ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

মান্দায় দূর্ঘটনায় আহত যুবককে দিয়ে থানায় মামলা

  • নওগাঁ জেলা
  • আপডেট সময় ০৩:০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৪০ বার পড়া হয়েছে

 

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মান্দায় ৩ মাস পূর্বের দূর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে জখম দেখিয়ে থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে। থানা পুলিশের এসআই ফজলু রহমানের জোগসাজছে এমন সাজানো ঘটনায় মামলা নেওয়ার পর ভুক্তভোগী রায়হান আলীর মা ও বড় ভাইয়ের নাবালিকা মেয়ে হুমায়রা খাতুন (তামান্না) ১৬ বছরের মেয়েকে ২০ বছর দেখিয়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে মোটা অংকের টাকা না পেয়ে ও ব্যক্তিগত আক্রোস থেকে পারিবারিক ঝামেলায় নাবালিকা মেয়েকে ফাঁসিয়েছে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলু রহমান। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রায়হান আলী পেশায় সাংবাদিক হওয়ার উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের দ্বায়িত্বে থাকা এসআই ফজলু রহমানের বিভিন্ন অনিয়ম ও এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতেন। আর এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এসআই ফজলু। পারিবারিক ঝামেলার সুযোগ নিয়ে তার ক্ষমতায় ফাঁসিয়ে দিলেন নাবালিকা মেয়েকে। সম্প্রতি পুলিশের এমন কাণ্ডে এলাকা জুড়ে সমালোচনার ঝাড় বইছে।

জানাগেছে, গত (২৫ এপ্রিল) শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার সময় উপজেলার পরানপুর ইউপির পরানপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে প্রতিবেশী দেলুয়ার গংদের সাথে পারিবারিক ঝামেলা হয় সোলাইমান আলী সরদারের। সেদিন সোলাইমান সরদারের ছেলে রায়হান আলী কাজ শেষ করে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। এমন সময় রাস্তা আটকিয়ে হামলা করেন দেলুয়ার গং। হামলার শিকার হওয়ার পর মোবাইল ফেলে দৌড়ে বাড়িতে ঢুকে যায় রায়হান আলী। সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেছিলো রায়হান। এমন ঘটনার পর উপরের চাপ আছে এমন কথা বলে থানায় দু’পক্ষের মামলা নেন পুলিশ। কিন্তু সেই মারপিটের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়, এমন আহত যুবককে দিয়ে থানায় মিথ্যা মামলা করেন অভিযুক্ত দেলুয়ার গংরা। আহত যুবক রেজাউল গত ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে কাজ করতে গিয়ে দূর্ঘটনায় শিকার হয়ে তার আঙ্গুল হারান।

গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরেও তা আমলে নেননি । পুলিশ কৌশলে বলেন, তদন্ত করে বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু পুলিশের মিথ্যা শান্তনায় কোন কাজ হয়নি। তদন্ত না করে রায়হানকে শায়েস্তা করতে হিতে বিপরীত ঘটনার জন্ম দিয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী রায়হান আলী জানান, আমার পারিবারিক মারপিটের ঘটনার সাথে আহত রেজাউলের কোন সম্পৃক্ততা নেই। রেজাউল ইসলাম চট্রগ্রামে কাজ করতে গিয়ে মামলা হওয়ার তিন মাস পূর্বে পায়ের দুটি আঙ্গুল হারায়। সেখানে একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়ে এলাকাতে চলে আসে রেজাউল। এরপর গোপালপুর বাজারে ডাক্তার মনিরুল ইসলামের কাছে নিয়মিত ড্রেসিং করান। কাজ করতে গিয়ে আহত রেজাউল ইসলামকে দিয়ে নাটকীয় ভাবে থানায় মামলা করানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে বারবার জানানো হলে আমলে নেয়নি তারা। টাকা নিয়ে ও এসআই ফজলুর ব্যক্তিগত আক্রোসে মিথ্যা মামলা জুড়ে দিয়েছে। আমার ভাতিজির বয়স ১৬ বছর তদন্ত না করে তাকে ২০ বছর দেখিয়েছে পুলিশ। বিএনপি নেতা দেলোয়ার গংদের খুশি করতে মিথ্যা মামলায় আমার মা ও ভাতিজিকে আটক করেন পুলিশ।

