ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

রাজশাহীতে পুকুর ভরাট ও গাছ কাটার মহোৎসব: প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নের মুখে

 

মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী:

রাজশাহীতে চলছে পুকুর ভরাট আর গাছ কাটার মহোৎসব। রাতের অন্ধকারে পুকুর ভরাট, শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলা, একের পর এক উন্নয়নের নামে প্রকৃতির উপর আঘাত—সবকিছু চললেও প্রশাসন যেন নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এলাকার মানুষ অভিযোগ করছে, সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে, মানববন্ধন হচ্ছে, এমনকি ডিসি অফিস থেকে শুরু করে পরিবেশ অধিদপ্তরে একাধিকবার স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছুদিনের জন্য সামান্য ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরবর্তীতে আবারও একই কাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে।

খুলিপাড়া, আইটি বাগানপাড়া, নগরের বিভিন্ন এলাকায় পুকুর ভরাট বন্ধ করতে গেলে সামান্য অভিযান চালিয়ে আবার থেমে যায় প্রশাসন। পরিবেশ অধিদপ্তর কাগজে-কলমে মামলা বা জরিমানার কথা বললেও বাস্তবে কয়টা পুকুর উদ্ধার হয়েছে তা প্রশ্নের মুখে। গত পাঁচ বছরে মাত্র দুটি পুকুর পূর্ণ খনন করা হয়েছে, আর তিন থেকে পাঁচটি মামলার কথা শোনা গেলেও প্রকৃত ফলাফল মানুষ দেখেনি।

এদিকে ওয়াসা, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) ও সার্কিট হাউস এলাকায় তিনটি প্রকল্পে মোট ২,৩২৩টি গাছ কাটা হবে। যার মধ্যে অনেক গাছ কাটা শুরু হয়ে গেছে। এর মধ্যে বহু পুরোনো ও মূল্যবান গাছও রয়েছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এসব গাছ নগরীর জীববৈচিত্র্য ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। সম্প্রতি প্রাণ কোম্পানি রাজশাহীর এক প্রান্তে শত বছরের পুরোনো গাছ কেটে কারখানা নির্মাণ শুরু করেছে। নগরের বায়ুমান রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় এসব গাছ অপরিহার্য ছিল।

শুধু এ বছরই বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনে ১৫টিরও বেশি স্মারকলিপি দিয়েছে। একই সঙ্গে হয়েছে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, প্রতিবাদ কর্মসূচি। কিন্তু প্রশাসন কেবল আশ্বাস দিয়েই থেমে আছে।

ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) সংগঠনের সাধারণ- সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান আতিক বলেন, “রাজশাহীর মানুষের প্রাণের জায়গা এই পুকুরগুলো, আর পুরোনো গাছগুলো আমাদের পরিবেশের সুরক্ষা বর্ম। কিন্তু একের পর এক পুকুর ভরাট হচ্ছে, গাছ কাটা হচ্ছে। আমরা বারবার অভিযোগ করছি, স্মারকলিপি দিয়েছি, মানববন্ধন করেছি, সংবাদ প্রকাশ করেছি—কিন্তু প্রশাসন দ্রুত আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বাস্তবে সেটা সম্পূর্ণ হয়না। কয়েকদিন পর আবার একই জায়গায় নতুন করে কাজ শুরু হয়। ডিসি অফিস আর পরিবেশ অধিদপ্তর কেবল কথায় সীমাবদ্ধ, কাজে নয়। আমরা মনে করি প্রভাবশালীদের চাপে তারা নিরব থাকে। এখনই স্থায়ী সমাধান না হলে রাজশাহী আর বাসযোগ্য শহর হিসেবে টিকে থাকবে না।”

রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, “আমাদের কার্যক্রম চালাতে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া বড় পদক্ষেপ নেওয়া যায় না। জনবলও কম। তবু আমরা কয়েক জায়গায় অভিযান চালিয়েছি, জরিমানা করেছি, কাজ বন্ধ করেছি। কিন্তু ভরাটকারীরা আবারও শুরু করে দেয়। আমাদের আইন প্রয়োগ করার ক্ষমতা সীমিত, তাই অনেক সময় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেরি হয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে। কিন্তু এককভাবে আমাদের পক্ষে সবকিছু সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।”

অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ, স্মারকলিপি আর মানববন্ধনের পরও প্রশাসনের নীরবতা এখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন—এভাবে পুকুর ভরাট আর গাছ কাটতে থাকলে রাজশাহীর আবহাওয়া, জলবায়ু আর মানুষের জীবিকা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

