায়িত্বশীল ২জন সাবেক সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, মিরন ভাই স্কুল কলেজের মেয়েদের সুড়সুড়ি দিত। এজন্য অনেকেই বন্ধুসভা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

চুরির দায়ে চাকুরীচ্যুত:
একজন ফটোকপির দোকানদার মিরন অনেকের হাত পা ধরে প্রথম আলোতে সুযোগ পায়। প্রথম আলো বরিশালে একজন অপেশাদারকে দায়িত্ব দেয়ায় পত্রিকাটি থেকে বরিশালে ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নিতে থাকে পাঠকরা । প্রথম আলোর সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের কাছ থেকে নানা সুবিধা নেয়। নিজে সংবাদ লিখতে জানতো না, অন্যের কাছ থেকে কপি কাট পেস্ট করাই ছিল তার কাজ।

নানা সুবিধা পেয়ে মেয়র, এমপি, চেয়ারম্যানদের অপকর্ম তুলে না ধরে মিরনের কাজ ছিল প্রথম আলোতে তেল দেয়া। নিচু স্বভাবের এ মানুষটি প্রথম আলোর বরিশাল অফিসের পিয়নের বেতনের টাকা মেরে দেয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দেয়া মোবাইল, ল্যাপটপ বিজয়ী পাঠককে না দিয়ে বাসায় নিয়ে ব্যাবহার করে। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ তদন্তে এর প্রমান পেয়ে মিরনের ঘার ধরে বেড় করে দেয় প্রতিষ্ঠান থেকে। সংবাদ লিখতে না পারায় পরবর্তীতে দেশ রুপান্তর পত্রিকা থেকেও বিতাড়িত হয় সাংবাদিক নামধারী মিরন।

কপাল খোলে সাদিকের মিডিয়া দালালীতেঃ
সাইফুর রহমান মিরন ছিল বিতর্কিত সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর মিডিয়া দালাল। সাবেক মেয়র সাদিকের আমলে রমরমা বানিজ্য চলে মিরনের। সাংবাদিকতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সে ভুয়া সংগঠন ‘সাংবাদক ইউনয়ন বরিশাল চালু করে।’ এই সংগঠনের আড়ালে প্রতিমাসে লাখ টাকা চাঁদা নিতো সাদিকের কাছ থেকে। তাছাড়া ঈদ, রোজা, পিকনিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা অনুদান আনতো দালাল মীরন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পেশাদার সাংবাদিক জানায়, মিরন মুখ চেনা কয়েকজনকে নিয়ে খেচুরি পার্টি দিয়ে বাকি অর্থ আত্নসাত করতো। ইলিশের সময় ইলিশ, হাসের সময় হাস আসতো হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ থেকে। সাবেক এমপি পংকজ নাথের আর এক দালাল এসব সরবরাহ করতো।

সাংবাদিকতার সাইনবোর্ডে বাগিয়ে নেয় ফ্লাট, প্লট:
সাবেক এক মেয়রের পা চেটে বরিশাল নগরের শ্রীনাথ চ্যাটার্জী লেনে ফ্লাট কেনন মিরন। তখন তিনি প্রথম আলোতে চাকরি করে ওই মেয়রের পক্ষে তেল দিতেন। এরপর আবার নতুন এক মেয়রের পা চেটে হাতিয়ে নেয় প্লট। নগরীতে বেশ কয়েকটি জমিও কিনছেন সাংবাদিকতার তকমা লাগিয়ে উড়ে এসে জুড়ে বসা মিরন।

ইউএনও’র বাসায় হামলার মদদদাতা:
দেশজুড়ে আলোচিত বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে ২০২১ সালের ১৮ আগস্ট হামলার পর সাবেক মেয়র সাদিককে বাঁচাতে নানা ফন্দি আটে মিরন। ওই সময়ে তীব্র চাপের মুখে পড়া সাদিককে রক্ষায় দালাল মিরনের উপস্থাপনায় ভার্চুয়ালী একটি মতবিনিময় হয়। ওই সেমিনারে মেয়র সাদিকের পক্ষে তেল ঢেলে দেয় বরিশাল নগরের একদল সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী এমনকি মিরনের বলয়ের কয়েক তেলবাজ সাংবাদিকও। সভায় ইউএনও’র বাসায় হামলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে সাদিককে রক্ষা মিশনের সফল উপস্থাপনার পুরস্কার হিসেবে একটি লাল পাঞ্জাবী উপহার পায় আওয়ামী দোসর মিরন।

দেশের তথ্য বিদেশে পাচার:
আওয়ামী দোসর মিরন সাবেক মেয়র সাদিক এর মিডিয়া মুখপাত্র হয়ে বর্তমানে দেশের তথ্য পাচার করে যাচ্ছে। বরিশাল থেকে সাবেক মেয়র সাদিকের কাছে সকল তথ্য পাচার করে যাচ্ছে সাংবাদিক নামধারী মিরন। এজন্য বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে গিয়ে তথ্য নিয়ে তা আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে পাচার করছে। বিশেষ করে গ্রেপ্তার হওয়া নেতারা বরিশাল আদালতে হাজিরা দিতে আসলে মিরনের এক সহচরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে খবরাখবর আদান প্রদান করার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসলামবিদ্বেষী: শত বছরের পুরানো সরকারি বরিশাল কলেজের নাম পরিবর্তনে নানা চক্রান্ত করেছিল মিরন গং। এজন্য ইসলামবিদ্বেষী তথ্য ছড়িয়ে আন্দোলনের নামে বিশৃংখলাও সৃস্টি করে মিরন। নগরের ত্রিশগোডাউনে রাস্ট্রের বৃহৎ চাল সংরক্ষানাগার ‘সাইলো’ নির্মান দীর্ঘ বছর আন্দোলনের নামে আটকে থাকে মিরন গংদের কারনে। যার ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয় রাস্ট্রের। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নগরীতে আলেম ওলামাদের মানবন্ধন ও মিছিলের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী তথ্য ছড়িয়ে আসছে এই তথ্য সন্ত্রাসী। এই নগরে গনজাগরনের অন্যতম সংগঠক এই মিরন।

সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে বয়কট:
সাইফুর রহমান মিরন বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক ধরনের নিরব ঘাতক হিসেবে পরিচিতি। নারীদের যৌন হয়রানীর কারনে অনেক সংগঠনই বয়কট করেছে তাকে। সবশেষ উদীচী থেকে ঘড়ে ধাক্কা দিয়ে বেড় করে দেয়া হয় মিরনকে। উদীচীর দায়িত্বশীল একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মিরন উদীচীর নামে নানা জায়গা থেকে বছরের পর বছর চাঁদা তুলে আত্নসাত করেছে। সংগঠনের অর্থ ভুয়া ভাউচার দিয়ে মেরে দেয়ায় ক্ষুব্ধ ছিল সাধারন সদস্যরা। বিশেষ করে নারী সদস্যদের দিকে মিরণের কু-দৃস্টির কারনে এবার সাধারন সভায় লাল কার্ড দেখিয়ে উদীচী থেকে বিদায় করে দেয়া হয় সংস্কৃতি জগতের কিট মরিনকে।
জান বললেন সাইফুর রহমান মিরন: এ বিষয়ে জানতে সাংবাদিক নামধারী আওয়ামী দোসর সাইফুর রহমান মিরনকে ফোন দেয়া হলেও পাওয়া যায়নি। তার শ্রীনাথ চ্যাটার্জীর ফ্লাটে গিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Reporter Name 