এমন আলোচিত ঘটনার রাজসাক্ষী হয়ে আছে এলাকার সাধারণ মানুষজনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সেই সময় অসহায় রেজাউলকে এলাকার সকল স্তরের মানুষজন চিকিৎসার জন্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা করেছেন। অথচ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই)ফজলু বিষয়টি জানার পরেও তদন্তে তা উল্লেখ করেননি। জন্ম দিয়েছেন আজব এক ঘটনা। শুধু তাই নয় ভুক্তভোগী পরিবারের ১৬ বছরের নাবালিকা মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার করে আলোচিত হয়েছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে উপজেলার পরানপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা জানি। রেজাউল চট্রগ্রামে কাজ করতে গিয়ে পায়ের দুটি আঙ্গুল হারিয়ে। তার চিকিৎসার জন্য এলাকাবাসী সহযোগীতা করেছেন। মারপিটের ঘটনায় তার আঙ্গুল কেটে পড়েনি। গভীর ভাবে তদন্ত করে বিষয়টি নথিতে উল্লেখ করা উচিত ছিল।

মান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুর রহমান বলেন, আমি এজাহার দেখে মেয়ের বয়স দিয়েছি। এছাড়া মেডিকেল থেকে তারা এমসি এনেছে। কোন তদন্ত ছাড়া শুধুমাত্র এজাহার দেখে বয়স নির্ধারণ করা যায় কিনা এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান। দূর্ঘটনায় আহত যুবক সম্পর্কেও তিনি কথা বলেননি।

এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর রহমান জানান, মামলার আয়ু যেহেতু ফজলু সেহেতু তিনি ঘটনা সব কিছু জানেন। তদন্ত না করে নাবালিকাকে তার ইচ্ছে মতন বয়স বাড়িয়ে সাবালিকা বানালে এর দায় তাকে নিতে হবে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

মান্দায় দূর্ঘটনায় আহত যুবককে দিয়ে থানায় মামলা

আপডেট সময় ০৩:০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

 

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মান্দায় ৩ মাস পূর্বের দূর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে জখম দেখিয়ে থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে। থানা পুলিশের এসআই ফজলু রহমানের জোগসাজছে এমন সাজানো ঘটনায় মামলা নেওয়ার পর ভুক্তভোগী রায়হান আলীর মা ও বড় ভাইয়ের নাবালিকা মেয়ে হুমায়রা খাতুন (তামান্না) ১৬ বছরের মেয়েকে ২০ বছর দেখিয়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে মোটা অংকের টাকা না পেয়ে ও ব্যক্তিগত আক্রোস থেকে পারিবারিক ঝামেলায় নাবালিকা মেয়েকে ফাঁসিয়েছে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলু রহমান। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রায়হান আলী পেশায় সাংবাদিক হওয়ার উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের দ্বায়িত্বে থাকা এসআই ফজলু রহমানের বিভিন্ন অনিয়ম ও এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতেন। আর এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এসআই ফজলু। পারিবারিক ঝামেলার সুযোগ নিয়ে তার ক্ষমতায় ফাঁসিয়ে দিলেন নাবালিকা মেয়েকে। সম্প্রতি পুলিশের এমন কাণ্ডে এলাকা জুড়ে সমালোচনার ঝাড় বইছে।

