ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর রাজশাহী বিএনপিতে নতুন নেতৃত্ব

 

মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন,রাজশাহী:

প্রায় চার বছর পর রাজশাহী মহানগর বিএনপিতে অবশেষে ঘোষণা হয়েছে আংশিক কমিটি। ২০২১ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক ছিলেন এডভোকেট এরশাদ আলী ঈসা, সদস্য সচিব ছিলেন মামুনুর রশিদ মামুন। দীর্ঘ রাজনৈতিক স্থবিরতা, নেতৃত্ব সংকট ও বিভাজনের পর অবশেষে নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিএনপির রাজনীতিতে আবারও নড়াচড়া শুরু হয়েছে।

বিগত চার বছরে গুটি কয়েক নেতা ত্যাগ ও সংগ্রামের রাজনীতি করেছেন। কিন্তু গত ৫ আগস্টে হাসিনা সরকারের নৌকা ডুবির পর বিএনপিতে অসংখ্য নতুন মুখ যোগ দেন—যাদের মধ্যে অনেকে নিজেদের ‘ত্যাগী নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিলেও আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতে তাদের দেখা যায়নি বলে অভিযোগ পুরোনো কর্মীদের। এই নবাগত নেতাদের অনেকে ‘হাইব্রিড নেতা’ হিসেবে পরিচিতি পান।

অভিযোগ রয়েছে, এদের কেউ কেউ দখলবাজি, চাঁদাবাজি, পদবাণিজ্য ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দোসরকে আশ্রয় দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে রাজশাহী মহানগর বিএনপি ৩–৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একে অপরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, এমনকি কেন্দ্রে অভিযোগ পাঠানোর ঘটনাও ঘটে।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় বিএনপি সিদ্ধান্ত নেয়—রাজশাহীকে আবার ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। একসময় যেভাবে জনাব মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন, সেই ঐক্য ফিরিয়ে আনাই এখন লক্ষ্য।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন,রাজশাহী একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি ছিল। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানকার নেতাকর্মীদের ঐক্য ফিরিয়ে আনতে আমরা নতুন কমিটি দিয়েছি। এই কমিটি রাজশাহীতে আবারও বিএনপির শক্ত অবস্থান ফিরিয়ে আনবে।

দলনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলেন,দীর্ঘদিন পর ত্যাগী নেতাদের নিয়ে সুন্দর একটি কমিটি ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্র। এখন এই কমিটির সকলের দায়িত্ব হবে নিঃস্বার্থভাবে দলের জন্য কাজ করা এবং আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়া।

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন,কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে আমরা আনন্দিত। মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্বের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তারা বিভাজন দূর করে রাজশাহীতে বিএনপিকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করবে।

সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, আমাদের সামনে তিনটি চ্যালেঞ্জ— দলীয় ঐক্য ফিরিয়ে আনা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করা এবং রাজশাহীর আন্দোলনমুখী রাজনীতি আবার সক্রিয় করা। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা মাঠে নামব।

সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন,“দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও বিভাজন আমাদের রাজনীতিকে পিছিয়ে দিয়েছিল। আমরা চাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে। এখন আর কাউকে বাদ নয়, সবাই রাজশাহীর বিএনপির ঘরে ফিরবে।

তিনি আরো বলেন,দলের সবার ভেদাভেদ কাটিয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা দাবিকে বাস্তবায়নে রাজশাহী মহানগরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। সামনে নির্বাচনে আমরা এই ৩১ দফাকে সামনে রেখে জনগণের ভোটাধিকার ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিতে চাই। বর্তমানে দেশের পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা খুবই জরুরি, আর সেটা নিশ্চিত করতে পারবে কেবল বিএনপি।

রাজশাহীর স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আংশিক কমিটি যদি বিভাজনের রাজনীতি পেরিয়ে তৃণমূলকে একত্র করতে পারে, তবে রাজশাহী আবারও বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর রাজশাহী বিএনপিতে নতুন নেতৃত্ব

