
এম. এফ. মাহীর
থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট ২০২৫) দেশটির সংবিধানিক আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রধানমন্ত্রী পেতংথর্ন শিনাওত্রা-কে ক্ষমতাচ্যুত ঘোষণা করেছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়,
পেতংথর্ন শিনাওত্রা নৈতিক মানদণ্ড ভঙ্গ করেছেন।
তিনি সম্প্রতি কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে একটি টেলিফোন কলে “কাকা” সম্বোধন করে থাই সামরিক বাহিনীর সমালোচনা করেন। আদালত মনে করে, এই মন্তব্য দেশীয় সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছে।
আদালতের ৬–৩ ভোটে গৃহীত এই রায়ের মাধ্যমে কার্যত শিনাওত্রা পরিবারের রাজনীতিতে আরেকটি ধাক্কা এসে পড়ল। এর আগে তাঁর বাবা থাকসিন শিনাওত্রা ও খালা ইয়িংলাক শিনাওত্রা-ও একইভাবে ক্ষমতা হারিয়েছিলেন। এবার তাঁর কন্যা পেতংথর্নকেও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হলো।
রায়ের পরপরই থাই সংসদে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। দেশটির অর্থবাজারেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যাংকক স্টক এক্সচেঞ্জ সূচক রায়ের দিনেই প্রায় ১ শতাংশ পতন করেছে। বছরের শুরু থেকে এটি প্রায় ১১ শতাংশ নিম্নগামী, যা এশিয়ার অন্যতম দুর্বল পারফরম্যান্স বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।
অবস্থান শূন্য হলে অস্থায়ীভাবে ফুমথম ওয়েচচায়াচাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি কেয়ারটেকার সরকারের নেতৃত্ব দেবেন এবং সংসদ নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না করা পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন।
থাইল্যান্ডে এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়তে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনে শিনাওত্রা পরিবারকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
#থাইল্যান্ড #পদত্যাগ #ক্ষমতাচ্যুত #প্রধানমন্ত্রী
✍️ জাতীয় সাপ্তাহিক আইন সমাজ

আইন সমাজ ডেস্ক রিপোর্ট 