জানাগেছে, গত (২৫ এপ্রিল) শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার সময় উপজেলার পরানপুর ইউপির পরানপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে প্রতিবেশী দেলুয়ার গংদের সাথে পারিবারিক ঝামেলা হয় সোলাইমান আলী সরদারের। সেদিন সোলাইমান সরদারের ছেলে রায়হান আলী কাজ শেষ করে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। এমন সময় রাস্তা আটকিয়ে হামলা করেন দেলুয়ার গং। হামলার শিকার হওয়ার পর মোবাইল ফেলে দৌড়ে বাড়িতে ঢুকে যায় রায়হান আলী। সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেছিলো রায়হান। এমন ঘটনার পর উপরের চাপ আছে এমন কথা বলে থানায় দু’পক্ষের মামলা নেন পুলিশ। কিন্তু সেই মারপিটের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়, এমন আহত যুবককে দিয়ে থানায় মিথ্যা মামলা করেন অভিযুক্ত দেলুয়ার গংরা। আহত যুবক রেজাউল গত ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে কাজ করতে গিয়ে দূর্ঘটনায় শিকার হয়ে তার আঙ্গুল হারান।

গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরেও তা আমলে নেননি । পুলিশ কৌশলে বলেন, তদন্ত করে বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু পুলিশের মিথ্যা শান্তনায় কোন কাজ হয়নি। তদন্ত না করে রায়হানকে শায়েস্তা করতে হিতে বিপরীত ঘটনার জন্ম দিয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী রায়হান আলী জানান, আমার পারিবারিক মারপিটের ঘটনার সাথে আহত রেজাউলের কোন সম্পৃক্ততা নেই। রেজাউল ইসলাম চট্রগ্রামে কাজ করতে গিয়ে মামলা হওয়ার তিন মাস পূর্বে পায়ের দুটি আঙ্গুল হারায়। সেখানে একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়ে এলাকাতে চলে আসে রেজাউল। এরপর গোপালপুর বাজারে ডাক্তার মনিরুল ইসলামের কাছে নিয়মিত ড্রেসিং করান। কাজ করতে গিয়ে আহত রেজাউল ইসলামকে দিয়ে নাটকীয় ভাবে থানায় মামলা করানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে বারবার জানানো হলে আমলে নেয়নি তারা। টাকা নিয়ে ও এসআই ফজলুর ব্যক্তিগত আক্রোসে মিথ্যা মামলা জুড়ে দিয়েছে। আমার ভাতিজির বয়স ১৬ বছর তদন্ত না করে তাকে ২০ বছর দেখিয়েছে পুলিশ। বিএনপি নেতা দেলোয়ার গংদের খুশি করতে মিথ্যা মামলায় আমার মা ও ভাতিজিকে আটক করেন পুলিশ।

এমন আলোচিত ঘটনার রাজসাক্ষী হয়ে আছে এলাকার সাধারণ মানুষজনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সেই সময় অসহায় রেজাউলকে এলাকার সকল স্তরের মানুষজন চিকিৎসার জন্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা করেছেন। অথচ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই)ফজলু বিষয়টি জানার পরেও তদন্তে তা উল্লেখ করেননি। জন্ম দিয়েছেন আজব এক ঘটনা। শুধু তাই নয় ভুক্তভোগী পরিবারের ১৬ বছরের নাবালিকা মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার করে আলোচিত হয়েছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে উপজেলার পরানপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা জানি। রেজাউল চট্রগ্রামে কাজ করতে গিয়ে পায়ের দুটি আঙ্গুল হারিয়ে। তার চিকিৎসার জন্য এলাকাবাসী সহযোগীতা করেছেন। মারপিটের ঘটনায় তার আঙ্গুল কেটে পড়েনি। গভীর ভাবে তদন্ত করে বিষয়টি নথিতে উল্লেখ করা উচিত ছিল।

মান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুর রহমান বলেন, আমি এজাহার দেখে মেয়ের বয়স দিয়েছি। এছাড়া মেডিকেল থেকে তারা এমসি এনেছে। কোন তদন্ত ছাড়া শুধুমাত্র এজাহার দেখে বয়স নির্ধারণ করা যায় কিনা এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান। দূর্ঘটনায় আহত যুবক সম্পর্কেও তিনি কথা বলেননি।

এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর রহমান জানান, মামলার আয়ু যেহেতু ফজলু সেহেতু তিনি ঘটনা সব কিছু জানেন। তদন্ত না করে নাবালিকাকে তার ইচ্ছে মতন বয়স বাড়িয়ে সাবালিকা বানালে এর দায় তাকে নিতে হবে।