
জাহিদ হাসান, নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ জেলার মান্দা থানার মোড় থেকে কালামারা ঘাট পর্যন্ত সড়কটি ২০১৯-২০ অর্থবছরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের শুরুতে কাজ শেষ হলে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তারা ভেবেছিল, এবার পণ্য পরিবহন সহজ হবে, যাতায়াত হবে ঝামেলামুক্ত।
কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। সড়কটি এখন ভাঙাচোরা, খানাখন্দে ভরা এবং বর্ষায় কোথাও কোথাও পানিতে ডুবে থাকে। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ, রিকশা-মোটরসাইকেল চালক থেকে সাধারণ পথচারী—সবার দুর্ভোগ চরমে।
কৃষকদের ভোগান্তি:
ভাঙা রাস্তার কারণে ধান, সবজি, ফল বাজারে নিতে দেরি হচ্ছে। পরিবহন খরচ বাড়ছে, পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি:
প্রতিদিন কাদা আর গর্ত এড়িয়ে স্কুলে যাওয়া দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন।
স্থানীয়দের ক্ষোভ:
ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন বলেন,
“রাস্তা হওয়ার পর ভেবেছিলাম ব্যবসা বাড়বে। এখন গ্রাহকরাই আসে না। কোটি টাকা খরচ করে যদি এমন রাস্তা হয়, তবে উন্নয়ন কোথায়?”
দায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ:
মান্দা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সঠিক সাবগ্রেড না থাকায় রাস্তাটি নষ্ট হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদার খলিলুর রহমান নিম্নমানের ইট, বালু ও পাথর ব্যবহার করেছেন। উপজেলা প্রকৌশলী ইমরুল কায়েস জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
দাবি:
এলাকাবাসীর দাবি—দ্রুত সড়ক সংস্কার করতে হবে, দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
গ্রামের প্রবীণ আবদুল জলিল বলেন,
“সরকার কোটি কোটি টাকা দিচ্ছে উন্নয়নের জন্য, কিন্তু দুর্নীতিতে সব নষ্ট হচ্ছে। আমরা উন্নয়ন চাই, দুর্নীতি নয়।”
সার্বিক চিত্র:
মান্দার এই সড়ক এখন সরকারি অর্থ অপচয় ও অনিয়মের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত সংস্কার, সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি চেয়েছে।

জাহিদ (নওগাঁ) 