রাজশাহীতে পুকুর ভরাট ও গাছ কাটার মহোৎসব: প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নের মুখে

আপডেট সময় ০২:১৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

 

মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী:

রাজশাহীতে চলছে পুকুর ভরাট আর গাছ কাটার মহোৎসব। রাতের অন্ধকারে পুকুর ভরাট, শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলা, একের পর এক উন্নয়নের নামে প্রকৃতির উপর আঘাত—সবকিছু চললেও প্রশাসন যেন নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এলাকার মানুষ অভিযোগ করছে, সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে, মানববন্ধন হচ্ছে, এমনকি ডিসি অফিস থেকে শুরু করে পরিবেশ অধিদপ্তরে একাধিকবার স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছুদিনের জন্য সামান্য ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরবর্তীতে আবারও একই কাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে।

খুলিপাড়া, আইটি বাগানপাড়া, নগরের বিভিন্ন এলাকায় পুকুর ভরাট বন্ধ করতে গেলে সামান্য অভিযান চালিয়ে আবার থেমে যায় প্রশাসন। পরিবেশ অধিদপ্তর কাগজে-কলমে মামলা বা জরিমানার কথা বললেও বাস্তবে কয়টা পুকুর উদ্ধার হয়েছে তা প্রশ্নের মুখে। গত পাঁচ বছরে মাত্র দুটি পুকুর পূর্ণ খনন করা হয়েছে, আর তিন থেকে পাঁচটি মামলার কথা শোনা গেলেও প্রকৃত ফলাফল মানুষ দেখেনি।

এদিকে ওয়াসা, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) ও সার্কিট হাউস এলাকায় তিনটি প্রকল্পে মোট ২,৩২৩টি গাছ কাটা হবে। যার মধ্যে অনেক গাছ কাটা শুরু হয়ে গেছে। এর মধ্যে বহু পুরোনো ও মূল্যবান গাছও রয়েছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এসব গাছ নগরীর জীববৈচিত্র্য ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। সম্প্রতি প্রাণ কোম্পানি রাজশাহীর এক প্রান্তে শত বছরের পুরোনো গাছ কেটে কারখানা নির্মাণ শুরু করেছে। নগরের বায়ুমান রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় এসব গাছ অপরিহার্য ছিল।

শুধু এ বছরই বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনে ১৫টিরও বেশি স্মারকলিপি দিয়েছে। একই সঙ্গে হয়েছে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, প্রতিবাদ কর্মসূচি। কিন্তু প্রশাসন কেবল আশ্বাস দিয়েই থেমে আছে।

ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) সংগঠনের সাধারণ- সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান আতিক বলেন, “রাজশাহীর মানুষের প্রাণের জায়গা এই পুকুরগুলো, আর পুরোনো গাছগুলো আমাদের পরিবেশের সুরক্ষা বর্ম। কিন্তু একের পর এক পুকুর ভরাট হচ্ছে, গাছ কাটা হচ্ছে। আমরা বারবার অভিযোগ করছি, স্মারকলিপি দিয়েছি, মানববন্ধন করেছি, সংবাদ প্রকাশ করেছি—কিন্তু প্রশাসন দ্রুত আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বাস্তবে সেটা সম্পূর্ণ হয়না। কয়েকদিন পর আবার একই জায়গায় নতুন করে কাজ শুরু হয়। ডিসি অফিস আর পরিবেশ অধিদপ্তর কেবল কথায় সীমাবদ্ধ, কাজে নয়। আমরা মনে করি প্রভাবশালীদের চাপে তারা নিরব থাকে। এখনই স্থায়ী সমাধান না হলে রাজশাহী আর বাসযোগ্য শহর হিসেবে টিকে থাকবে না।”

রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, “আমাদের কার্যক্রম চালাতে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া বড় পদক্ষেপ নেওয়া যায় না। জনবলও কম। তবু আমরা কয়েক জায়গায় অভিযান চালিয়েছি, জরিমানা করেছি, কাজ বন্ধ করেছি। কিন্তু ভরাটকারীরা আবারও শুরু করে দেয়। আমাদের আইন প্রয়োগ করার ক্ষমতা সীমিত, তাই অনেক সময় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেরি হয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে। কিন্তু এককভাবে আমাদের পক্ষে সবকিছু সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।”

অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ, স্মারকলিপি আর মানববন্ধনের পরও প্রশাসনের নীরবতা এখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন—এভাবে পুকুর ভরাট আর গাছ কাটতে থাকলে রাজশাহীর আবহাওয়া, জলবায়ু আর মানুষের জীবিকা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।