আপডেট সময় ০৭:৫৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

 

মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন,রাজশাহী:

প্রায় চার বছর পর রাজশাহী মহানগর বিএনপিতে অবশেষে ঘোষণা হয়েছে আংশিক কমিটি। ২০২১ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক ছিলেন এডভোকেট এরশাদ আলী ঈসা, সদস্য সচিব ছিলেন মামুনুর রশিদ মামুন। দীর্ঘ রাজনৈতিক স্থবিরতা, নেতৃত্ব সংকট ও বিভাজনের পর অবশেষে নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিএনপির রাজনীতিতে আবারও নড়াচড়া শুরু হয়েছে।

বিগত চার বছরে গুটি কয়েক নেতা ত্যাগ ও সংগ্রামের রাজনীতি করেছেন। কিন্তু গত ৫ আগস্টে হাসিনা সরকারের নৌকা ডুবির পর বিএনপিতে অসংখ্য নতুন মুখ যোগ দেন—যাদের মধ্যে অনেকে নিজেদের ‘ত্যাগী নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিলেও আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতে তাদের দেখা যায়নি বলে অভিযোগ পুরোনো কর্মীদের। এই নবাগত নেতাদের অনেকে ‘হাইব্রিড নেতা’ হিসেবে পরিচিতি পান।

অভিযোগ রয়েছে, এদের কেউ কেউ দখলবাজি, চাঁদাবাজি, পদবাণিজ্য ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দোসরকে আশ্রয় দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে রাজশাহী মহানগর বিএনপি ৩–৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একে অপরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, এমনকি কেন্দ্রে অভিযোগ পাঠানোর ঘটনাও ঘটে।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় বিএনপি সিদ্ধান্ত নেয়—রাজশাহীকে আবার ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। একসময় যেভাবে জনাব মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন, সেই ঐক্য ফিরিয়ে আনাই এখন লক্ষ্য।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন,রাজশাহী একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি ছিল। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানকার নেতাকর্মীদের ঐক্য ফিরিয়ে আনতে আমরা নতুন কমিটি দিয়েছি। এই কমিটি রাজশাহীতে আবারও বিএনপির শক্ত অবস্থান ফিরিয়ে আনবে।

দলনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলেন,দীর্ঘদিন পর ত্যাগী নেতাদের নিয়ে সুন্দর একটি কমিটি ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্র। এখন এই কমিটির সকলের দায়িত্ব হবে নিঃস্বার্থভাবে দলের জন্য কাজ করা এবং আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়া।

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন,কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে আমরা আনন্দিত। মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্বের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তারা বিভাজন দূর করে রাজশাহীতে বিএনপিকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করবে।

সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, আমাদের সামনে তিনটি চ্যালেঞ্জ— দলীয় ঐক্য ফিরিয়ে আনা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করা এবং রাজশাহীর আন্দোলনমুখী রাজনীতি আবার সক্রিয় করা। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা মাঠে নামব।

সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন,“দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও বিভাজন আমাদের রাজনীতিকে পিছিয়ে দিয়েছিল। আমরা চাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে। এখন আর কাউকে বাদ নয়, সবাই রাজশাহীর বিএনপির ঘরে ফিরবে।

তিনি আরো বলেন,দলের সবার ভেদাভেদ কাটিয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা দাবিকে বাস্তবায়নে রাজশাহী মহানগরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। সামনে নির্বাচনে আমরা এই ৩১ দফাকে সামনে রেখে জনগণের ভোটাধিকার ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিতে চাই। বর্তমানে দেশের পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা খুবই জরুরি, আর সেটা নিশ্চিত করতে পারবে কেবল বিএনপি।

রাজশাহীর স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আংশিক কমিটি যদি বিভাজনের রাজনীতি পেরিয়ে তৃণমূলকে একত্র করতে পারে, তবে রাজশাহী আবারও বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।