ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন নবীনগরে হাসান শাহ’র তিন দিনব্যাপী ওরস পালিত রাজশাহীতে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের স্মরণে রহনপুরে বিএনপির ইফতার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি রমজানে সবজির বাজারে আগুন: ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ভোলাহাটে,বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল (মিস্তি)র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। মহান একুশে বাঘায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রানীনগর থানায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের যোগদান নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদার পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস
নোটিশ :
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ইমেইল : ainsomaj24@gmail.com, মোবাইল ০১৭০৭-৫৬৯৫৯২, ০১৩০০-৩৪৪২৪৫

নওগাঁর মান্দায় চকউলী বহুমুখী হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাৎ: তদন্ত শুরু

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:১৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৫০ বার পড়া হয়েছে

আঃমজিদ,বিশেষ প্রতিনিধি নওগাঁঃ

নওগাঁর মান্দায় অবস্থিত চকউলী বহুমুখী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের ফি, শিক্ষক-কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ তহবিল এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বিপুল অঙ্কের অর্থ তছরূপের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাঁকে বরখাস্ত করে এবং উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম অন্তত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি ও অন্যান্য অনিয়মের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

যেভাবে ঘটলো অর্থ কেলেঙ্কারি:
কলেজের প্রাক্তন গভর্নিং বডির সদস্য জব্বার, করিমসহ একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে কলেজের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিলেন।

মূলত তিনটি প্রধান উপায়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে: ভুয়া বিল-ভাউচার: কলেজের বিভিন্ন কেনাকাটা ও সংস্কার কাজের জন্য মোটা অঙ্কের ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি তহবিল থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ তছরূপ: কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ কোনো কাজ না করেই আত্মসাৎ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ফি আত্মসাৎ: বিভিন্ন পরীক্ষার ফি এবং ভর্তি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ, কলেজের মূল অ্যাকাউন্টে পূর্ণাঙ্গভাবে জমা না দিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অধ্যক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন খাতে এভাবেই প্রতিষ্ঠানের মোট ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অধ্যক্ষ।

মন্ত্রণালয়ের কঠোর হুঁশিয়ারি: ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা বর্তমানে কলেজে পৌঁছে আর্থিক নথিপত্র, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী ও ভাউচার পরীক্ষা করে দেখছেন।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মজিবর রহমান বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন আর্থিক দুর্নীতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শুধু অর্থ আত্মসাতের দায়ে ফৌজদারি মামলাই হবে না, বিধি মোতাবেক স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।”

তদন্তের স্বার্থে কলেজের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলেও মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অধ্যক্ষের দাবি ‘ষড়যন্ত্র’: এ বিষয়ে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছিলেন, একটি ‘কুচক্রী মহল’ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি:
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের এই অভিযোগে মান্দা উপজেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চকউলী এলাকার অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সমাজসেবক আলাউদ্দিন মণ্ডল মন্তব্য করেন, “শিক্ষকের মতো সম্মানিত পদে থেকে এমন দুর্নীতি চরম নিন্দনীয়। সরকার কঠোর পদক্ষেপ না নিলে অন্য প্রতিষ্ঠানেও এমন অনিয়ম বাড়বে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খন্দকার মো. আলমগীর হোসেনের আজ জন্মদিন

নওগাঁর মান্দায় চকউলী বহুমুখী হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাৎ: তদন্ত শুরু

আপডেট সময় ১০:১৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

আঃমজিদ,বিশেষ প্রতিনিধি নওগাঁঃ

নওগাঁর মান্দায় অবস্থিত চকউলী বহুমুখী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের ফি, শিক্ষক-কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ তহবিল এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বিপুল অঙ্কের অর্থ তছরূপের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাঁকে বরখাস্ত করে এবং উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম অন্তত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি ও অন্যান্য অনিয়মের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

যেভাবে ঘটলো অর্থ কেলেঙ্কারি:
কলেজের প্রাক্তন গভর্নিং বডির সদস্য জব্বার, করিমসহ একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে কলেজের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিলেন।

মূলত তিনটি প্রধান উপায়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে: ভুয়া বিল-ভাউচার: কলেজের বিভিন্ন কেনাকাটা ও সংস্কার কাজের জন্য মোটা অঙ্কের ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি তহবিল থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ তছরূপ: কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ কোনো কাজ না করেই আত্মসাৎ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ফি আত্মসাৎ: বিভিন্ন পরীক্ষার ফি এবং ভর্তি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ, কলেজের মূল অ্যাকাউন্টে পূর্ণাঙ্গভাবে জমা না দিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অধ্যক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন খাতে এভাবেই প্রতিষ্ঠানের মোট ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অধ্যক্ষ।

মন্ত্রণালয়ের কঠোর হুঁশিয়ারি: ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা বর্তমানে কলেজে পৌঁছে আর্থিক নথিপত্র, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী ও ভাউচার পরীক্ষা করে দেখছেন।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মজিবর রহমান বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন আর্থিক দুর্নীতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শুধু অর্থ আত্মসাতের দায়ে ফৌজদারি মামলাই হবে না, বিধি মোতাবেক স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।”

তদন্তের স্বার্থে কলেজের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলেও মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অধ্যক্ষের দাবি ‘ষড়যন্ত্র’: এ বিষয়ে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছিলেন, একটি ‘কুচক্রী মহল’ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি:
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের এই অভিযোগে মান্দা উপজেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চকউলী এলাকার অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সমাজসেবক আলাউদ্দিন মণ্ডল মন্তব্য করেন, “শিক্ষকের মতো সম্মানিত পদে থেকে এমন দুর্নীতি চরম নিন্দনীয়। সরকার কঠোর পদক্ষেপ না নিলে অন্য প্রতিষ্ঠানেও এমন অনিয়ম বাড়বে।