ঢাকা , রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নে যমুনার ভাঙনে ২৫টি পরিবার নিঃস্ব, হুমকির মুখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

 

আশিকুল ইসলাম, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নে আবারও ভয়াবহ আকারে শুরু হয়েছে যমুনার ভাঙন। গত (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে প্রায় ২৫টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভিটেমাটি, গবাদিপশু, আসবাবপত্র ও টিনের চালসহ সর্বস্ব হারিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেল গড়িয়ে আসতেই চাঁদপুর চরে যমুনার স্রোত হঠাৎ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে লালচাঁন, জুড়ান, সাইফুল, রবি, ইয়াদুল, ডা. এরশাদসহ অন্তত ৭-৮ পরিবারের বসতভিটা নদীতে তলিয়ে যায়।

৭৩ বছর বয়সী আতাহার মন্ডল চোখের জলে ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন,
“আমার জীবনে বহুবার ভাঙন দেখেছি, কিন্তু এত ভয়াবহ কোনোদিন দেখিনি। চোখের সামনে ভিটেমাটি নদীতে চলে যেতে দেখলে বুকটা ফেটে যায়। এখন আমরা কোথায় আশ্রয় নেব?”

সদিয়া দেওয়ানতলা সংকরহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে তাদের স্কুল ভবন মাত্র ৫৫ মিটার দূরে। আশপাশের অন্তত পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও হুমকির মুখে।
তিনি সতর্ক করে বলেন,
“জিও ব্যাগ না ফেলা হলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যাবে।”

সমাজকর্মী হাফিজুর রহমান, শিক্ষক ইকবাল হোসেন ও আব্দুল মমিন জানান, এক নজরে কয়েকশ মিটার জমি যমুনায় চলে গেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে এবং অন্তত ১২টি এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
তাদের দাবি— অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পুনর্বাসন ও সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।

শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমাদের বাড়িঘর, স্কুল, মসজিদ সবকিছু নদীতে চলে যাচ্ছে। আমরা দিন রাত আতঙ্কে আছি।”

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ পারভেজ। তিনি জানান, প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে।
“ভাঙন রোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে,” বলেন তিনি।

স্থানীয়দের মতে, শুধু বসতভিটাই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও অন্যান্য স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সরকারের কাছে জরুরি ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নে যমুনার ভাঙনে ২৫টি পরিবার নিঃস্ব, হুমকির মুখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

আপডেট সময় ০৫:১৬:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

আশিকুল ইসলাম, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নে আবারও ভয়াবহ আকারে শুরু হয়েছে যমুনার ভাঙন। গত (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে প্রায় ২৫টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভিটেমাটি, গবাদিপশু, আসবাবপত্র ও টিনের চালসহ সর্বস্ব হারিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেল গড়িয়ে আসতেই চাঁদপুর চরে যমুনার স্রোত হঠাৎ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে লালচাঁন, জুড়ান, সাইফুল, রবি, ইয়াদুল, ডা. এরশাদসহ অন্তত ৭-৮ পরিবারের বসতভিটা নদীতে তলিয়ে যায়।

৭৩ বছর বয়সী আতাহার মন্ডল চোখের জলে ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন,
“আমার জীবনে বহুবার ভাঙন দেখেছি, কিন্তু এত ভয়াবহ কোনোদিন দেখিনি। চোখের সামনে ভিটেমাটি নদীতে চলে যেতে দেখলে বুকটা ফেটে যায়। এখন আমরা কোথায় আশ্রয় নেব?”

সদিয়া দেওয়ানতলা সংকরহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে তাদের স্কুল ভবন মাত্র ৫৫ মিটার দূরে। আশপাশের অন্তত পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও হুমকির মুখে।
তিনি সতর্ক করে বলেন,
“জিও ব্যাগ না ফেলা হলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যাবে।”

সমাজকর্মী হাফিজুর রহমান, শিক্ষক ইকবাল হোসেন ও আব্দুল মমিন জানান, এক নজরে কয়েকশ মিটার জমি যমুনায় চলে গেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে এবং অন্তত ১২টি এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
তাদের দাবি— অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পুনর্বাসন ও সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।

শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমাদের বাড়িঘর, স্কুল, মসজিদ সবকিছু নদীতে চলে যাচ্ছে। আমরা দিন রাত আতঙ্কে আছি।”

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ পারভেজ। তিনি জানান, প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে।
“ভাঙন রোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে,” বলেন তিনি।

স্থানীয়দের মতে, শুধু বসতভিটাই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও অন্যান্য স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সরকারের কাছে জরুরি ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।