
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় দুর্ঘটনায় আহত যুবককে দিয়ে থানায় মামলার অভিযোগ উঠেছে।
জীবন-জীবিকার তাগিদে চট্রগ্রামে কাজ করতে যান রাজমিস্ত্রীর হেলপার রেজাউল ইসলাম (৩৫)।
তিনি নওগাঁ জেলাধীন মান্দা উপজেলার দক্ষিন পরানপুর গ্রামের শফিজ উদ্দিনের ছেলে। দূর্ভাগ্যবশত কাজ করার কয়েকদিনের মাথায় রড কাটা মেশিন লেগে ডান পায়ের চতুর্থ ও পঞ্চম আঙ্গুল কেটে পড়ে।
ফিরে আশে নিজ এলাকায়। এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এই ঘটনার তিন মাস পর পারিবারিক দ্বন্ধের জের ধরে রেজাউল ইসলামকে নাটকীয়ভাবে আহত দেখিয়ে ভুয়া চিকিৎসা সনদ গ্রহণ করেন। একই সাথে আহতের ঘটনাকে পুঁজি করে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
এতে সাংবাদিক রায়হান আলীর পরিবারসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। পূর্বের দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশকে বারবার অবগত করা হলেও আমলে নেননি। পুলিশ জানায় বাদী মামলা করলে আমরা কি করতে পারি তদন্তে বাদ পড়ে যাবে টেনশন করেন না।
সাংবাদিক রায়হান আলীর প্রতিপক্ষ দেলোয়ার উপ-পরিদর্শক ফজলুর রহমানের সাথে আতাঁত করে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক রায়হান আলী বলেন, গত ২৫/০৪/২৫ তারিখে পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয় দেলয়ার বাহিনী লোকজন।
এই ঘটনায় আমি সহ ৪জন গুরুত্বর আহত হই। আহতদের মধ্যে আমার বাবা সোলাইমান, বড়চাচা খোদাবক্স আলীর হাত ভেঙ্গে গুরুত্বর আহত ও বড় ভাইয়ের মাথায় কাঁটা রক্তাক্ত যখন হয়। অপর দিকে প্রতিপক্ষের দেলুয়ার গংরা শেফালী ও খাদিজাকে আহত দেখিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
হামলার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে প্রতিপক্ষের লালবর সরদারের ছেলে ১নং আসামি দেলুয়ার তার ভগ্নিপতি মানিকুল্লাহকে বাদী করে ১৩ জনের নামে পরিকল্পিতভাবে মান্দা থানার একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
বিষয়টি ওসি মনসুর রহমান ও মামলার আয়ু ফজলুর রহমানকে জানালেও তা আমলে না নিয়ে বলেন, তদন্তের সময় এই বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হবে বলে জানান। পরে গোপনে তদন্ত করে এস আই ফজলু কৌশলে আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন।
তদন্ত রিপোর্টে জানা যায়, দূর্ঘটনায় আহত রেজাউল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১দিনের চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। পূর্বের কাটা আঙ্গুল দেখিয়ে (সার্ফ গ্রিবিয়াস সার্প ) আর্থ ২৬ ধারর মেডিকেল সনদ গ্রহণ করেন। এমন ঘটনায় এলাকায় জুড়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এ ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলো তাকে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে তার বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি জানতে পেরে পালিয়ে যান তিনি। স্থানীয় তোফাজ্জল, মোজাহার, রাজ্জাক জাকিরসহ রেজাউলের আপন চাচা খয়বর আলী জানান, চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় পা কাটার পর রেজাউল ইসলাম চিকিৎসার জন্য নিজের এলাকায় এবং গোপালপুর বাজারে টাকা সাহায্য করে তাকে চিকিৎসার সহযোগীতা করেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে পরানপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট মনিরুল ইসলাম বলেন, গত রমজান মাসের আগে চট্টগ্রামে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে ডান পায়ের দুটি আঙ্গুল কেটে পড়ে এবং সেখানেই চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন বলে জানান রেজাউল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি। পরবর্তীতে আমার কাছে প্রতিনিয়ত ড্রেসিং ও ওষুধপত্র নিয়েছেন তিনি।
৩নং পরানপুর ইউপির সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে সদস্য কামরুজ্জামান বলেন, চট্রগ্রামে কাজ করতে গিয়ে রেজাউল ইসলামের পায়ের দুটি আঙ্গুল কেটে পড়েছে।
এলাকাবাসীসহ আমরা তার চিকিৎসার জন্য সাহায্য করেছি। মারামারির ঘটনায় রেজাউলের কোন সম্পর্ক নেই। এমন ঘটনাকে পুঁজি করে সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া উচিত হয়নি। এ ঘটনায় ৩নং পরানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (প্যানেল) আতাউর রহমান বলেন, ব্যক্তিগতভাবে সফিজের ছেলে রেজাউলকে আমি চিনি, এই মারামারির মোটামুটি তিন মাস পূর্বে চট্টগ্রামে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে রড কাটা (গ্রাউন্ডিং) মেশিনে দুর্ঘটনায় তার ডান পায়ের দুটি আঙ্গুল কেটে যায়। এরপর দীর্ঘদিন এলাকায় সে ক্র্যাচার (ঠেঙ্গা) ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় সাহায্য সহযোগিতা নিয়েছে। দীর্ঘদিন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট মোঃ মনিরুল তাকে ড্রেসিং ও ওষুধপত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।

এম. এ. মজিদ (নওগাঁ) 















